أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ، - هُوَ ابْنُ فَضَالَةَ - عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَكَلْنَا يَوْمَ خَيْبَرَ لُحُومَ الْخَيْلِ وَالْوَحْشِ وَنَهَانَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْحِمَارِ .
কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খায়বারের দিন ঘোড়া ও বন্য জন্তুর গোশত খেয়েছি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
হাদিস 4344 — Sunan an Nasai 42:82
সহিহ Isnaadসহিহ IsnaadIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - هُوَ ابْنُ مُضَرَ - عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ سَلَمَةَ الضَّمْرِيِّ، قَالَ بَيْنَا نَحْنُ نَسِيرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبَعْضِ أَثَايَا الرَّوْحَاءِ وَهُمْ حُرُمٌ إِذَا حِمَارُ وَحْشٍ مَعْقُورٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دَعُوهُ فَيُوشِكُ صَاحِبُهُ أَنْ يَأْتِيَهُ " . فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ بَهْزٍ هُوَ الَّذِي عَقَرَ الْحِمَارَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ شَأْنَكُمْ هَذَا الْحِمَارُ . فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَا بَكْرٍ يُقَسِّمُهُ بَيْنَ النَّاسِ .
কুতায়বা (রহঃ) ... উমায়র ইবন সালামা যামরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মদীনার রাওহা নামক স্থান অতিক্রম করছিলাম, আর তাঁরা সকলেই ছিলেন হজ্জের ইহরাম অবস্থায়। এমন সময় একটি আহত বন্য গাধা আমাদের দৃষ্টিগোচর হলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একে ছেড়ে দাও, হয়তো এর শিকারী মালিক আসছে। এমন সময় বাহায গোত্রের এক ব্যক্তি, যে গাধাটিকে আঘাত করেছিল, সে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই গাধা আপনি নিয়ে নিন। তখন তিনি আবু বকর (রাঃ)-কে আদেশ দিলেন যেন সকলের মধ্যে এর গোশত বণ্টন করে দেন।
মুহাম্মদ ইবন ওহাব (রহঃ) ... আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি একটি বন্য গাধা শিকার করে তাঁর সাথীদের নিকট নিয়ে আসেন তখন তারা সকলে ছিল ইহরাম অবস্থায়, কিন্তু তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন না। আমরা তা খেয়ে পরে একে অপরকে বললাম, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন ছিল। পরে আমরা তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ তোমরা ভালই করেছ। তিনি আমাদেরকে আরো বললেনঃ তোমাদের নিকট এর অবশিষ্ট কিছু আছে কি? আমরা বললামঃ জ্বি হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তা আমাকে হাদিয়া দাও। আমরা তা তাঁর নিকট নিয়ে আসলে তিনি তা থেকে খান, আর তখন তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন।
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... যাহদাম (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবু মূসা (রাঃ)-এর নিকট একটি রান্নাকরা মুরগী আনা হলে উপস্থিত লোকদের একজন সরে পড়লো। আবু মূসা (রাঃ) বললেন, তোমার কি হলো? সে বললো, আমি একে একটা বস্তু খেতে দেখেছি। তাই আমার ঘেন্না হয় এবং আমি কসম করেছি যে, আমি তা খাব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেনঃ তুমি নিকটে এসো এবং খাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা খেতে দেখেছি। আর তিনি ঐ ব্যক্তিকে বললেনঃ তুমি তোমার কসমের কাফফারা দাও।
