মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে বাহিনী আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, আর তারা গনীমত প্রাপ্ত হয়, তাদেরকে সওয়াবের দুই তৃতীয়াংশ দুনিয়াতেই দেওয়া হয়, আর তাদের এক তৃতীয়াংশ পুণ্য অবশিষ্ট থাকে। আর যে বাহিনী গনীমত না পায়, তাদের বিনিময় পরিপূর্ণই আখিরাতের জন্য থাকে।
ইবরাহীম ইন ইয়াকূব (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যা তিনি তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমার যে বান্দা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয়েছে; আমার জিম্মায় রইলো- আমি তাকে ফিরিয়ে আনবাে। যদি আমি তাকে ফিরিয়ে আনি, তা হলে আমি তাকে ফিরিয়ে আনব তার পুণ্য ও গনীমতের সম্পদসহ, আর যদি আমি তাকে ওফাত দেই, তাহলে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব এবং তার প্রতি রহমত করব।
হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর উপমা আর কে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, তা আল্লাহই ভাল জানেন, ঐ সিয়াম পালনকারীর ন্যায়, যে রাত জেগে ইবাদত করে, আল্লাহকে ভয় করে, রুকু করে এবং সিজদা করে।
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে আরয করলো, আমাকে এমন আমলের সন্ধান দিন-যা জিহাদের সমতুল্য হয়। তিনি বললেনঃ আমি তোমরা এমন আমল পাচ্ছি না, আচ্ছা যখন মুজাহিদ জিহাদে বের হয়, তখন তুমি কি মসজিদে প্রবেশ করে এমন ইবাদত আরম্ভ করতে সক্ষম, যাতে একটুও বিরতি দেবে না? আর লাগাতার সাওম পালন করবে, যাতে কোন বিরতি হবে না? লোকটি বললোঃ এরূপ করতে কে সক্ষম হবে?
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকাম (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহতে ঈমান আনা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলোঃ কোন আমল সবোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহর উপর ঈমান আনা। সে বললোঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ তারপর কোনটি ? তিনি বললেনঃ হজ্জে মাবরূর বা মাককূল হজ্জ।
হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবু সাঈদ! যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, এতে আবু সাঈদ (রাঃ) আশ্চর্যবোধ করলেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই বাক্য আমাকে আবার বলুন। তিনি তা করলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অন্য একটি আমল আছে, তা দ্বারা জান্নাতে বান্দার মর্যাদা একশত গুণ বৃদ্ধি করা হয়, এর প্রতি দুটি স্তরের দূরত্ব এমন- যেমন আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যকার দূরত্ব। তিনি বললেনঃ তা কি, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
হারুন ইবন মুহাম্মদ ইবন বাককার ইবন বিলাল (রহঃ) ... আবুদ্দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সালাত কায়িম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সে ব্যক্তিকে ক্ষমা করা আল্লাহর জন্য অবধারিত। সে হিজরত করুক অথবা স্বীয় আবাসে মৃত্যুবরণ করুক। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি লোকদের এ সংবাদ পৌঁছিয়ে দেব না, যাতে তারা সন্তুষ্ট হয়? তিনি বললেনঃ জান্নাতে একশত স্তর আছে, প্রতি দুটি স্তরে দূরত্ব যমীন ও আসমানের দূরত্বের সমান, আল্লাহ্ তা'আলা তা আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। যদি মুমিনদের উপর কষ্টদায়ক না হতো, আর আমি তাদের আরোহণের জন্য সওয়ারী ব্যবস্থা করতে অপারগ না হতাম, আর আমার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে তাদের মনোকষ্ট না হতো, তবে আমি কোন যুদ্ধ হতেই বিরত থাকতাম না। আমার ইচ্ছা হয় আমি একবার শহীদ হয়ে যাই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।
হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আমর ইবন মালিক জানবী (রহঃ) বলেন, তিনি ফাযালা ইবন উবায়দ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমি সে ব্যক্তির যামিন হলাম, যে ঈমান আনলো আমার প্রতি এবং ইসলাম গ্রহণ করলো, হিজরত করলো, এমন একটি ঘরের যা জান্নাতের বহির্ভাগে হবে, আর একটি ঘরের- যা জান্নাতের মধ্যভাগে। আর আমি যামিন হলাম ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করেছে এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং জিহাদ করেছে আল্লাহর রাস্তায় এমন ঘরের- যা বেহেশতের বহিভাগে এবং একটি ঘরের- যা জান্নাতের মধ্যভাগে হবে। এবং একটি ঘরের- যা জান্নাতের কক্ষসমূহের উপরিভাগে হবে। সে সেখানে কল্যাণের সন্ধান পায়, সেখান থেকে কল্যাণ সন্ধান করবে এবং মন্দ থেকে রক্ষার জন্য যেখানে ইচ্ছা পলায়ন করবে। সে যেখানে ইচ্ছা মৃত্যুবরণ করুক, জান্নাত তার জন্য অবধারিত।
ইবরাহীম ইবন ইয়াকূব (রহঃ) ... সাবরতা ইবন আবু ফাকিহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ শয়তান আদম-সন্তানের রাস্তাসমূহে বসে থাকে। সে ইসলামের পথে বসে বাধা সৃষ্টি করতে গিয়ে বলেঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ করবে, আর তোমার দীন ও তোমার বাপ দাদার দীন এবং তোমার পিতার পূর্বপুরুষদের দীন পরিত্যাগ করবে? কিন্তু আদম সন্তান তার কথা অমান্য করে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর শয়তান তার হিজরতের রাস্তায় বসে বলেঃ তুমি হিজরত করবে, তোমার ভূমি ও আকাশ পরিত্যাগ করবে? মুহাজির তো একটি রশিতে আবদ্ধ ঘোড়ার ন্যায়। কিন্তু সে ব্যক্তি তার কথা। অমান্য করে হিজরত করে। এরপর শয়তান তার জিহাদের রাস্তায় বসে এবং বলেঃ তুমি কি জিহাদ করবে? এতে নিজকে এবং নিজের ধন সম্পদকে ধ্বংস করা। তুমি যুদ্ধ করে নিহত হবে, তোমার স্ত্রী অন্যের বিবাহে যাবে, তোমার সম্পদ ভাগ হবে। সে ব্যক্তি তাকে অমান্য করে জিহাদে গমন করে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে এরূপ করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী জান্নাত তার জন্য অবধারিত। আর যে ব্যক্তি শহীদ হয়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত। যদি সে ডুবে যায়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত। আর যদি তার সওয়ারী তাকে ফেলে দিয়ে তার গর্দান ভেঙ্গে দেয় বা মেরে ফেলে, তখনও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত।