। ঈসা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ... উরওয়াহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁর রক্তক্ষরণ জনিত সমস্যার কথা জানালেন। রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ এটা একটি শিরা মাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়)। অতএব লক্ষ্য রাখবে যখন তোমার হায়য উপস্থিত হয়, তখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হতে বিরত থাকবে। আর যখন তোমার হায়য অতিবাহিত হয় এবং তুমি পবিত্র হও, তখন তুমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে এবং এক হায়য থেকে অন্য হায়যের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত। এ হাদীস হতে বুঝা যায়, (الأَقْرَاءَ) ‘আকরা’ এখানে হায়য অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আবূ আবদুর রহমান বলেনঃ হিশাম ইবনু উরওয়া (রহঃ) এ হাদীসটি উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মুনযীর (রাবী) তাতে এ (হায়য) সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা তিনি উল্লেখ করেন নি।
। ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ফাতিমা বিনতে আবী হুবায়শ (রাঃ) রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ আমি একজন ইস্তিহাযা আক্রান্ত মহিলা; আমি পাক হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করব? তিনি বললেনঃ না। এটা হায়য নয়। এটা একটা শিরার রক্ত মাত্র। যখন তোমার হায়য আরম্ভ হবে তখন সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দিবে। যখন তা অতিবাহিত হয় তখন রক্ত ধুয়ে সালাত আদায় করবে।
। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় একজন ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীকে বলা হয়েছিল যে, এটা একটা শিরামাত্র যার রক্ত বন্ধ হয় না। তাকে আদেশ করা হয়েছিল, সে যেন যোহর সালাতকে পিছিয়ে শেষ ওয়াক্তে এবং আসর সালাতকে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করে এবং উভয় সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য একবারই গোসল করে এবং মাগরিবকে শেষ ওয়াক্তে এবং ঈশাকে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করে এবং এ দুই সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য একবারই গোসল করে। আর ফজরের সালাত এর জন্য একবার গোসল করে।
। মুহাম্মদ ইবনু কুদামাহ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আসমা বিনতে উমায়স (রাঃ) এর হাদীসে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন যুল হুলায়ফা নামক স্থানে নিফাসগ্রস্ত হলেন, তখন রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ) কে বললেনঃ তাকে (আসমা বিনতে উমায়স) গোসল করে ইহরাম বাঁধতে বল।
। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... ফাতেমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর ইস্তিহাযা হলে রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ যখন হায়যের রক্ত হয়, যা কাল রক্ত, চেনা যায়, তখন তুমি সালাত (নামায/নামাজ) থেকে বিরত থাকবে, আর যখন অন্য রক্ত হয় তখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিবে। কেননা তা একটি শিরামাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়)।
। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতেমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাঃ) এর ইস্তিহাযা হলে রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ হায়যের রক্ত কালো বর্ণের হয়ে থাকে যা সহজে চেনা যায়। যখন এ রক্ত দেখা দেবে তখন সালাত (নামায/নামাজ) থেকে বিরত থাকবে, আর যখন অন্য রক্ত দেখা দেবে তখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। আবূ আবদুর রহমান বলেন, এ হাদিসটি অনেকেই বর্ণনা করেছেন, তবে ইবনু আবী আদী যা উল্লেখ করেছেন, "হায়যের রক্ত কালো যা সহজে চেনা যায়" অন্য আর কেউ তা উল্লেখ করেননি। আল্লাহই ভাল জানেন।
। ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ইবনু আরাবী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ফাতিমা বিনত আবূ হুবায়শ (রাঃ) এর ইস্তিহাযা হলে তিনি রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার ইস্তিহাযা হয়, অতএব আমি পাক হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করব? রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা হায়য নয় (বরং এটা একটি শিরা মাত্র যা হতে রক্ত নির্গত হয়)। অতএব যখন হায়য দেখা দেয় তখন নামায পড়বে না। আর যখন হায়েয বন্ধ হবে তখন রক্তের চিহ্ন ধৌত করবে এবং ওযু করবে। কারণ এটি হায়েয নয়, বরং তা একটি সিরার রক্ত মাত্র। তাঁকে প্রশ্ন করা হলঃ হায়য বন্ধ হওয়ার পর কি গোসল করতে হবে? তিনি বললেনঃ এতে কারও সন্দেহ থাকতে পারেনা। আবূ আবদুর রহমান বলেন, হাম্মাদ ইবনু যাইদ ব্যতীত অন্য কেউ এ হাদিসে "তুমি ওযু করে নিবে" এ কথাটি উল্লেখ করেছেন বলে আমার জানা নেই। তিনি ব্যতিত আরও অনেকে এটি হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে কেউই তুমি ওযু করে নেবে কথাটি উল্লেখ করেন নি।
হাদিস 218 — Sunan an Nasai 1:219
সহিহসহিহসহিহ Bukhari
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ فَإِذَا ذَهَبَ قَدْرُهَا فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي " .
। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনতে আবূ হুবায়শ (রাঃ) রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি পবিত্র হই না, আমি কি নামায ত্যাগ করব? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এটা একটা শিরামাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়), এটা হায়য নয়। যখন হায়য দেখা দিবে তখন সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করবে আর যখন হায়যের মুদ্দত অতিবাহিত হবে, তখন গোসল করে রক্ত দূর করবে এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।
। আবূল আশআছ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুবায়শের কন্যা বলেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি পাক হই না, অতএব আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করব? তিনি বললেনঃ না, এটা একটা শিরামাত্র (যা হতে রক্ত নির্গত হয়)। খালিদ বললেনঃ আমি তার নিকট যা পাঠ করেছি তাহলো, তা হায়য নয়, অতএব যখন হায়য আসে তখন সালাত ছেড়ে দিবে আর যখন শেষ হয়ে যায় তখন গোসল করে সালাত আদায় করবে।
। সুলায়মান ইবনু দা’ঊদ ও হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... বুকায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ সায়িব তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন জানাবাত অবস্থায় বদ্ধ পানিতে গোসল না করে।