মুহাম্মদ ইবন ওহাব (রহঃ) ... যুফার ইবন আওস ইবন হাদাছান নসরী বলেন, আবু সানাবিল ইবন বা‘কাক ইবন সাববাক সুবাইয়া আসলামী (রাঃ)-কে বললোঃ চার মাস দশদিন, যা দুই ইদ্দতের মধ্যে দীর্ঘতর, তা শেষ হওয়ার পূর্বে তোমার বিবাহ করা ঠিক হবে না। একথা শুনে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। সুবাইয়া (রাঃ)-এর কথা দ্বারা বুঝা গেল রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই সমাধান দিলেন যে, তোমার সন্তান প্রসব হলে, তুমি বিয়ে করে নিবে। তাঁর স্বামীর মৃত্যুর সময় তিনি নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তিনি সা'দ ইবন খাওলার বিবাহাধীন ছিলেন। তিনি বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে ছিলেন এবং এ সময় তিনি মারা যান। পরে তার সন্তান প্রসব হওয়ার পর সেই গোত্রের এক যুবকের সাথে তার বিয়ে হয়।
হাদিস 3520 — Sunan an Nasai 27:132
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُتْبَةَ، كَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ الزُّهْرِيِّ أَنِ ادْخُلْ، عَلَى سُبَيْعَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ الأَسْلَمِيَّةِ فَاسْأَلْهَا عَمَّا أَفْتَاهَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَمْلِهَا . قَالَ فَدَخَلَ عَلَيْهَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فَسَأَلَهَا فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ سَعْدِ ابْنِ خَوْلَةَ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا - فَتُوُفِّيَ عَنْهَا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَوَلَدَتْ قَبْلَ أَنْ تَمْضِيَ لَهَا أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا مِنْ وَفَاةِ زَوْجِهَا فَلَمَّا تَعَلَّتْ مِنْ نِفَاسِهَا دَخَلَ عَلَيْهَا أَبُو السَّنَابِلِ - رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ - فَرَآهَا مُتَجَمِّلَةً فَقَالَ لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ النِّكَاحَ قَبْلَ أَنْ تَمُرَّ عَلَيْكِ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا . قَالَتْ فَلَمَّا سَمِعْتُ ذَلِكَ مِنْ أَبِي السَّنَابِلِ جِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثْتُهُ حَدِيثِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ حَلَلْتِ حِينَ وَضَعْتِ حَمْلَكِ " .
কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ্ ইবন উতবা উমর ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আরকাম যুহরীকে সুবাইয়া (রাঃ)-এর নিকট যাওয়ার জন্য পত্ৰ লিখলেন যে, আপনি গিয়ে সুবাইয়া আসলামী বিনত হারিস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করবেন, তার গর্ভ সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কী সমাধান দিয়েছিলেন। রাবী বলেন, উমর ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তার নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন ; আমি সা’দ ইবন খাওলার স্ত্রী ছিলাম, সা’দ ইবন খাওলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন, তিনি বদরীও ছিলেন। তিনি বিদায় হজ্জে ইনতিকাল করেন। স্বামীর মৃত্যুর পরে আমি সন্তান প্রসব করলাম, চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই। রাবী বলেনঃ তার নিফাস হতে পাক হওয়ার পর বনী আবদুদ্দারের আবু সানাবিল নাম এক ব্যক্তি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখলেন যে, তিনি সাজসজ্জা করছেন। সে বললোঃ মনে হয় তুমি বিবাহের ইচ্ছা রাখ, চার মাস দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই। সুবাইয়া (রাঃ) বলেন, আমি আবু সানাবিলের নিকট এ কথা শোনার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট আমার অবস্থা ব্যক্ত করিলাম। তিনি বললেনঃ তুমি সন্তান প্রসব করার সাথে সাথেই তোমার ইদ্দত পূর্ণ করেছ।