। আমর ইবনু আলী এবং হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর সে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহ তা’আলাও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। আমর (রহঃ) তার হাদীসে এ অংশটূকু বৃদ্ধি করেছেন। বলা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করাতো মৃত্যুকে অপছন্দ করা অথচ আমরা সকলেই তো মৃত্যুকে অপছন্দ করে থাকি। তিনি বললেন, এ হল তার মৃত্যুকালীন অবস্থা, যখন তাকে আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত এবং রহমতের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন সে আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে আর আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যখন তাকে আল্লাহ তা'আলার আযাবের দুঃসংবাদ দেয়া হয়, তখন সে আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আর আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।
হাদিস 1839 — Sunan an Nasai 21:22
সহিহসহিহদাঈফ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، قَبَّلَ بَيْنَ عَيْنَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مَيِّتٌ .
। আহমদ ইবনু আমর (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চক্ষুদ্বয়ের মাঝখানে চুমু দিয়েছিলেন, তখন তিনি ছিলেন মৃত।
। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস এবং আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চুমু দিয়েছিলেন, তখন তিনি ছিলেন মৃত।
। সুওয়ায়দ (রহঃ) ... আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ) তাকে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ বকর (রাঃ) তার “সুনহা” নামক স্থানের বাসস্থান থেকে একটি ঘোড়ায় আরোহন করে এসে অবতরণ করলেন এবং মসজিদে প্রবেশ করলেন-তিনি কারো সাথে কোন কথাবার্তা না বলে আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ইয়ামানী চাদরে ঢাকা ছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমন্ডল থেকে তা খুলে ফেলে ঝুঁকে পড়ে তাঁকে চুমু খেলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন আপনার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তা’আলা আপনাকে কখনো দু’বার মৃত্যু দান করবেন না। যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল তা আপনি বরণ করে নিয়েছেন।
। মুহাম্মদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ... ইবনু মুনকাদির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, উহুদের জিহাদের দিন আমার পিতাকে আনা হল, তখন তার দেহ ছিল বিকৃত অবস্থায়। তাকে চাদার দ্বারা ঢাকা অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে রাখা হল। আমি তার চাদর খুলতে চাইলে আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে বারণ করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করলে তা খোলা হল, যখন খোলা হল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ক্রন্দনকারী মহিলার আওয়াজ শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কে? লোকেরা বলল, এ আমরের মেয়ে বা বোন হবে। তিনি বললেন, তুমি ক্রন্দন করো না অথবা (তিনি বললেন) ক্রন্দন কেন করছ? ফেরেশতারা তাকে উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত সর্বক্ষণ স্বীয় পাখা দ্বারা ছায়া প্রদান করছিল।
হাদিস 1843 — Sunan an Nasai 21:26
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسِ، قَالَ لَمَّا حُضِرَتْ بِنْتٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَغِيرَةٌ فَأَخَذَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَمَّهَا إِلَى صَدْرِهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهَا فَقَضَتْ وَهِيَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَكَتْ أُمُّ أَيْمَنَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أُمَّ أَيْمَنَ أَتَبْكِينَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَكِ " . فَقَالَتْ مَا لِي لاَ أَبْكِي وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَبْكِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لَسْتُ أَبْكِي وَلَكِنَّهَا رَحْمَةٌ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُؤْمِنُ بِخَيْرٍ عَلَى كُلِّ حَالٍ تُنْزَعُ نَفْسُهُ مِنْ بَيْنِ جَنْبَيْهِ وَهُوَ يَحْمَدُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ " .
। হান্নাদ ইবনু সারি (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছোট মেয়ের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উঠিয়ে নিয়ে বক্ষের সাথে মিলালেন। তারপর নিজের হাত তার উপর রাখলেন। এরপর তার মৃত্যু হয়ে গেল আর সে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর সামনে উম্মে আয়মান কেঁদে উঠলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে উম্মে আয়মান, তুমি কাঁদছো অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার সামনে উপস্থিত রয়েছে? তিনি বললেন, আমি কেন কাঁদব না যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং কাদছেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি স্বেচ্ছায় কাঁদছি না বরং যে অশ্রু তুমি দেখছ, তাহলো আল্লাহ তা'আলার রহমত বিশেষ। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মু'মিন সব অবস্থায় ভাল থাকে, তার পার্শ্বদ্বয় থেকে আত্না বের করা হয় অথচ তখনও সে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করতে থাকে।
। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালে এরূপ ক্রন্দন করেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ হে আমার পিতা! কোন বস্তু তাকে তার পরওয়ারদিগারের অতি নিকটবর্তী করেছে? হে আমার পিতা! আমরা জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এর নিকট তার মৃত্যূ শোক প্রকাশ করছি। হে আমার পিতা! জান্নাতুল ফিরদাউস যার বাসস্থান।
হাদিস 1845 — Sunan an Nasai 21:28
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ أَبَاهُ، قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ - قَالَ - فَجَعَلْتُ أَكْشِفُ عَنْ وَجْهِهِ، وَأَبْكِي، وَالنَّاسُ، يَنْهَوْنِي وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَنْهَانِي وَجَعَلَتْ عَمَّتِي تَبْكِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَبْكِيهِ مَا زَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رَفَعْتُمُوهُ " .
