أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا، يَقُولُ : نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ تَقْصِيصِ الْقُبُورِ، أَوْ يُبْنَى عَلَيْهَا، أَوْ يَجْلِسَ عَلَيْهَا أَحَدٌ .
। ইউসুফ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে চুনকাম করা, কবরকে পাকা করা এবং তাতে কারো উপবেশন করা থেকে নিষেধ করেছেন।
হাদিস 2029 — Sunan an Nasai 21:212
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ تَجْصِيصِ الْقُبُورِ .
। ইমরান ইবনু মুসা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে চুনকাম করা থেকে নিষেধ করেছেন।
। সুলায়মান ইবনু দাউদ (রহঃ) ... ছুমামা ইবনু শুফাই (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা ফদালা ইবনু উবাইদ (রাঃ)-এর সাথে রোমে ছিলাম। সেখানে আমাদের এক সাথী মৃত্যু বরণ করল, তখন ফদালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) নির্দেশ দিলে আমরা তার কবরকে সমতল করে দিলাম। অতঃপর তিনি বললেন যে-আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবর সমতল করার নির্দেশ দিতে শুনেছি।
হাদিস 2031 — Sunan an Nasai 21:214
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ رضى الله عنه : أَلاَ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ تَدَعَنَّ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ، وَلاَ صُورَةً فِي بَيْتٍ إِلاَّ طَمَسْتَهَا .
। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূল হায়য়াজ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রাঃ) বলেছিলেন, আমি কি তোমাকে সে কাজে পাঠাব না যে কাজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তুমি উচু কবরকে সমতল না করে ছাড়বে না এবং ঘরের কোন (প্রানীর) ছবিকে বিনষ্ট না করে ছাড়বেনা।
। মুহাম্মাদ ইবনু আদম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ এর পিতা বুয়ায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত কর। আর আমি তোমাদের তিন দিনের অধিক কুরবানীর গোশত সংরক্ষণ করতে বারণ করেছিলাম। এখন তোমরা যতদিন ইচ্ছা সংরক্ষণ করতে পার। আর আমি তোমাদের মশক ভিন্ন অন্য কোন পাত্রে নবীয (খুরমা ভিজানো পানি) রাখতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা যে কোন পাত্রে রেখে তা পান করতে পার। হ্যাঁ নেশাদায়ক হলে পান করবে না।
। মুহাম্মাদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ এর পিতা বুয়ায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এমন এক বৈঠকে ছিলেন যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও ছিলেন। তিনি বললেন যে, আমি তোমাদের কুরবানীর গোশত তিন দিনের অধিক খেতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা যতদিন ইচ্ছা নিজেরা খাও অপরকে খাওয়াও এবং জমা করে রাখ। আর আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, তোমরা কদুর পাত্র, তৈলাক্ত পাত্র, কাঠের পাত্র এবং হানতাম (আলকাতরার প্রলেপযুক্ত পাত্র) জাতীয় পাত্রে নবীয বানাবে না। এখন তোমরা যাতে ইচ্ছা তাতেই বানাতে পার, হ্যাঁ প্রত্যেক নেশাদায়ক বস্তু থেকে বেঁচে থাকবে। আর তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন যাদের ইচ্ছে তারা যিয়ারত করতে পার তবে অপ্রয়োজনীয় কথা বলবে না।
। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাতার কবর যিয়ারত করার সময় ক্রন্দন করলেন, তার আশ পাশের সবাইও ক্রন্দন করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আম্মার মাগাফিরাতের অনুমতি চাইলাম কিন্তু আমাকে তার অনুমতি প্রদান করা হল না। অতঃপর তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তার অনুমতি দেওয়া হয়। তাই তোমরা কবর যিয়ারত কর, কেননা তা তোমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... সাঈদ এর পিতা মুসায়্যাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ তালিবের মৃত্যু সমপুস্থিত হল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন এবং সে সময় তার সামনে আবূ জাহল এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াও ছিল। তিনি বললেন, হে চাচাজান। আপনি। একবার বলুন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) আমি আপনার জন্য তাই নিয়ে আল্লাহর নিকটে যথাসাধ্য চেষ্টা চালাব (সুপারিশ কবর)। তখন আবূ জাহল এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়্যা বলল, হে আবূ তালিব, আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে সরে যাবেন? তারা সর্বক্ষণই এ কথা বলতে থাকল। শেষ পর্যন্ত তার মুখ থেকে শেষ শব্দ যা বের হয়েছিল তা ছিল আমি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মে থেকেই মৃত্যুবরণ করছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বললেন, আমি আপনার জন্য অবশ্যই অবশ্যই মাগফিরাত চাইব যতক্ষন না আমাকে নিষেধ করা হয়। