। কুতায়বা (রহঃ) ... সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) সূত্রে মোজার উপর মসেহ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, মোজার উপর মসেহ করাতে কোন অসুবিধা নেই।
। আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ... মুগীরা ইবনু শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) পায়খানা-পেশাবের প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি যখন প্রত্যাবর্তন করেন তখন আমি পানির পাত্র নিয়ে উপস্থিত হই। আমি তাঁকে পানি ঢেলে দেই, তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন। (প্রথমে) হাতের কবজি পর্যন্ত ধৌত করেন। পরে মুখমন্ডল ধৌত করেন। তারপর কনুই পর্যন্ত হাত ধুতে চান। কিন্তু জামার হাতা চিকন হওয়াতে তা পারেন নি। তাই জুব্বার (জামার) নিচ দিয়ে হাত বের করেন কনুই পর্যন্ত ধৌত করেন এবং মোজার উপর মসেহ করেন। এরপর আমাদের সঙ্গে নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। সহীহ, (কিন্তু "তিনি আমাদের সাথে নিয়ে নামায পড়েন" এ অংশটুকু ভুল। কেননা এ ঘটনায় তিনি ইবনু আওফের পিছনে নামায আদায় করেছিলেন। যেমনটি পূর্বের ৮২ নং হাদীসে বর্ণিত আছে।)
। কুতা’ইয়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ... মুগীরাহ (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রয়োজন সমাধার জন্য বের হলেন। মুগীরা (রাঃ) পানির পাত্র নিয়ে তার অনুগমন করলেন। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রয়োজন সামাধার পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং মোজার উপর মসেহ করেন। উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় মুগীরা (রাঃ) তাঁকে পানি ঢেলে দেন।
হাদিস 125 — Sunan an Nasai 1:125
সহিহ Isnaadসহিহ Isnaad
(ক) মুহাম্মদ ইবনু মনসুর (রহঃ) ... মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এক সফরে নবী এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে বলেনঃ হে মুগীরা! তুমি পেছনে থাক এবং (লোকদের বললেন,) হে লোক সকল! তোমরা চলতে থাক। আমি (কাফেলার) পেছনে থাকলাম, আমার সঙ্গে পানির একটি পাত্র ছিল। লোকেরা চলে গেলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রয়োজন সমাধার জন্য গেলেন। তিনি যখন ফিরে আসেন তখন আমি তাঁকে (উযূর জন্য) পানি ঢেলে দিতে থাকি। তার পরনে চিকন হাতাওয়ালা একটি রূমী জুব্বা ছিল। তিনি তার হাত বের করতে চাইলেন কিন্তু জামার হাতা চিকন হওয়ার কারণে পারলেন না। ফলে জুব্বার নিচের দিক দিয়ে হাত বের করেন। তারপর মুখমন্ডল ও হাত ধৌত করেন এবং মাথা ও মোজার উপর মসেহ করেন। সহীহ। [পূর্বোক্ত হাদিস দ্রঃ] ১২৫ (খ) মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জওরাবাহ (সুতি মোজা) এবং জুতোর উপর মাসাহ করেছেন। আবূ আবদুর রহমান বলেন, এই বর্ণনায় কেউ আবূ কাইস এর অনুসরণ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মুগীরাহ হতে সঠিক বর্ণনা এই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার উপর মাসাহ করেছিলেন। সহীহ, ইবনু মাজাহ হাঃ ৫৫৯, ইরউয়াউল গালীল হাঃ ১০১।
হাদিস 126 — Sunan an Nasai 1:127
হাসানহাসানহাসান
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ، قَالَ رَخَّصَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا كُنَّا مُسَافِرِينَ أَنْ لاَ نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ .
। কুতায়বা (রহঃ) ... সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে, আমরা যখন সফরে থাকি তখন আমাদের মোজা তিন দিন তিন রাত না খোলার অনুমতি দিয়েছেন।
। আহমদ ইবনু সুলায়মান রাহাভী (রহঃ) ... যির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) কে মোজার উপর মসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলাম। তিনি বলেছিলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করতেন, আমরা যখন সফররত অবস্থায় থাকি তখন যেন মোজার উপর মসেহ করি এবং জানাবাতের অবস্থা ব্যাতীত, পায়খানা-পেশাব অথবা নিদ্রার কারণে তিনদিন তা না খুলি।
হাদিস 128 — Sunan an Nasai 1:129
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَنْبَأَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلاَئِيِّ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْمُسَافِرِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ يَعْنِي فِي الْمَسْحِ .
। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসেহের ব্যাপারে মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকীমের জন্য একদিন এক রাত সময় নির্ধারণ করেছেন।
। হান্নাদ ইবনু সাররী (রহঃ) ... শুরাইহ ইবনু হানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাঃ) কে মোজার উপর মসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ আলী (রাঃ) এর নিকট যাও, তিনি এ ব্যাপারে আমার থেকে অধিক জ্ঞাত। তারপর আমি আলী (রাঃ) এর নিকট গেলাম এবং তাকে মাসাহর ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ করতেন যে, মুকীম একদিন একরাত ও মূসাফির তিনদিন তিনরাত মসেহ করবে।
। আমর ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) আবদুল মালিক মায়সারা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাযযাল ইবনু সাবরাহকে বলতে শুনেছি যে, আমি আলী (রাঃ) কে দেখলাম যে, তিনি যোহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং জনসাধারণের প্রয়োজন পূরণার্থে বসলেন। যখন আসরের সময় উপস্থিত হল তখন তার নিকট একটি পানির পাত্র আনা হল। তিনি তা হতে এককোষ পানি নিলেন এবং তা দ্বারা মুখমন্ডল, হস্তদ্বয়, মাথা এবং উভয় পা মসেহ করলেন। পরে দাঁড়িয়ে উদ্বৃত্ত পানি পান করলেন এবং বললেনঃ অনেক লোক এরূপ পান করাকে খারাপ মনে করে। অথচ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি। আর এটা হল ঐ ব্যাক্তির উযূ, যার উযূ (ওজু/অজু/অযু) ভঙ্গ হয়নি।