। কুতায়বা (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু আবূ হিনদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমির ইবনু সা'অসা'আ গোত্রের মুতাররিফ (রহঃ) নামক জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, উছমান ইবনু আবুল আস (রাঃ) তাকে পান করাবার জন্য দুধ আনালে তিনি বললেন যে, আমি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তখন উছমান (রাঃ) বললেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, সাওম ঢাল স্বরূপ, তোমাদের যুদ্ধে ব্যবহৃত ঢালের ন্যায়।
। আলী ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ... মুতাররিফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উছমান ইবনু আবূল আস (রাঃ)-এর কাছে গেলে তিনি আমার জন্য দুধ আনালেন। তখন আমি বললাম, আমি তো সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। তিনি বললেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সাওম জাহান্নামের অগ্নি থেকে ঢাল স্বরূপ, তোমাদের যুদ্ধে ব্যবহত ঢালের ন্যায়।
। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ আদমী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) জাহান্নামের অগ্নি থেকে ঢাল স্বরূপ। তাই যে ব্যক্তি সাওম পালনরত অবস্থায় যার ভোর হয় সে যেন অজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় ব্যাবহার না করে। অন্য কেউ যদি তার সাথে অজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় আচরণ করে তবে সে যেন তার সাথে অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং গালি না দেয়। বরং বলে যে, আমি সাওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ যার হস্তে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন, সাওম পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তা’আলার নিকট কস্তুরির সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।
। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীদের জন্য জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যাকে রাইয়ান বলা হয়, সে দরজা দিয়ে সাওম পালনকারীগণ ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। যখন তাদের শেষ ব্যক্তি প্রবেশ করে ফেলবে, সে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি সে দরজা দিযে প্রবেশ করবে সে পানি পান করবে আর যে পানি পান করবে সে কখনো ক্ষুধার্ত হবে না।
। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হাকিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি দরজা আছে যাকে রাইয়ান বলা হয়। কিমামতের দিন বলা হবে কোথায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনকারীরা? তোমরা কেন রাইয়ান এর দিকে আসছ না? যে ব্যক্তি সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে সে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। যখন সাওম পালনকারীরা প্রবেশ করে ফেলবে সে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতএব সে দরজা দিয়ে সাওম পালনকারীগণ ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।
। আহমদ ইবনু আমর এবং হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক জোড়া (ভাল জিনিস) দান করবে তাকে কিয়ামতের দিন ডাকা হবে, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার এ দানটা কতই না ভালো। যে ব্যক্তি সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ে অভ্যস্ত হবে তাকে সালাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, আর যে ব্যক্তি জিহাদে অভ্যস্ত হবে তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে যে ব্যক্তি দান খয়রাতে অভ্যস্ত হবে তাকে দান খয়রাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে আর যে ব্যক্তি সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনে অভ্যস্ত হবে তাকে রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে ডাকা হবে। তখন আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কাউকে এক যোগে এই সকল দরজা দিয়ে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই। তাই কাউকে কি এই সকল দরজা দিয়ে এক যোগে ডাকা হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ এবং আমি আশা করি যে, আপনি সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের অন্যতম হবেন।
। মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একবার বের হলাম; তখন আমরা যুবক ছিলাম। কিন্তু আমাদের বিবাহের সামর্থ্য ছিল না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে যুবক শোন! তোমরা বিবাহ করে ফেল। কেননা তা দৃষ্টিকে অবনত রাখে আর লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ করে। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে। কেননা সাওম তার কামভাব দমন করবে।