ইয়াকূব ইন ইরাহীম (রহঃ) ... মুত্তালিব ইবন আবু ওয়াদা'আহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাওয়াফের সপ্তম চক্কর সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি তাওয়াফ করার স্থানের এক পার্শ্বে গমন করলেন এবং সেখানে দু' রাকাত সালাত আদায় করলেন। তখন তার মধ্যে এবং তাওয়াফকারীদের মধ্যে কেউ ছিল না।
কুতায়বা (রহঃ) ... আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমর (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় এলেন এবং সাতবার কা'বার তাওয়াফ করলেন, এবং মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং সাফা ও মারওয়ায় সাঈ করালেন। আর বললেন ও তােমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।
মুহাম্মদ ইক্ন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতবার বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন, তার মধ্যে তিনি তিনবার রমল করেন, আর চারবার সাধারণভাবে চলেন। তারপর মাকামে ইবরাহীমের নিকট দাঁড়িয়ে দু'রাকাত সালাত আদায় করেন এবং তিনি তিলাওয়াত করেনঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى) অর্থঃ তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর। (সূরা বাকারাঃ ১২৫) লোকদের শুনাবার জন্য তিনি উচ্চস্বরে এরূপ পাঠ করেন। তারপর তিনি ফিরে এসে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। এরপর (সাফা-এর দিকে) গেলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ যা হতে আরম্ভ করেছেন আমরাও তা থেকে আরম্ভ করবে। এরপর তিনি সাফা হতে আরম্ভ করেন এবং এর উপর আরোহণ করেন। এ সময় কা'বা তার দৃষ্টিগােচর হলে তিনি তিনবার বলেনঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ অর্থঃ “আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, নেই তার কোন শরীক, রাজত্ব তারই, প্রশংসা তারই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। এরপর তিনি 'আল্লাহু আকবার' বলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং যা তিনি নির্ধারিত ছিল তার জন্য তিনি দু'আ করেন। এরপর তিনি পায়ে হেঁটে নেমে আসেন। এমন কি তার পদদ্বয় বাতনে মাসিলে স্থির হলাে। তারপর তিনি দ্রুত হেঁটে চলেন, যাতে তার উভয় পা উঠে যেত। পরে তিনি স্বাভাবিকভাবে হেঁটে মারওয়া পাহাড়ে পৌছে তাতে আরোহণ করেন। এবারও বায়তুল্লাহ তার দৃষ্টিগোচর হলো, তিনি তিনবার বলেনঃ (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) দুআর পর তিনি আল্লাহকে স্মরণ করলেন এবং হামদ ও সানা আদায় করলেন। এখানেও তিনি আল্লাহ যা নির্ধারিত করেছেন সেভাবে দু'আ করেন। এভাবে তিনি তাওয়াফ সমাপ্ত করেন।
আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতবার তাওয়াফ করেন এবং তিনবার রমল করেন এবং চারবার স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করেন। এরপর তিনি পড়েনঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى) অর্থঃ "তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর।" (সূরা বাকারাঃ ১২৫) পরে দু'রাকআত সালাত আদায় করেন। এ সময় তিনি মাকামে ইবরাহীমকে তাঁর ও কা'বার মধ্যে রাখেন। পরে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। তা হতে বের হয়ে বললেনঃ (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ) "নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন।" তােমরা আরম্ভ কর ঐস্থান থেকে যার কথা আল্লাহ প্রথমে উল্লেখ করেছেন।
আমর ইবন উসমান ইবন সাঈদ ইবন কাছীর ইবন দীনার আল-হিমসী (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাকামে ইবরাহীমে পৌছে তিলাওয়াত করলেনঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى) তারপর দু'রাকআত সালাত আদায় করেন। তিনি সুরা-ই ফাতিহা এবং সূরা-ই-কাফিরুন ও সূরা-ই-ইখলাস পাঠ করেন। পরে আবার হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তাকে চুম্বন করেন। তারপর সাফা পাহাড়ের দিকে যান।
যিয়াদ ইবন আইয়ূব (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামদাঁড়িয়ে যমযমের পানি করেন।
হাদিস 2965 — Sunan an Nasai 24:348
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَقَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ زَمْزَمَ فَشَرِبَهُ وَهُوَ قَائِمٌ .
আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যমযমের পানি পান করিয়েছি। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় তা পান করেন।
মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহঃ) ... আমর ইবন দীনার (রহঃ) বলেনঃ ইবন উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করার পর সাতবার কা'বার তাওয়াফ করেন। পরে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দাঁড়িয়ে দু'রাকআত সালাত আদায় করেন। তারপর যে দরজা দিয়ে লোক বের হয়, সে দরজা দিয়েই তিনি সাফার দিকে বের হন এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করেন। শুবা (রহঃ) বলেনঃ আইয়ুব (রহঃ) আমর ইবন দীনার (রহঃ) সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, ইবন উমর (রাঃ) একে সুন্নত বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) .... উরওয়া (রহঃ) বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট (فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا) [(অর্থঃ তাই যে কেউ কা'বা গৃহের (হজ্জ কিংবা উমরাহ করে) এ দু'টির মধ্যে যাতায়াত করাতে তার কোন পাপ নেই। (সূরা বাকারাঃ ১৫৮)] এ আয়াত পাঠ করে বললামঃ উক্ত পাহাড়দ্বয়ের মধ্যে সাঈ না করাকে আমি মন্দ মনে করি না। তিনি বলেনঃ তুমি যা বললে তা মন্দ কথা, জাহিলী যুগে লোকেরা এই দু পাহাড়ের সাঈ করতো না। যখন ইসলামের যুগ এলো এবং কুরআন নাযিল হলোঃ (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ) “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন” (সূরা বাকারাঃ ১৫৮)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাঈ করলেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সাঈ করলাম। তাই ইহা সুন্নত।
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) বলেনঃ আমি আয়েশা (রাঃ)-কে (فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا) এ আয়াত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললামঃ আল্লাহর শপথ! সাফা ও মারওয়ায় সাঈ না করলে কারও পাপ হবে না। আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ তুমি যা বললে, তা ভাল নয়, হে ভাগ্নে! তুমি এই আয়াতের মর্ম যা বুঝেছ; যদি তা-ই হতো তাহলে তোমরা এর সাঈ না করলে কোন পাপ হবে না ঠিকই। কিন্তু এই আয়াত নাযিল হয়েছে আনসারদের সম্বন্ধে। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা মানাতে তাগিয়া' (একটি মূর্তি)-এর হজ্জ করতো। আর যে এর হজ্জ করতো, সে সাফা ও মারওয়ার সাঈ করতো না। যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল, তখন আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেনঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্বতদ্বয়ের সাঈ করাকে শরীয়তের আহকামভূক্ত করেন। তাই কেউ পর্বতদ্বয়ের সাঈ বাদ দিতে পারবে না।