। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু সামুরা (রহঃ) ... কা'ব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন কতগুলো তাসবীহ রয়েছে যার পাঠকারী তার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে না। প্রত্যেক সালাতের পর সে সুবহানাল্লাহ- ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ- ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার ৩৪ বার বলবে।
। মুসা ইবনু হিযাম তিরমিযী (রহঃ) ... যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) সাহাবায়ে কেরামকে আদেশ করা হলো- তারা যেন প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ- ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবর বলে। তারপর যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর স্বপ্নেএক আনসারী সাহাবী নীত হলে যায়দ (রাঃ)-কে উদ্দেশ করে বলা হল, তোমাদের কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ করেছেন যে, তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন ঐ আনসারী বললেন, তোমরা ঐ তাসবীহ গুলোকে ২৫ বার করে পড়বে এবং তাতে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহকেও অন্তর্ভুক্ত করে নেবে। যখন সকাল হল তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে স্বপ্ন বৃত্তান্ত বর্ণনা করাতে তিনি বললেন, তোমরা তাসবীহ গুলোকে অনুরূপভাবেই পড়বে।
হাদিস 1351 — Sunan an Nasai 13:173
হাসান Sahihহাসান SahihIsnaad Hasan
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ أَبُو زُرْعَةَ الرَّازِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْفُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، رَأَى فِيمَا يَرَى النَّائِمُ قِيلَ لَهُ بِأَىِّ شَىْءٍ أَمَرَكُمْ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَمَرَنَا أَنْ نُسَبِّحَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَنَحْمَدَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَنُكَبِّرَ أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ فَتِلْكَ مِائَةٌ . قَالَ سَبِّحُوا خَمْسًا وَعِشْرِينَ وَاحْمَدُوا خَمْسًا وَعِشْرِينَ وَكَبِّرُوا خَمْسًا وَعِشْرِينَ وَهَلِّلُوا خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَتِلْكَ مِائَةٌ فَلَمَّا أَصْبَحَ ذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " افْعَلُوا كَمَا قَالَ الأَنْصَارِيُّ " .
। উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্দুল কারীম আবূ যুরআ রাযী (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে, কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করছে যে, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসের আদেশ করেছেন? সে বলল, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ এবং ৩৪ বার - আল্লাহু আকবার বলতে আদেশ করেছেন। এ হল একশত বার। সে বলল, তোমরা ২৫ বার সুবহানাল্লাহ, ২৫ বার আলহামদু লিল্লাহ, ২৫ বার আল্লাহ আকবার এবং ২৫ বার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, তাও একশত বার হবে। যখন সকাল হল ঐ ব্যক্তি স্বপ্ন বৃত্তান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানাল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাসবীহ অনুরূপই বলবে, যেরূপ আনসারী ব্যক্তি বলেছেন।
। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু দরিদ্র লোক (একদা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ধনীরাও সালাত আদায় করে থাকে যেমনিভাবে আমরা আদায় করে থাকি আর তারাও সিয়াম পালন করে থাকে যেমনিভাবে আমরা পালন করে থাকি, কিন্তূ তাদের জন্য রয়েছে সম্পদ, যা থেকে তারা দান-সাদাকা করে থাকে এবং গোলাম (কিনে) আযাদ করে থাকে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তোমরা সালাত আদায় করবে, তখন বলবে, সূবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আল হামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহ আকবার ৩৩ বার এবং লা-ইলাহা ইলাল্লাহ ১০ বার। কেননা এর দ্বারা তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের সমপর্যায়ে পৌছে যেতে পারবে এবং তোমাদের পরবর্তী থেকে অগ্রগামী হয়ে যেতে পারবে।
। আহমদ ইবনু হাফস ইবনু আব্দুল্লাহ নিশাপুরী ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালের সালাতের পর একশত বার সূবহানাল্লাহ এবং একশত বার লা-ইলাহা ইল্লালাহ বলবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। যদিও তা সমুদ্রের ফেনাসম হয়।
। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল আ'লা সানআনী ও হুসায়ন ইবনু মুহাম্মাদ যারি (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি যে, তিনি আঙ্গুলে তাসবীহ গণনা করতেন।
। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রতি) মাসের মধ্যবর্তী দশ দিন ইতিকাফ করতেন। যখন বিংশতম রাত অতিবাহিত হওয়ার এবং একাবিংশতম রাতের আগমনের সময় হত তখন তিনি তাঁর ঘরে ফিরে আসতেন এবং তার সঙ্গে যারা ইতিকাফ করতেন তারাও ফিরে আসতেন। তারপর তিনি অন্য এক মাসে, যে মাসে ইতিকাফ করছিলেন ঐ রাতেও রয়ে গেলেন যে রাতে তিনি ঘরে ফিরে আসতেন এবং লোকদের সামনে খুতবা দিলেন। তাঁদেরকে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী আদেশ করলেন। তারপর বললেন, আমি এই মধ্যবর্তী দশদিন ইতিকাফ করতাম, পরে আমার কাছে প্রকাশ পেল যে, আমি এই শেষ দশ দিনও ইতিকাফ করি, অতএব যারা আমার সাথে গত মধ্যবর্তী দশদিন ইতিকাফ করেছ তাঁরা স্বীয় ই'তিকাফের স্থানে স্থির থাকবে। আমি এই শবে কদরকে স্বপ্নে দেখলাম। আমাকে তা দেওয়া হয়েছে, অতএব তোমরা তা এই শেষ দশ রাতে প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ করো। স্বপ্নে আমাকে দেখলাম যে, আমি পানি এবং কাদার মধ্যে সিজদা করছি। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমাদের উপর একবিংশতিতম রাতে বৃষ্টি হল বৃষ্টির পানি মসজিদে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত আদায় করার জায়গার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেল। আমি তাঁর দিকে লক্ষ্য করলাম যে, তিনি ফজরের সালাত থেকে সালাম ফিরিয়ে নিয়েছেন, আর তাঁর চেহারা পানি ও কাদা দ্বারা আপ্লুত ছিল।
হাদিস 1357 — Sunan an Nasai 13:179
সহিহসহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ قَعَدَ فِي مُصَلاَّهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ .
। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পর তাঁর সালাতের স্থানে সুর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন।
হাদিস 1358 — Sunan an Nasai 13:180
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، وَذَكَرَ، آخَرَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ كُنْتَ تُجَالِسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ جَلَسَ فِي مُصَلاَّهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَيَتَحَدَّثُ أَصْحَابُهُ يَذْكُرُونَ حَدِيثَ الْجَاهِلِيَّةِ وَيُنْشِدُونَ الشِّعْرَ وَيَضْحَكُونَ وَيَتَبَسَّمُ صلى الله عليه وسلم .
। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ)-কে বললাম, আপনি তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে উঠা-বসা করে থাকতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করতেন, তার সালাতের স্থানে সুর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। তখন তাঁর সাহাবীগণের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন, তাঁরা জাহিলী যুগের ঘটনা সমুহের আলোচনা করতেন, কবিতা আবৃতি করতেন এবং হাসা-হাসিও করতেন, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসতেন।