কুতায়বা (রহঃ) ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযান মাসে রাত্রি জাগরণ করবে, তার পূর্ববর্তী সকল পাপ ক্ষমা করা হবে।
মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি রমযান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রাত্রি জাগরণ করবে, তার পূর্ববর্তী সকল পাপ ক্ষমা করা হবে।
আবুল আশআস (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় রাত্রি জাগরণ করবে, তার পূর্বকৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি কদরের রাত্রে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় জাগরণ করবে, তার পূর্ববর্তী সকল পাপ ক্ষমা করা হবে।
মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... আবু সুহায়ল তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি তালহা ইবন উবায়দুল্লাহকে বলতে শুনেছেনঃ এলোমেলো চুলবিশিষ্ট নজদবাসী এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলো। গুণগুণ শব্দ ব্যতীত তার কথার কিছুই শুনা যাচ্ছিল না, বুঝাও যাচ্ছিল না। সে নিকটে আসলে বুঝা গেল যে, সে ইসলাম সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ দিবারাত্রির মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায। সে জিজ্ঞাসা করলো, এটা ছাড়া আমার আরও কিছু করণীয় আছে? তিনি বললেনঃ না, কিন্তু ইচ্ছা করলে নফল পড়তে পার। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আর রমযান মাসের রোযা। সে বললোঃ এটা ছাড়াও কি আমার কিছু করণীয় আছে? তিনি বললেনঃ না, তবে চাইলে নফল রোযা রাখতে পার। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যাকাতের কথা বললেন, সে বললোঃ এটা ছাড়াও কি আমার কিছু করণীয় আছে ? তিনি বললেনঃ না, তবে তুমি নফল সাদকা করতে পার। তারপর ঐ ব্যক্তি এই বলতে বলতে চলে গেল যে, আমি এতে কিছু বাড়াবও না এবং এর থেকে কিছু কমাবও না, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি এই ব্যক্তি সত্য বলে থাকে, তবে সে কৃতকার্য হয়ে গেল।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, আল্লাহ্ এই বলে তার যামিন হয়ে যান যে, তাকে আমার উপর ঈমান এবং আমার রাস্তায় জিহাদ করা ব্যতীত আর কিছুই বের করেনি। সুতরাং আমি তাকে জান্নাতে দাখিল করব, তা দুয়ের যেভাবেই হোক। সে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হোক অথবা স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করুক, অথবা তাকে ঐ ঘরে প্রত্যাবর্তন করান, যে ঘর হতে সে বের হয়েছিল; সওয়াব এবং যুদ্ধলব্ধ মালসহ।
মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা ঐ ব্যক্তির যামিন হয়ে যান, যে ব্যক্তি তাঁর রাস্তায় বের হয়। আল্লাহ্ বলেন, তাকে আমার রাস্তায় জিহাদ, আমার উপর ঈমান এবং আমার রাসূলগণের উপর বিশ্বাস ছাড়া অন্যকিছু বের করেনি। আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব অথবা তাকে ঐ ঘরে প্রত্যাবর্তন করাব, যে ঘর হতে সে বের হয়েছিল, সে যে সওয়াব ও গনীমতপ্রাপ্ত হয়, তা সহ।
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল কায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, আমরা রবীআ গোত্রের লোক। আর আমরা ‘নিষিদ্ধ মাস’ ব্যতীত আপনার নিকট উপস্থিত হতে পারি না। অতএব আমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যা আমরা আপনার নিকট হতে শিখে যেতে পারি এবং আমাদের অন্যান্য লোককে এর প্রতি আহবান করতে পারি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে চারটি বস্তুর প্রতি আদেশ করছি এবং চারটি বস্তু হতে নিষেধ করছি। যে চার বস্তুর আদেশ করছি, তা হলো, আল্লাহর প্রতি ঈমান। এরপর তিনি তাদের জন্য এর ব্যাখ্যা দিলেন যে, “আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আমি মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল” এই সাক্ষ্য দেওয়া, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, তোমরা যে গনীমতের মাল পাও, তার পঞ্চমাংশ আমার নিকট আদায় করা। আর আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি দুবা, (কদুর খােল দ্বারা প্রস্তুত পাত্র), হানতাম (মাটির সবুজ পাত্রবিশেষ), নাকীর (কাঠের পাত্রবিশেষ) এবং মুযাফফাত (তৈলাক্ত পাত্রবিশেষ) হতে।
আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ ইবন সাল্লাম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের নিয়্যতে কোন মুসলিমের জানাযায় গমন করে এবং তার জানাযার সালাত আদায় করে, এরপর তাকে কবরে রাখা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, সে দুই কীরাত সওয়াবপ্রাপ্ত হবে। এক কীরাত হলো উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি সালাত আদায় করেই চলে আসে, সে এক কীরাত পাবে।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তার পিতা [ইবন উমর (রাঃ)] থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে তার ভাইকে লজ্জার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছিল। তিনি বললেনঃ তাকে ছাড়, লজ্জা ঈমানের অংশ।
আবূ বকর ইবন নাফি' (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই দীন সহজ, যে কেউ দীনের ক্ষেত্রে কঠিন পন্থা অবলম্বন করবে, সে দীন পালনে ব্যর্থ হয়ে যাবে। অতএব তোমরা সোজা পথে চল, পরিপূর্ণতার কাছাকাছি থাকতে চেষ্টা কর, সুসংবাদ দাও, সহজ পন্থা অবলম্বন কর, সকাল সন্ধ্যা এবং কিছু রাত পর্যন্ত ইবাদতে থেকে সাহায্য প্রার্থনা কর।