। আমর ইবনু সাওয়াদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আমি আমার বান্দাদের যে কোন নেয়ামত দান করি না কেন তাদের একদল ঐ নেয়ামতের অস্বীকারকারী হয়ে যায়। তারা বলে, নক্ষত্র আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেছে। নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।
। কুতায়বা (রহঃ) ... যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মানুষদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল। তখন তিনি বললেন, তোমরা কি শুনতে পাওনি, তোমাদের রব গত রাত্রে কি বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, আমি আমার বান্দাদের কোন নেয়ামত দান করলে তাদের একদল ঐ নেয়ামতের অস্বীকারকারী হয়ে যায়। তারা বলে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। অতএব, যারা আমার উপর ঈমান আনল এবং আমার বৃষ্টি বর্ষণ করার কারণে আমার প্রশংসা করল, তারাই আমার উপর ঈমান আনল। আর নক্ষত্রের মূল প্রভাবকে অস্বীকার করল। আর যারা বলে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। তারাই আমাকে অস্বীকার করল এবং নক্ষত্রের মূল প্রভাবের উপর বিশ্বাস স্থাপন করল।
। আব্দুল জব্বার ইবনু আলা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা যদি পাঁচ বছর তার বান্দাদের থেকে বৃষ্টি বন্ধ রাখেন তারপর তা পাঠান তাহলে মানুষের একদল কাফির হয়ে যাবে। তারা বলবে, মিজদাহ নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।
। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন (একবার) এক বৎসর বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল, তখন কোন কোন মুসলিম জুমআর দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দাঁড়িয়ে গেল এবং বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে এবং যমীন শুষ্ক হয়ে গেছে আর গবাদি পশুগুলো অকর্মণ্য হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তিনি তখন তার উভয় হাত উঠালেন। তখন আমরা আকাশে কোন মেঘ দেখছিলাম না। তিনি তার হস্তদ্বয় এমনিভাবে প্রসারিত করলেন যে, আমি তার উভয় বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া করছিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা জুমআর সালাত আদায় করে উঠতে পারিনি ইত্যবসরে (বৃষ্টির আধিক্য হেতূ) নিকটবর্তী ঘরের যুবকেরা তাদের ঘরে ফিরে যেতে উদ্যত হয়ে গেল। বৃষ্টি এক সপ্তাহ পর্যন্ত হল। যখন পরবর্তী জুমআর দিন আসল, লোকেরা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (বৃষ্টির আধিক্য হেতু) ঘর-বাড়ী তো ধীরে ধীরে ধ্বসে যাচ্ছে, আরোহীরা আটকা পড়েছে। তিনি বলেন, তখন তিনি ইবনু আদমের দ্রুত বিষণ্ণতার কারণে মুচকী হাসলেন এবং তার হস্তদ্বারা ইশারা করে বললেন, ইয়া আল্লাহ! তুমি বৃষ্টি আমাদের আশে পাশে বর্ষণ কর, আমাদের উপরে নয়। তখন মেঘ মদীনা থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল।
। মাহমুদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। এমত অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু'আর দিন মিম্বরের উপর খুতবা দিচ্ছিলেন। এক গ্রাম্য ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (ঘাস বিচালির সংকট হেতু) গবাদি পশুগুলো অকর্মণ্য হয়ে যাচ্ছে, আর পরিবারবর্গ ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছে। অতএব আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর সমীপে দোয়া করুন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হস্তদ্বয় উঠালেন। ঐ সময় আমরা আকাশে মেঘের কোন টূকরাও দেখতে পাচ্ছিলাম না। ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তিনি হস্তদ্বয় নামাতেও পারলেন না, ইত্যবসরে মেঘমালা পাহাড়ের ন্যায় বিস্তৃত হয়ে গেল। তার তিনি মিম্বর থেকে নামতেও পারছিলেন না, আমি দেখলাম, ইতিমধ্যে বৃষ্টি তাঁর দাড়ি বেয়ে ফৌটায় ফোটায় গড়িয়ে পড়ছে। সে দিন, পরবর্তী দিন এবং তার পরের দিন থেকে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল। রাবী বলেন, তখন উক্ত গ্রাম্য ব্যক্তি অথবা অন্য এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (বৃষ্টির আধিক্য হেতু) ঘর-বাড়ী তো ধীরে ধীরে বিধবস্ত হয়ে যাচ্ছে এবং গবাদী পশুগুলো ডুবে যাচ্ছে। অতএব, আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর সমীপে দোয়া করুন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হস্তদ্বয় উঠালেন এবং বললেন, ইয়া আল্লাহ! তুমি আমাদের আশে পাশে বৃষ্টি বর্ষণ কর, আমাদের উপরে নয়। তিনি তার হাত দ্বারা মেঘমালার কোন খন্ডের দিকে ইশারা করতেই তা এমনভাবে বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল যাতে মদীনার (আকাশ) একটি বড় গর্তের মত দেখাচ্ছিল। (অর্থাৎ মদীনার আকাশের চতুষ্পার্শে মেঘমালা এমনভাবে বিস্তৃত হলো যে, মদীনা বরাবর আকাশ একটি গোলাকার গর্তের ন্যায় মেঘমুক্ত হলো এবং মাঠে ময়দানে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হচ্ছিল আর মদীনার আশ-পাশ থেকে যারাই আসছিল তারাই বৃষ্টির আধিক্যের সংবাদ দিচ্ছিল।)