ইব্রাহীম ইবন মুসতামির (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির হাত ধরে নিয়ে এসে বলবেঃ হে আমার রব! এই ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছিল। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেনঃ তুমি কেন এই ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে? সে ব্যক্তি বলবেঃ আমি তাকে হত্যা করেছিলাম আপনার গৌরব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। আল্লাহ্ তা'আলা বলবেনঃ নিশ্চয় গৌরব আমারই। এরপর অন্য ব্যক্তি আর এক ব্যক্তির হাত ধরে নিয়ে এসে বলবেঃ ইয়া আল্লাহ্! এই ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছিল। আল্লাহ্ তা'আলা বলবেনঃ তুমি এই ব্যক্তিকে কেন হত্যা করেছিলে? সে ব্যক্তি বলবেঃ অমুক ব্যক্তির কর্তৃত্ব ও গৌরব প্রতিষ্ঠার জন্য। তখন আল্লাহ্ তা'আলা বলবেনঃ ঐ ব্যক্তির কোন গৌরব নেই। এরপর সে ব্যক্তি তার হত্যার গুনাহ বহন করবে।
কুতায়বা (রহঃ) ... সালিম ইবন আবুল জা'দ (রহঃ) বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে ব্যক্তি কোন মুসলিমকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছে, এরপর সে তাওবা করলো এবং ঈমান আনলো এবং নেক আমল করলো এবং হিদায়ত কবুল করলো। তার তাওবা কি কবুল হবে? তিনি বললেন, মুসলিমের হত্যাকারীর তাওবা কিরূপে কবূল হতে পারে? আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীর হাত ধরে নিয়ে আসবে, তখন তার শিরা হতে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে। সে বলবেঃ ইয়া আল্লাহ্! আপনি এই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করুন, সে আমাকে কি কারণে হত্যা করেছিল? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) অর্থঃ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুসলিমকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম। (সূরা নিসাঃ ৯৩)।
আযহার ইবন জামিল বসরী (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, কূফাবাসীগণ (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) আয়াত সম্পর্কে মতবিরোধ করল এটি রহিত হয়েছে কিনা। আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট গেলাম এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটি সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াতসমূহের অন্যতম, কোন আয়াত একে রহিত করেনি।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে ব্যক্তি কোন মু'মিনকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করে তার তাওবা কবুল হবে কী? তিনি বললেন, না। আমি তার নিকট সূরা ফুরকানের আয়াত (وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ) তিলাওয়াত করলাম। অর্থঃ আর তারা আল্লাহ্র সাথে কোন ইলাহকে ডাকে না এবং আল্লাহ্ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতীরেকে তাকে হত্যা করে না। (সূরা ফুরকানঃ ৬৮) এর পরে আছে, “তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের পাপ পুণ্যের দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন”- (সূরা ফুরকানঃ ৭০) তিনি বলেন, এটি মক্কী আয়াত আর এ আয়াতকে মাদানী আয়াত (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ) রহিত করেছে।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা আমাকে আদেশ করলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে এই দুই আয়াত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করতে। প্রথম আয়াত (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ) "কেউ ইচ্ছাকৃত কোন মু'মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম।" আর দ্বিতীয় আয়াত (وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ) "যারা আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডাকে না এবং আল্লাহ্ যাদের হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না ... তবে যারা তাওবা করে ...।" আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম। প্রথম আয়াত সম্পর্কে তিনি বললেন, এটাকে কোন আয়াত রহিত করেনি। আর দ্বিতীয় আয়াত সম্পর্কে বললেন, এটি মুশরিকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।
হাজিব ইবন সুলায়মান মানবিজী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আরবের এক দল লোক বহু নরহত্যা করে, ব্যাপকভাবে যিনা করে এবং নানা রকম অন্যায় অপরাধ করে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলোঃ হে মুহাম্মদ ! আপনি যা বলেন এবং যেদিকে আমাদের আহ্বান করেন, তা অতি উত্তম। তবুও বলুন, আমরা যা করেছি তার কি কোন প্রায়শ্চিত্ত আছে? তখন আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেনঃ (وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ إِلَى فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ) অর্থঃ যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন মাবুদকে না ডাকে, তবে তাদের গুনাহসমূহকে আল্লাহ নেকীতে রূপান্তরিত করবেন ... (সূরা ফুরকানঃ ৬৮–৭০)। এবং আরও নাযিল করেনঃ (يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ) অর্থঃ তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না (সূরা আয-যুমারঃ ৫৩)।
হাসান ইবন মুহাম্মদ জাফরানী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কয়েকজন মুশরিক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে এসে বললেনঃ আপনি যা বলেন এবং যেদিকে আহ্বান করেন তা অতি উত্তম। আচ্ছা বলুন তো, আমরা যা করেছি তার কাফফারা আছে কি? তখন আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেনঃ (وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ) (সূরা ফুরকানঃ ৬৮–৭০) এবং (قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ) (সূরা আয-যুমারঃ ৫৩)।
মুহাম্মদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীকে নিয়ে উপস্থিত হবে, তার ললাট ও মাথা হত্যাকারীর হাতে থাকবে, আর তার শিরা হতে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে। সে বলবেঃ হে আমার রব! এই ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। সে তাকে আল্লাহর আরশের নিকট নিয়ে যাবে। রাবী বলেন, তখন লোক ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট তাওবার উল্লেখ করলে তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) তিনি আরও বললেনঃ এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর রহিত হয়নি; কাজেই তার তাওবার সুযোগ কোথায়?