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... যাহদাম জারমী (রহঃ) বলেন, আমরা আবূ মূসা (রাঃ) এর নিকট ছিলাম, এমন সময় তাঁর খানা আনা হলো আর তাতে মুরগীর গোশত ছিল। উপস্থিত লোকদের মধ্যে তায়মুল্লাহ গোত্রের রক্তিম বর্ণের এক ব্যক্তি যে ক্রীতদাস ছিল, সে নিকটে আসলো না। তখন আবু মূসা (রাঃ) তাকে বললেনঃ নিকটে এসো, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এটা খেতে দেখেছি।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চড়ুই অথবা তা থেকে ছােট কোন জন্তু অন্যায়ভাবে হত্যা করে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর ন্যায্যতা কি? তিনি বললেনঃ এর ন্যায্যতা এই যে, একে আল্লাহর নামে যবেহ করে খাবে। এর মাথা কেটে ফেলে দেবে না।
ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমুদ্রের পানি পাক, আর এর মৃত জীব হালাল।
মুহাম্মদ ইবন আদম (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের তিনশত ব্যক্তির একদলকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদে পাঠান। আমরা আমাদের পাথেয় কাঁধে বয়ে নিচ্ছিলাম। এক সময় আমাদের পাথেয় নিঃশেষ হয়ে গেল। এমনকি আমাদের প্রত্যেকের একটি করে খেজুর মিলত। এক ব্যক্তি বললোঃ হে আবু আবদুল্লাহ্! একজন লোকের একটি খেজুরে কী হয়? জাবির (রাঃ) বললেনঃ তাও যখন ফুরিয়ে গেল, তখন আমরা বুঝলাম, একটি খেজুরের মূল্য কী? অতঃপর আমরা সমুদ্র তীরে আসলাম এবং সেখানে এমন এক মাছ পেলাম, সমুদ্র যা তীরে নিক্ষেপ করেছে। তা আমরা আঠার দিন পর্যন্ত খেয়েছিলাম।
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আমর (রহঃ) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনশত ব্যক্তিকে আবু উবায়দা ইবন জাররাহ্ (রাঃ)-এর অধীনে কুরায়শের বাণিজ্যদলের গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য পাঠান। আমরা ঐ কাফেলার অপেক্ষায় সমুদ্র তীরে অবস্থান করি। আমরা এমন খাদ্য সংকটে পড়লাম যে, শেষ পর্যন্ত আমরা গাছের পাতা খেতে লাগলাম। এঅবস্থায় একদিন সমুদ্র একটি মাছ তীরে নিক্ষেপ করল যাকে আম্বর বলা হয়ে থাকে। আমরা তা অর্ধ মাস পর্যন্ত খেতে থাকি, আর এর চর্বি তেল হিসেবে ব্যবহার করি। এমনকি আমাদের হৃত স্বাস্থ্য ফিরে আসল। আবূ উবায়দা (রাঃ)-এর পাঁজরের একটি হাঁড় তুলে নেন। তিনি একটি লম্বা উটের প্রতি লক্ষ্য করেন, আর বাহিনীর সর্বাপেক্ষা লম্বা ব্যক্তিকে এর উপর সওয়ার করালেন। লোকটি এর নিচ দিয়ে চলে গেল। আবার বাহিনীর খাদ্যাভাব দেখা দিলে এক ব্যক্তি তিনটি উট যবেহ করল। আবার খাদ্যাভাব দেখা দিলে এক ব্যক্তি আরও তিনটি উট যবেহ করল। তারপর আবার খাদ্যাভাব দেখা দিলে আবারও এক ব্যক্তি তিনটি উট যবেহ করল। আবু উবায়দা (রাঃ) পরে তা নিষেধ করেন। (রাবী) সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আবু যুবায়র (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমরা এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ তোমাদের নিকট কি এর অবশিষ্ট আছে? জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা এর চক্ষুদ্বয় হতে এত-এত মটকা চর্বি বের করলাম। আর এর চক্ষের কোটরে চার ব্যক্তি নেমে পড়েছিল। আবু উবায়দা (রাঃ)-এর নিকট একটি খেজুর ভর্তি থলি ছিল। তিনি আমাদেরকে একা-এক মুষ্ঠি দান করতেন। পরে একটি করে খেজুর দিতেন, তা ফুরিয়ে যাওয়ার পর আমরা এর ফুরিয়ে যাওয়ার মূল্য বুঝতে পারি।