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃمَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ আর এ আয়াতও অবতীর্ণ হলঃ إِنَّكَ لاَ تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ
। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে শুনলাম যে, সে তার পিতা মাতার জন্য মাগফিরাত চাচ্ছে অথচ তারা মুশরিক। তখন আমি তাকে বললাম, তুমি তাদের জন্য মাগফিরাত চাচ্ছ অথচ তারা মুশরিক। তখন সে বললো, ইবরাহীম (আঃ) কি স্বীয় পিতার জন্য মাগফিরাত চাননি? এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম এবং ঘটনা তার কাছে উল্লেখ করলাম। তখন এ আয়াত অবর্তীর্ণ হলঃ وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لأَبِيهِ إِلاَّ عَنْ مَوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ
। ইউসুফ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু কায়স ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি কি তোমাদের আমার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি ঘটনার কথা বলব না? আমরা বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই বলবেন। তিনি বললেন, একরাত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে ছিলেন। তিনি এশার সালাতের পর বিছানায় আসলেন, স্বীয় পাদুকাদ্বয় নিজ পায়ের কাছে রাখলেন এবং পরিধেয় কাপড়ের একাংশ বিছানার উপর বিছালেন। কিছুক্ষণ পরেই যখন তিনি মনে করলেন যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, তখন তিনি অতি সন্তর্পণে জুতা পরিধান করলেন, আস্তে আস্তে স্বীয় চাদরখানা উঠিয়ে নিলেন এবং নিঃশব্দে দরজা খুলে বের হয়ে গেলেন। তখন আমিও স্বীয় চাঁদরখানা নিজ মাথায় রাখলাম ওড়না ও কাপড় পরিধান করে তার পিছু পিছু চললাম। তিনি বাকী নামক কবরস্থানে আসলেন এবং তিনবার স্বীয় হস্তদ্বয় লম্বা করে উত্তলন করলেন। অতঃপর তিনি ফিরে চললে আমিও ফিরে চললাম। তিনি দ্রুত হাটতে লাগলে আমিও দ্রুত হাটতে লাগলাম। তিনি আরও একটু দ্রুতগতিতে চললে আমিও আরও একটু দ্রুত গতিতে চলতে লাগলাম। তিনি দৌড়াতে লাগলে আমিও দ্রুত দৌড়াতে লাগলাম। আমি তার পূর্বে ঘরে প্রবেশ করে গেলাম এবং তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন এবং বললেন, হে আয়িশা! তোমার কি হল যে, তোমার নিঃশ্বাস এত জোরে জোরে বের হচ্ছে, পেট ফুলে উঠছে? আমি বললাম, ও কিছু নয়। তিনি বললেন, হায় তুমি হয় আমাকে এ ব্যাপারে অবগত করবে না হয় আল্লাহ তা'আলা যিনি সর্ববিষয়ে জ্ঞাত তিনি আমাকে জানিয়ে দিবেন। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক। অতঃপর আমি তাঁকে পূর্ণ ঘটনা ব্যক্ত করলাম। তিনি বললেন, আমার সম্মুখে যাকে আমি দেখেছিলাম সেকি তুমিই ছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি আমার বক্ষে এমনভাবে আঘাত করলেন যে, তাতে আমি ব্যাথা অনূভব করলাম। অতপর তিনি বললেনঃ তুমি কি মনে কর যে, আল্লাহ এবং তার রাসুল তোমার উপর অন্যায় আচরণ করবে? আমি বললাম, মানুষ যখন কিছু গোপন করে তা আল্লাহ নিশ্চয়ই জানেন। তিনি বললেন- যখন তুমি দেখেছিলে তখন জিবরাঈল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন। তোমার গায়ে কাপড় ঠিক ছিল না। বিধায় তিনি আমার কাছে আসেন নি বরং তোমা হতে আড়ালে থেকে আমাকে ডাক দিয়েছিলেন। আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম এবং তোমা থেকে তা গোপন রাখলাম। আমি মনে করেছিলাম যে, তুমি ঘুমিয়ে ছিলে। আমি তোমার নিদ্রা ভঙ্গ করা অপন্দনীয় মনে করলাম। আমি আশংকাও করলাম যে, হয়ত তুমি ভয় পাবে। তিনি আমাকে বাকী নামক কবরস্থানে গিয়ে কবরবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বললেন। (আয়িশা বলেন,) আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কিরূপ বলব? তিনি বললেন তুমি বলবেঃ السَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، يَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