উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবাহ করেন শাওয়াল মাসে এবং শাওয়াল মাসেই আমাদের বাসর হয়। আর আয়েশা (রাঃ) শাওয়ালে মহিলাদের বাসর হোক এটা পছন্দ করতেন। তিনি বলতেনঃ তার কোন স্ত্রী, তাঁর নিকট আমার চাইতে অধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত?
আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম (রহঃ) ... আমির ইবন শারাহীল শাবী (রহঃ) বলেন, তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)-কে, যিনি প্রথম মহিলা হিজরত কারাণীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বলতে শুনেছেন, আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবীর মধ্যে আমার বিবাহের পয়গাম দিলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ক্রীতদাস উসামা ইবন যায়দ-এর জন্যও আমার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আর আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে আমাকে ভালবাসে সে যেন উসামাকে ভালবাসে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমার সাথে কথা বললেন, তখন আমি বললামঃ আমার ব্যাপার আপনার ইখতিয়ারে। আপনি যার সাথে ইচ্ছা আমার বিবাহ দিতে পারেন। তিনি বললেনঃ তুমি উম্মে শরীকের নিকট যাও। উম্মে শরীক সম্পদশালীণী আনসার মহিলা, আল্লাহর রাস্তায় অত্যধিক দানকারীণী। তার নিকট বহু অতিথি মেহমানের সমাগম হয়ে থাকে। আমি বললামঃ আচ্ছা আমি তাই করব। পরে তিনি বললেনঃ না, তার নিকট যেও না, কারণ উম্মে শরীকের নিকট বহু মেহমানের সমাগম ঘটে। হয়তো তোমার উড়না পড়ে যাবে। অথবা তোমার কাপড় সরে যাবে তোমার পায়ের গোছা হতে, আর লোকেরা তোমার এমন স্থান দেখে ফেলবে, যা তুমি দেখাতে চাও না। আর এটা আমার পছন্দ হয় না। তাই তুমি তোমার চাচাত ভাই আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উম্মে মাকতুম-এর নিকট যাও। সে বনী ফিহরের লোক। এরপর আমি তার নিকট গেলাম। (সংক্ষিপ্ত)
হাদিস 3238 — Sunan an Nasai 26:43
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَخْطُبْ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ بَعْضٍ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন অন্যের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।
হাদিস 3239 — Sunan an Nasai 26:44
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ مُحَمَّدٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَنَاجَشُوا وَلاَ يَبِعْ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَلاَ يَبِعِ الرَّجُلُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ وَلاَ يَخْطُبْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ وَلاَ تَسْأَلِ الْمَرْأَةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا لِتَكْتَفِئَ مَا فِي إِنَائِهَا " .
মুহাম্মদ ইবন মানসূর ও সাঈদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা একজনের দামের উপর বাড়িয়ে দাম বলবে না। আর কোন শহরবাসী কোন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্ৰী করবে না, একজনের খরিদ করার উপর অন্যজন খরিদ করার প্রস্তাব দিবে না। আর এক ভাইয়ের বিবাহের পয়গামের উপর বিবাহের প্রস্তাব দিবে না। আর কোন স্ত্রীলোক যেন তার (দীনী) বোনের তালাক না চায়, তার পাত্রে যা আছে তা নিজে ভোগ করার মানসে।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যেন তার ভাই-এর বিবাহের পয়গামের উপর পয়গাম না দেয়।
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার ভাই-এর বিবাহের পয়গামের উপর পয়গাম না দেয়, যে পর্যন্ত সে বিবাহ করে কিংবা ছেড়ে যায়।
হাদিস 3242 — Sunan an Nasai 26:47
-সহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَخْطُبْ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি যেন তার অন্য ভাই-এর বিবাহের পয়গামের উপর বিবাহের পয়গাম না দেয়।
ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... ইবন জুরাইজ (রহঃ) বলেন, আমি নাফি (রহঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেনঃ কারও খরিদ করার উপর অন্য কারোর খরিদ করার প্রস্তাব দিতে এবং একজনের বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্যজনের প্রস্তাব দিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যে পর্যন্ত না ঐ প্রথম প্রস্তাবক ছেড়ে যায় অথবা তাকে অনুমতি দেয়।
হাজিব ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... হারিছ ইবন আবদুর রহমান ও মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন সাওবান (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তারা উভয়ে ফাতিমা বিনতে কায়সকে তার ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেনঃ আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়। সে আমাকে কিছু খোৱাক দিত। আমি বললামঃ আল্লাহর কসম যদি খোরাক ও থাকার বাসস্থান আমার প্রাপ্য হয়ে থাকে, তবে আমি তা চাইব। আমি ইহা গ্রহণ করব না। উকিল বললোঃ তোমার জন্য কোন খোরাক ও থাকার ঘর নেই। তখন আমি বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইহা জানালাম। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য খোরাক ও বাসস্থান নেই, তুমি অমুক স্ত্রীলোকের কাছে থেকে ইদ্দত পালন কর। সে বললোঃ তার নিকট তার সাথীরা আসা-যাওয়া করে। এরপর তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি উম্মে মাকতুমের নিকট থেকে ইদ্দত পূৰ্ণ কর। কেননা সে একজন অন্ধ ব্যক্তি। যখন তুমি ইদ্দত পূর্ণ করবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, আমি হালাল হয়ে তাকে সংবাদ দিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কে কে তোমার বিবাহের পয়গাম দিয়েছে? আমি বললামঃ মুআবিয়া এবং অন্য একজন কুরায়শী ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুআবিয়া তো কুরায়শী যুবকদের মধ্যে একজন যুবক, তার কোন সম্পদ নেই। আর অন্য ব্যক্তি একজন মন্দ লোক, তার মধ্যে কোন মঙ্গল নেই; বরং তুমি উসামাকে বিবাহ কর। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ আমি তা পছন্দ করলাম না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তিনবার বললেন। এরপর আমি তাকে বিবাহ করলাম।
মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) বলেন, আবু আমর ইবন হাফস তাকে তিন তালাক দিয়ে ফেললেন, আর তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। তিনি তার উকিলকে কিছু যব দিয়ে তার নিকট পাঠালেন। কিন্তু ফাতিমা এতে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমাদের উপর তোমার কোন পাওনা নেই। ফাতিমা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে এসকল কথা ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, তোমার কোন খোরাক পাওনা নেই। তিনি তাকে উম্মে শরীকের ঘরে থেকে ইদত পূর্ণ করতে আদেশ করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ ঐ মেয়ে লোক এমন যার কাছে আমার সাহাবীগণ বেশি যাতায়াত করে। বরং তুমি ইবন উম্মে মাকতুম-এর নিকট থেকে ইদ্দত পূৰ্ণ কর। সে একজন অন্ধ ব্যক্তি। তুমি তোমার উত্তম কাপড়-চোপড় খুলে রাখবে। যখন তুমি ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ যখন আমি ইদ্দত পূর্ণ করলাম, তখন তার নিকট বললামঃ মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান এবং জাহাম আমার বিবাহের পয়গাম দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবু জাহাম তো এমন ব্যক্তি, যে কখনও স্কন্ধ হতে লাঠি নামিয়ে রাখে না। অর্থাৎ সে স্ত্রীকে কষ্ট দেয়। আর মুআবিয়া তো নিঃস্ব, তার কোন মাল-সম্পদ নেই। আমি তা অপছন্দ করলাম। তিনি পুনরায় বললেন উসামা ইবন যায়দকে বিবাহ কর । এরপর "আমি তাকে বিবাহ করলাম। আল্লাহ তাতে মঙ্গল দান করলেন। তাকে নিয়ে আমি গর্ব করতে পারি।