আবদুল্লাহ ইবন আব্দুস সামাদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার নিকট এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমি আমার স্ত্রীকে আমার উপর হারাম করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো। সে তোমার উপর হারাম নয়। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ عَلَيْكَ) তোমার উপর দাসমুক্ত করার ন্যায় কঠিন কাফফার ওয়াজিব হয়েছে।
হাদিস 3421 — Sunan an Nasai 27:33
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمْكُثُ عِنْدَ زَيْنَبَ وَيَشْرَبُ عِنْدَهَا عَسَلاً فَتَوَاصَيْتُ وَحَفْصَةَ أَيَّتُنَا مَا دَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلْتَقُلْ إِنِّي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ مَغَافِيرَ فَدَخَلَ عَلَى إِحْدَاهُمَا فَقَالَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً عِنْدَ زَيْنَبَ - وَقَالَ - لَنْ أَعُودَ لَهُ " . فَنَزَلَ { يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ } { إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ } لِعَائِشَةَ وَحَفْصَةَ { وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا } لِقَوْلِهِ " بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاَ " . كُلُّهُ فِي حَدِيثِ عَطَاءٍ .
কুতায়বা (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উবায়দ ইবন উমোয়র (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়নাব (রাঃ) এর নিকট অবস্থান করতেন এবং তাঁর নিকট মধু পান করতেন। আমি এবং হাফসা (রাঃ) পরামর্শ করলাম, আমাদের মধ্যে যার নিকটই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন, সে যেন বলেঃ আমি আপনার থেকে মাগাফির-এর গন্ধ পাচ্ছি। এরপর তিনি তাদের একজনের নিকট আগমন করলে, তিনি তাকে তা বললেন। তখন তিনি বললেনঃ বরং আমি তো যায়নবের নিকট মধু পান করেছি। তিনি আরও বললেনঃ আমি আর পুনরায় তা পান করবো না। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ) আর আয়েশা এবং হাফসা (রাঃ) সম্বন্ধে নাযিল হয়ঃ (إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ) আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তিঃ বরং আমি মধু পান করেছি। এর জন্য (وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا) আয়াত নাযিল হয়। এর সমস্তই আতা (রহঃ)-এর হাদীসে রয়েছে।
হাদিস 3422 — Sunan an Nasai 27:34
সহিহসহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَكِّيِّ بْنِ عِيسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ، يُحَدِّثُ حَدِيثَهُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَقَالَ فِيهِ إِذَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِينِي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ح وَأَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ يُحَدِّثُ حَدِيثَهُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَسَاقَ قِصَّتَهُ وَقَالَ إِذَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ أَنْ تَعْتَزِلَ امْرَأَتَكَ . فَقُلْتُ أُطَلِّقُهَا أَمْ مَاذَا قَالَ لاَ بَلِ اعْتَزِلْهَا فَلاَ تَقْرَبْهَا . فَقُلْتُ لاِمْرَأَتِي الْحَقِي بِأَهْلِكِ فَكُونِي عِنْدَهُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي هَذَا الأَمْرِ .
মুহাম্মদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন কা'ব ইবন মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমি কা'ব ইবন মালিককে তার কথা বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি যখন তাবুক যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অংশ গ্ৰহণ করা থেকে বিরত রইলেন। তাতে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূত এসে আমাকে বললোঃ রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি যেন আপনার স্ত্রী থেকে দূরে থাকেন। তখন আমি বললামঃ আমি তাকে তালাক দেব, না কি করবো। তিনি বললেনঃ না, বরং তার থেকে দূরে থাকুন, তার কাছে যাবেন না। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বললামঃ তুমি তোমার পরিবারের নিকট যাও, তাদের নিকট থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ হতে এ ব্যাপারে কোন ফয়সালা আল্লাহ তা'আলা করে দেন।
মুহাম্মদ ইবন জাবালা এবং মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন কা'ব ইবন মালিক তাঁর পিতা হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা'ব ইবন মালিককে বলতে শুনেছিঃ তিনি ঐ তিন ব্যক্তির একজন, যার গুনাহ ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এবং আমার অন্য দুই সাথীর নিকট সংবাদ পাঠান যে, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক। তখন আমি ঐ দূতকে জিজ্ঞাসা করলামঃ আমি কি আমার স্ত্রীকে তালাক দেব, না কি করবো? তিনি বললেনঃ না, বরং তার থেকে দূরে থাকুন, তার কাছে যাবেন না। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বললামঃ তুমি তোমার পরিবারের লোকদের নিকট যাও এবং তাদের সাথে থাক। তখন সে তাদের নিকট চলে যায়।
হাদিস 3424 — Sunan an Nasai 27:36
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ كَعْبًا، يُحَدِّثُ حَدِيثَهُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَقَالَ فِيهِ إِذَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِينِي وَيَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ أَنْ تَعْتَزِلَ امْرَأَتَكَ . فَقُلْتُ أُطَلِّقُهَا أَمْ مَاذَا أَفْعَلُ قَالَ بَلِ اعْتَزِلْهَا وَلاَ تَقْرَبْهَا . وَأَرْسَلَ إِلَى صَاحِبَىَّ بِمِثْلِ ذَلِكَ فَقُلْتُ لاِمْرَأَتِي الْحَقِي بِأَهْلِكِ وَكُونِي عِنْدَهُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي هَذَا الأَمْرِ . خَالَفَهُمْ مَعْقِلُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ .
