। রবী ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফেরেশতাগণ জুমু'আর দিনে মসজিদের দরজাসমুহে বসে থাকেন, তাঁরা মর্যাদা অনুসারে মানুষের নাম লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। ফলে কতক মানুষ সেই লিষ্টে উট সাদাকাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ গরু সাদাকাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ বকরী সাদাকাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ ভেড়া সাদাকাকারীর ন্যায়, কতক মানুষ চড়ুই সাদাকাকারীর ন্যায় এবং কতক মানুষ ডিম সাদাকাকারীর ন্যায় (সওয়াবের দিক থেকে)।
। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু'আর দিনে সহবাসের পর দেহ পবিত্র করার জন্য গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর প্রথম মুহূর্তে মসজিদে গমন করে, সে যেন একটি উট সাদাকা করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় মুহূর্তে মসজিদে গমন করে, সে যেন একটি গরু সাদাকা করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় মুহূর্তে মসজিদে গমন করে, সে যেন একটি ভেড়া সাদাকা করল আর যে ব্যক্তি চতুর্থ মুহূর্তে মসজিদে গমন করে সে যেন একটি মুরগী সাদাকা করল এবং যে ব্যক্তি পঞ্চম মুহূর্তে মসজিদে গমন করে সে যেন একটি ডিম সাদাকা করল। যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য বের হয়ে আসেন, তখন ফেরেশতাগণ উপস্থিত হয়ে খুতবা শুনতে থাকেন।
। আমর ইবনু সাওয়াদ ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমু'আর দিনে এমন বারটি মুহূর্ত রয়েছে, এমন কোন মুসলিম বান্দা পাওয়া যাবে না, যে ঐ মূহূর্তগুলোতে আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইবে, কিন্তু তাকে তা দেওয়া হবে না। অতএব, তোমরা ঐ মূহূর্তগুলোকে আসরের পর শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর।
। হারুন ইবনু আব্দুলাহ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে জুমু'আর সালাত আদায় করতাম। তারপর আমরা আমাদের আবাসে ফিরে এসে উটগুলোকে আরাম দিতাম। ইমাম মুহাম্মাদ বাকের (রহঃ) বলেন, আমি (জাবির (রাঃ)-কে) জিজ্ঞাসা করলাম, কখন (ফিরে আসতেন)? তিনি বললেন, শীতকালে সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে যাওয়ার পর।
। শু'আয়ব ইবনু ইয়ুসূফ (রহঃ) ... সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে জুমু'আর সালাত আদায় করতাম, তারপর ঘরে ফিরে আসতাম, তখনও দেয়ালের এমন কোন ছায়ার সৃষ্টি হত না, যেখানে বিশ্রাম গ্রহণ করা যেতে পারে।
। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর এবং উমর (রাঃ)-এর যুগে জুমু'আর দিনে প্রথম আযান ছিল যখন ইমাম জুমু'আর দিনে মিম্বরের উপর বসতেন। উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতের যুগে মানুষের সংখ্যা যখন বেড়ে গেল, তখন উসমান (রাঃ) জুমু'আর দিনে প্রথম আযানের নির্দেশ দিলেন, এবং সর্বপ্রথম সে আযান যাওরা নামক স্থানে দেওয়া হয়েছিল। তারপর (অত্র) আযানের উপর এই আদেশ বলবৎ রয়ে গেল।
। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহয়া ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, যখন মদীনায় মানুষের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল তখন উসমান (রাঃ) তৃতীয় আযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একটি মাত্র ব্যতীত অন্য আযান ছিল না, আর জুমু'আর দিনে যখন ইমাম (মিম্বরের উপর) বসতেন তখন উক্ত আযান দেওয়া হতো।
হাদিস 1394 — Sunan an Nasai 14:31
সহিহসহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ كَانَ بِلاَلٌ يُؤَذِّنُ إِذَا جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَإِذَا نَزَلَ أَقَامَ ثُمَّ كَانَ كَذَلِكَ فِي زَمَنِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضى الله عنهما .
। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু'আর দিনে মিম্বরের উপর বসতেন, তখন বিলাল (রাঃ) আযান দিতেন এবং যখন তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করতেন তখন ইকামাত দিতেন। তারপর এরূপ আবূ বকর এবং উমর (রাঃ)-এর যুগেও (প্রচলিত) ছিল।
। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আমর ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ এমন সময় আসে যখন ইমাম (খুতবা দেওয়ার জন্য) রের হয়ে আসে, তবে সে যেন দু’রাক-আত সালাত আদায় করে নেয়। রাবী শু’বা (রাঃ) বলেন, জুমু’ আর দিনে।
হাদিস 1396 — Sunan an Nasai 14:33
সহিহসহিহIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادِ بْنِ الأَسْوَدِ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَطَبَ يَسْتَنِدُ إِلَى جِذْعِ نَخْلَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ فَلَمَّا صُنِعَ الْمِنْبَرُ وَاسْتَوَى عَلَيْهِ اضْطَرَبَتْ تِلْكَ السَّارِيَةُ كَحَنِينِ النَّاقَةِ حَتَّى سَمِعَهَا أَهْلُ الْمَسْجِدِ حَتَّى نَزَلَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاعْتَنَقَهَا فَسَكَتَتْ .
। আমর ইবনু সাওয়্যাদ ইবনু আসওয়াদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন, মসজিদের খেজুর বৃক্ষের স্তম্ভের সাথে ঠেস দিতেন। তারপর যখন মিম্বর প্রস্তুত হয়ে গেল, এবং তিনি তাতে বসলেন, তখন উক্ত খেজুর বৃক্ষের স্তম্ভটি উটনীর ন্যায় ক্রন্দন কবতে লাগল। এমন কি তা মসজিদের মুসল্লিরাও শুনতে ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত স্তম্ভের দিকে নেমে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন। তখন উক্ত স্তম্ভটি চুপ হয়ে গেল।