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, আমি কুফায় আনসারীদের এক বড় মজলিসে বসা ছিলাম, সেখানে আবদুর রহমান ইবন আবু লায়লাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সুবাইয়া (রাঃ)-এর ব্যাপারে আলোচিত হলো। আমি আবদুল্লাহ ইবন উতবা ইবন মাসউদের বর্ণনার উল্লেখ করলাম, যা ইবন আওনের কথার অনুরূপ ছিল, অর্থাৎ বাচ্চা প্রসব হওয়া পর্যন্ত তার ইদ্দত ছিল। ইবন আবু লায়লা বললেনঃ আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর এ কথার সমর্থক ছিলেন না যে, গৰ্ভধারিণীর ইদ্দত প্রসব পর্যন্ত, বরং তিনি দুই ইদ্দতের মধ্যে যেটি অধিক তাকেই ইদ্দত মনে করতেন। তখন আমি আমার আওয়ায উচু করে বললামঃ আমি কি এরূপ দুঃসাহস করতে পারি যে, আবদুল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করবো? অথচ তিনি কুফায় থাকেন। এরপর মালিকের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আমি তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করলামঃ আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ) সুবাইয়া (রাঃ)-এর ব্যাপারে কি বলতেন? তিনি বললেনঃ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলতেনঃ তোমরা তার উপর কঠোর বিধান আরোপ করছো? আর তোমরা তাকে অনুমতি দিতেছ না? অথচ ছােট সূরায় নিসা, যা হলো সূরা তালাক, তা বড় সূরা অর্থাৎ সূরা বাকারার পর নাযিল হয়।
মুহাম্মদ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আলকামা ইবন কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেন, যদি কেউ ইচ্ছা করে, আমি তার সাথে এ ব্যাপারে মুবাহালা করতে পারি যে, (وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ) অর্থঃ আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত- এ আয়াতটি যে স্ত্রীর স্বামী মারা গেছে তার ইদ্দত সম্পর্কে। এ আয়াতঃ তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীগণ চারমাস দশদিন অপেক্ষায় থাকবে - এরপর নাযিল হয়। যে গৰ্ভবতী স্ত্রীর স্বামী মারা যায়, তার সন্তান ভূমিষ্ট হলে তার ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে।
মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা তার কাছে কেউ জিজ্ঞাসা করলো যে, এক ব্যক্তি এক স্ত্রীলোককে বিবাহ করলো, আর বিবাহের সময় তার জন্য কোন মাহর নির্ধারণ করলো না, এবং তার সাথে সহবাস করার পূর্বেই সে মারা গেল। ইবন মাসউদ (রাঃ) বললেনঃ ঐ মহিলা তার বংশের অন্যান্য মহিলার ন্যায় মহর পাবে, কমও নয় এবং বেশীও নয়। আর তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে স্বামীর মীরাছের অংশ পাবে। এ কথা শুনে মাকাল ইবন সিনান আশজায়ী (রঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্প্রদায়ের এক মহিলার ফয়সালা এরূপই করেছিলেন, যার নাম ছিল বিরওয়া বিনুত ওয়াশিক, যেরূপ আপনি বললেন। একথা শুনে ইবন মাসউদ (রাঃ) সন্তুষ্ট হলেন।
হাদিস 3525 — Sunan an Nasai 27:137
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تَحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ أَكْثَرَ مِنْ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجِهَا " .
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিজের স্বামী ব্যতীত কোন মহিলার জন্য তিন দিনের অধিক কোন মৃত ব্যক্তির জন্য শোক করা বৈধ নয়।
মুহাম্মদ ইবন মা’মার (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, তার জন্য তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ হবে না- নিজের স্বামী ব্যতীত।
ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই মিম্বরে বলতে শুনেছিঃ যে মহিলা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য কোন মৃত্যুর উদ্দেশে তিন দিনের অধিক শোক করা বৈধ নয়। কিন্তু সে তার স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।
মুহাম্মদ ইবন 'আলা (রহঃ) ... ফারি'আ বিনত মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার স্বামী স্বীয় গোলামের তালাশে বের হলে, তারা তাকে হত্যা করলো। শু'বা এবং ইবন জুরাইজ (রহঃ) বলেনঃ সেই মহিলার ঘর ছিল জনবসতি হতে দূরে। পরে সেই মহিলা তার ভাইকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থা বর্ণনা করলেন, তিনি তাকে অন্য ঘরে বাস করার অনুমতি দিলেন। যখন সে প্রত্যাবর্তন করছিল, তিনি তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি নিজের ঘরেই থাকে, যতক্ষণ না ইদ্দত পূর্ণ হয়।