আহমাদ ইবন আবুল ওয়াহিদ (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) বলেন, আবূ বকর ইবন হাযম (রহঃ) একটি চামড়ার পত্র নিয়ে আসেন যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে লিখিত হয়েছিল। তাতে লেখা ছিলঃ “ইহা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে বর্ণনা : হে ঈমানদারগণ! তোমার অঙ্গীকার পূর্ণ কর।” এরপর কয়েকটি আয়াত বর্ণিত হয়েছে। তারপর তিনি বলেনঃ প্রাণের বিনিময়ে একশত উট, আর চক্ষুতে পঞ্চাশ উট, হাতের বদলে পঞ্চাশ উট, পা-এর পরিবর্তে পঞ্চাশ উট, আর যে যখম হাঁড়ের মগজ পর্যন্ত পৌছে, তাতে এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত। আর যে যখম পেটের ভিতর পৌছে, তাতে এক-তৃতীয়াংশ, আর যে যখমে হাঁড় স্থানচ্যুত হয়, তাতে পনর উট, আর আঙ্গুলে দশ-দশটি উট, আর দাঁতে পাঁচ উট। আর যে যখমে হাঁড় দেখা দেয়, তাতে পাঁচ উট।
হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন হাযম (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ দিয়াত সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবন হাযমের জন্য যে পত্র লিখেন, তাতে ছিলঃ প্রাণের পরিবর্তে এক শত উট, আর পূর্ণ নাকের জন্য একশত উট, আর যে যখম মগজ পর্যন্ত পৌছে, তাতে এক-তৃতীয়াংশ এবং যে যখম পেট পর্যন্ত পৌছে, তাতেও দ্রুপ। আর হাতের জন্য পঞ্চাশ উট, চোখের জন্য পঞ্চাশ এবং পায়ের জন্য পঞ্চাশ। প্রত্যেক আঙুলের জন্য দশ উট, আর দাঁতের জন্য পাঁচ উট এবং যে যখমে হাঁড় প্রকাশ পায়, তাতে পাঁচ উট।
হাদিস 4858 — Sunan an Nasai 45:153
সহিহ Isnaadসহিহ IsnaadIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، أَتَى بَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَلْقَمَ عَيْنَهُ خُصَاصَةَ الْبَابِ فَبَصُرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَتَوَخَّاهُ بِحَدِيدَةٍ أَوْ عُودٍ لِيَفْقَأَ عَيْنَهُ فَلَمَّا أَنْ بَصُرَ انْقَمَعَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَمَا إِنَّكَ لَوْ ثَبَتَّ لَفَقَأْتُ عَيْنَكَ " .
আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরজায় এসে ছিদ্রে চক্ষু লাগিয়ে দেখতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতে পেয়ে একখণ্ড কাঠ অথবা লোহা নিয়ে তার চোখ ছুঁড়ে দিতে ইচ্ছা করলেন। সে তা দেখে নিজের চোখ সারিয়ে নেয়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি সেখানে চোখ রাখতে, তবে আমি তা ফুঁড়ে দিতাম।
হাদিস 4859 — Sunan an Nasai 45:154
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَجُلاً اطَّلَعَ مِنْ جُحْرٍ فِي بَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِدْرَى يَحُكُّ بِهَا رَأْسَهُ فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ تَنْظُرُنِي لَطَعَنْتُ بِهِ فِي عَيْنِكَ إِنَّمَا جُعِلَ الإِذْنُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাঃ) বলেন, এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরের ছিদ্রপথে দেখছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একখণ্ড কাষ্ঠ ছিল, যা দিয়ে তিনি তাঁর মাথা চুলকাতেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে দেখলেন, তখন বললেনঃ যদি আমি জানতে পারতাম যে, তুমি আমাকে দেখছো, তবে আমি তোমার চোখে এই কাষ্ঠ ঢুকিয়ে দিতাম। অনুমতি গ্রহণের বিধান তোমরা দেওয়া হয়েছে এজন্যই যাতে উঁকি মেরে দেখতে না হয়।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যদি কারো ঘরে তার বিনা অনুমতিতে উঁকি মারে আর ঘরের মালিক তার চোখ ফুঁড়ে দেয়, তবে সে দিয়াত এবং বদলা কিছুই পাবে না।
মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি অনুমতি ব্যতীত তোমার দিকে উঁকি মারে আর তুমি পাথর নিক্ষেপ করে ঐ ব্যক্তির চোখ ফুটা কর, তবে তাতে তোমার কোন পাপ হবে না।
মুহাম্মাদ ইবন মুসআব (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, একদা তিনি নামায পড়ছিলেন, এমন সময় মারওয়ানের পুত্র তার সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি নিষেধ করা সত্ত্বেও সে মানলো না। তখন আবু সাঈদ (রাঃ) তাকে মারলেন। সে কাঁদতে কাঁদতে মারওয়ানের নিকট গেল। মারওয়ান আবু সাঈদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি আপনার ভাইয়ের ছেলেকে কেন মারলেন? আবু সাঈদ (রাঃ) বললেনঃ আমি তাকে মারিনি, বরং শয়তানকে মেরেছি। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যদি তোমাদের কারো নামায পড়ার সময় তোমাদের সামনে দিয়ে কেউ অতিক্রম করতে চায়, তবে যতটুকু সম্ভব তাকে বাধা দেবে। যদি সে না মানে, তবে তার সাথে যুদ্ধ করবে; কেননা সে শয়তান।
আবূ আব্দুর রহমান (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবযা (রাঃ) আমাকে আদেশ করলেন, আমি যেন ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট দু'টি আয়াতের তাফসীর জিজ্ঞাসা করি। এক আয়াত হলঃ (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) "কেউ ইচ্ছাকৃত কোন মু'মিনকে হত্যা করলে ..."। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ এই আয়াত রহিত হয়নি। আর দ্বিতীয় আয়াত হলঃ (وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ) "আর যারা আল্লাহ্র সাথে অন্য কাউকে শরীক করে না ..." (সূরা ফুরকানঃ ৬৮–৭০) আমি এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেনঃ এই আয়াত মুশরিকদের সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে।
আযহার ইবন জামীল (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেন, (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) আয়াত রহিত হয়েছে কিনা এ সম্পর্কে কূফাবাসীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল। আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ এই আয়াতটি তো শেষদিকে অবতীর্ণ আয়াতসমূহের একটি। একে কোন আয়াতই রহিত করেনি।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তার তাওবা কবুল হবে কি? তিনি বললেনঃ না। আমি সূরা ফুরকানের (وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ) এ আয়াতের শেষ পর্যন্ত পাঠ করলাম। তিনি বললেনঃ এই আয়াতটি মক্কায় নাযিল হয়েছে। আর মদীনায় অবতীর্ণ সূরা বাকারার উপরিউক্ত আয়াত এটাকে রহিত করে