ইউসূফ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন কা'ব ইবন মালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন কা'ব বলেছেনঃ আমি ক’ব (রাঃ)-কে তার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি, যখন তিনি তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যোগদান করা থেকে বিরত থাকেন, এতে তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূত আমার নিকট এসে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে আপনার স্ত্রী হতে দূরে থাকতে আদেশ করেছেন। তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ আমি কি তাকে (স্ত্রীকে) তালাক দেব, না কি করবো? তিনি বলেন, না, বরং আপনি তার থেকে দূরে থাকুন, তার কাছে যাবেন না। আমার দুই সাথীর নিকটও এই সংবাদ পাঠানো হয়। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বলিঃ তুমি তোমার পরিবারে গিয়ে তাদের সাথে থাক। যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলা এ ব্যাপারে কোন ফয়সালা করে দেন।
মুহাম্মাদ ইবন মা'দান ইবন ঈসা (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন কা'ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা'বকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এবং আমার দুই সাথীর নিকট এই বলে দূত পাঠালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাদেরকে আপনাদের বিবিগণ হতে দূরে থাকতে আদেশ করেছেন। তখন আমি দূতকে বললাম, আমার স্ত্রীকে তালাক দেব, না কি করবো? তিনি বললেনঃ না, বরং তার থেকে দূরে থাকুন। তার কাছে যাবেন না। তখন আমার স্ত্রীকে বললামঃ তুমি তোমার পরিবারস্থ লোকদের নিকট গিয়ে তাদের সাথে থাক। যতদিন আল্লাহ তা'আলা এ ব্যাপারে কোন ফয়সালা করে দেন। তখন সে তাদের নিকট চলে গেল।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন কা'ব ইবন মালিক তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূত আমার নিকট এসে আমাকে বললেন, আপনি আপনার স্ত্রী হতে দূরে থাকুন। তখন আমি বললাম, আমি কি তাকে তালাক দেব? তিনি বললেন, না, কিন্তু তার কাছে যাবেন না। এতে তিনি “তুমি তোমার পরিবারের সাথে গিয়ে থাক” উল্লেখ করেন নি।
আমার আলী (রহঃ) ... উমর ইবন মুআত্তিব (রহঃ) বলেন, বনী মওফলের গোলাম আবু হাসান তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেনঃ আমি এবং আমার স্ত্রী উভয়ে ছিলাম ক্রীতদাস, এমতাবস্থায় আমি তাকে দুই তালাক দিলাম। এরপর আমরা উভয়ে মুক্ত হলাম। আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, যদি তুমি তাকে ফিরিয়ে নাও, তবে সে তোমার নিকট এক তালাকের উপর থাকবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ফয়সালা করেছেন।
মুহাম্মদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... মুআত্তিব (রহঃ) বনী নওফলের ক্রীতদাস আবু হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে ক্রীতদাস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো যে, সে তার স্ত্রীকে দুই তালাক দিয়েছে। এরপর তাদের উভয়কে মুক্ত করা হয়েছে। সে কি তাকে আবার বিবাহ করতে পারবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। বলা হলো কিরূপে? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ফয়সালা দিয়াছেন। আবদুর রাযযাক (রহঃ) বলেন, ইবন মুবারক মা’মার (রহঃ)-কে বলেনঃ এই আবু হাসান কে? সে তো নিজের উপর বড় পাথর তুলে নিল, অর্থাৎ এ বর্ণনা যদি সঠিক না হয়, তাহলে অসংখ্য অবৈধ বিবাহের পাপের বোঝা তার উপর বর্তবে।