। আমর ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে তার পিতা উহুদের জিহাদের দিনে শহীদ হয়ে গিয়েছিলেন, আমি তার মুখমন্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে ফেললাম এবং ক্রন্দন করছিলাম, আর লোকেরা আমাকে বারণ করছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বারণ করছিলেন না, আমার ফুফুও তাঁর জন্য ক্রন্দন করছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তার জন্য ক্রন্দন করো না, যেহেতু তোমরা তাকে উঠিয়ে নেওয়া অবধি ফেরেশতারা তাঁকে স্বীয় ডানা দ্বারা ছায়া দিচ্ছিল।
হাদিস 1846 — Sunan an Nasai 21:29
সহিহসহিহIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرِ بْنِ عَتِيكٍ، أَنَّ عَتِيكَ بْنَ الْحَارِثِ، وَهُوَ جَدُّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو أُمِّهِ أَخْبَرَهُ أَنَّ جَبْرَ بْنَ عَتِيكٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَاءَ يَعُودُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ ثَابِتٍ فَوَجَدَهُ قَدْ غُلِبَ عَلَيْهِ فَصَاحَ بِهِ فَلَمْ يُجِبْهُ فَاسْتَرْجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " قَدْ غُلِبْنَا عَلَيْكَ أَبَا الرَّبِيعِ " . فَصِحْنَ النِّسَاءُ وَبَكَيْنَ فَجَعَلَ ابْنُ عَتِيكٍ يُسَكِّتُهُنَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دَعْهُنَّ فَإِذَا وَجَبَ فَلاَ تَبْكِيَنَّ بَاكِيَةٌ " . قَالُوا وَمَا الْوُجُوبُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْمَوْتُ " . قَالَتِ ابْنَتُهُ إِنْ كُنْتُ لأَرْجُو أَنْ تَكُونَ شَهِيدًا قَدْ كُنْتَ قَضَيْتَ جِهَازَكَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَوْقَعَ أَجْرَهُ عَلَيْهِ عَلَى قَدْرِ نِيَّتِهِ وَمَا تَعُدُّونَ الشَّهَادَةَ " . قَالُوا الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهَادَةُ سَبْعٌ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ الْمَطْعُونُ شَهِيدٌ وَالْمَبْطُونُ شَهِيدٌ وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ الْهَدْمِ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ الْحَرَقِ شَهِيدٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعٍ شَهِيدَةٌ " .
। উতবা ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আতীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর শুশ্রুষার জন্য গিয়ে দেখতে পেলেন যে, তার মৃত্যূ আসন্ন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উচ্চ স্বরে ডেকেও তার কোন নাড়া শব্দ না পেয়ে انا لله وانا اليه راجعون পড়লেন এবং বললেন, হে আবূ বুবী! আমাদের সম্মূখে তোমার উপর আল্লাহ তা’আলার হুকুম বিজয়ী হতে যাচ্ছে (তুমি মৃত্যূ বরণ করেছ)। একথা শুনে কিছু মহিলা উচ্চ স্বরে ক্রন্দন শুরু করে দিলে ইবনু আতীক (রাঃ) (জাবির) তাদের শান্ত করাতে লাগলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাদের ছেড়ে দাও। যখন মৃত্যৃ হয়ে যারে তখন কোনই ক্রন্দনকারিণী ক্রন্দন করবে না। সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, 'উজুব' শব্দের অর্থ কি ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন, ‘মৃত্যু’। তার কন্যা বলল, যে আমি তো এ আশাই করতাম যে, আপনি শহীদ হবেন। আপনি তো শাহাদাতের যাবতীয় পাথেয় সংগ্রহ করেই রেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা'আলা তার নিয়্যত অনুযায়ী তাকে শাহাদাতের সওয়াব দিয়ে দিয়েছেন। আচ্ছা, তোমরা শাহাদাত কাকে মনে কর? তারা বললেন, আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণ করাকে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণ করা ব্যতীতও আরো সাত প্রকারের শাহাদাত আছে- ১. প্লেগ রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ ২. পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ ৩. পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহীদ ৪. প্রাচীর চাপায় মৃত ব্যক্তি শহীদ ৫. আভ্যন্তরীণ বিষ ফোঁড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ ৬. অগ্নিদাহে মৃত ব্যক্তি শহীদ ৭. প্রসবকালে মৃত রমনী শহীদ।
। ইউনুস ইবনু আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যায়দ ইবনু হারিসা, জা'ফর ইবনু আবূ তালিব এবং আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাত প্রাপ্তির সংবাদ এসে পৌছলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) বসে পড়লেন এবং তার মুখমণ্ডলে বিষণ্ণতার রেখা ফুটে উঠল, আমি দরজার ছিদ্রপথ দিয়ে তাকে দেখছিলাম। এক ব্যাক্তি এসে বলল, জা'ফর (রাঃ)-এর পরিবারবর্গ ক্রন্দন করছে, তিনি বললেন, তুমি গিয়ে তাদের নিষেধ কর। সে চলে গেল এবং আবার এসে বললো, আমি তাদের নিষেধ করেছিলাম কিন্তু তারা ক্রন্দন করছেই। তিনি বললেন, তুমি গিয়ে তাদের নিষেধ কর। সে পুনরায় এসে বললো, আমি তাদের নিষেধ করেছিলাম কিন্তু তারা ক্রন্দন করছেই। তিনি বললেন, তুমি গিয়ে তাদের মুখে মাটি ভরে দাও। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ তা'আলা অভাগার নাসিকা ধূলাধূসরিত করে দিক, আল্লাহর শপথ! তুমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট না দিয়ে ছাড়লে না, তোমাকে যা বলা হয়েছিল, তুমি তা করতে পারলে না।