। ইয়াহয়া ইবনু হাবীব আরাবী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ, অন্য লোকদের বাদ দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বিশেষভাবে কোন বিষয়ে বলেননি, তিনটি বিষয় ব্যতীতঃ (১) তিনি আমাদের পরিপূর্ণভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার নির্দেশ দিয়েছেন; (২) আমাদের সা’দকা খেতে নিষেধ করেছেন; (৩) নিষেধ করেছেন গাধাকে ঘোড়ার উপর পাল দিতে।
হাদিস 142 — Sunan an Nasai 1:143
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের এমন বস্তুর সন্ধান দিবনা, যা দ্বারা আল্লাহ তা’য়ালা গুনাহসমূহ দূর করে দিবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন? তা হল, কষ্ট অবস্থায়ও পূর্ণরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচালনা করা, আর এক সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর অন্য সালাত (নামায/নামাজ)-এর অপেক্ষায় থাকা। এটাই রিবাত, এটাই রিবাত, এটাই রিবাত।* অর্থাৎ ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেয়ার ন্যায় সওয়াব এতে রয়েছে।
। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আসিম ইবনু সাকাফী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা ‘সুলাসিল’ যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন কিন্তু যুদ্ধ করার সুযোগ পাননি। পরে তার শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রইলেন এবং মুআবিয়া (রাঃ) এর নিকট প্রত্যাবর্তন করলেন। তখন তার নিকট আবূ আইয়্যুব এবং উকবা ইবনু আমির ছিলেন। তখন আসিম বললেন, হে আবূ আইয়্যুব! এ বৎসর আমরা যুদ্ধ করার সুযোগ পেলাম না। আর আমাদের সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, যে ব্যাক্তি চারটি মসজিদে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তার পাপ মার্জনা করা হবে। তিনি বললেনঃ হে ভাতিজা! আমি কি এর চেয়ে সহজতর পন্থা বলে দিব না? আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি নির্দেশ মোতাবেক উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে আর নির্দেশ মোতাবেক সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তার পূর্বেকার পাপ ক্ষমা করা হবে। সত্যি কি তাই হে উকবা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাই।
। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... হুমরান ইবনু আবান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ বুরদা (রহঃ) কে মসজিদে এ মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উসমান (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত করতে শুনেছেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পন্ন করবে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের জন্য কাফফারা স্বরূপ গণ্য হবে।
হাদিস 146 — Sunan an Nasai 1:147
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حُمْرَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّ عُثْمَانَ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنِ امْرِئٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يُصَلِّي الصَّلاَةَ إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلاَةِ الأُخْرَى حَتَّى يُصَلِّيَهَا " .
। কুতায়বা (রহঃ) ... উসমান (রাঃ) এর আযাদকৃত দাস হুমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উসমান (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি সুন্দরভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এবং পরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, তার এ সালাত ও পরবর্তী সালাত আদায়ের মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মাফ করে দেওয়া হবে।
। আমর ইবনু মনসূর (রহঃ) ... মুআবিয়া ইবনু সালেহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ ইয়াহয়া সুলায়ম ইবনু আমির, যামরাহ ইবনু হাবীব এবং আবূ তালহা নুয়ায়ম ইবনু যিয়াদ (রহঃ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমরা আবূ উমামা বাহিলী (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! উযূ (ওজু/অজু/অযু) কিরূপ করতে হয়? তিনি বললেন, উযূ! তুমি যখন উযূ কর এবং তোমার হস্ত তালুদ্বয় ধৌত কর এবং পরিস্কার করে ধৌত কর তখন তোমার পাপসমুহ তোমার নখের ভিতর হতে এবং তোমার আঙ্গুলির অগ্রভাগ হতে বের হয়ে যায়। এবং যখন তুমি কুলি কর এবং নাকের ভিতরকার অংশ ধৌত কর এবং তোমার মুখমন্ডল ধৌত কর এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর এবং মাথা মসেহ কর এবং গোড়ালী পর্যন্ত পা ধৌত কর, তখন তুমি তোমার সাধারণ পাপসমূহ ধুয়ে ফেললে। আর যখন তুমি তোমার মুখমন্ডল আল্লাহ তা’আলার জন্য স্থাপন কর, তখন তুমি তোমার পাপ হতে ঐ দিনের মত মুক্ত হয়ে যাও, যেদিন তোমার জননী তোমাকে জন্ম দিয়েছিল। আবূ উমামা বলেনঃ আমি বললাম, হে আমর ইবনু আবাসাহ! দেখ তুমি কি বলছ। একই মজলিসে এ সব কিছু দান করা হয়? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়েছি আর আমার মৃত্যু নিকটবর্তী। আর আমার কোন অভাবও নেই, এমতাবস্থায় কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পর্কে মিথ্যা বলবো? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার উভয় কান তা শ্রবণ করেছে এবং আমার অন্তর তা স্মরণ রেখেছে।
। মুহাম্মদ ইবনু আলী ইবনু হারব মারওয়াযী (রহঃ) ... উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে আর বলেঃ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তার বান্দা ও রাসূল” তার জন্য বেহেশতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করবে।
। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছিলেন। আর আমি তাঁর পেছনে ছিলাম, তিনি তার হস্তদ্বয় ধৌত করছিলেন তাঁর বগল পর্যন্ত, তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আবূ হুরায়রা! এ কোন ধরনের উযূ? তিনি আমাকে বললেনঃ হে ফররূখের বংশধর! তোমরা এখানে? যদি আমি পূর্বে জানতাম যে, তোমরা এখানে আছ তাহলে আমি এরূপ উযূ করতাম না। আমি আমার বন্ধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, মুমিনের জ্যোতি ঐ পর্যন্ত পৌছবে, যে পর্যন্ত উযূর পানি পৌছে।
। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কবরস্থানের দিকে গেলেন। (তথায় উপস্থিত হয়ে) তিনি বললেনঃ হে মুমিন সম্প্রদায়ের ঘরের অধিবাসী! তোমাদেরকে সালাম, আমরাও ইনশাল্ললাহ তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমি আশা করি আমার ভ্রাতৃবৃন্দকে দেখতে পাব। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি আপনার ভ্রাতা নই? তিনি বললেনঃ বরং তোমরা আমার সাহাবী। আর আমার ভ্রাতৃবৃন্দ হল যারা পরবর্তীকালে আসবে, আর আমি হাউযে কাওসারে তাদের অগ্রবর্তী হব। তারা বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার যেসকল উম্মত পরবর্তীকালে আগমন করবে, আপনি তাদের কিভাবে চিনবেন? তিনি বললেনঃ তোমরা বল তো, যদি কোন ব্যাক্তির একদল কালো ঘোড়ার মধ্যে সা’দা চেহারা ও সা’দা পদবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে, তবে কি সেই ব্যাক্তি তার ঘোড়া চিনে নিতে পারবে না? তারা বলেনঃ নিশ্চয়ই। তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন উযূর দরুণ তাদের হস্তপদ উজ্জ্বল হবে। আর আমি হাউযে কাওসারে তাদের আগে গিয়ে অপেক্ষা করব।