أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنَاوِلُنِي الإِنَاءَ فَأَشْرَبُ مِنْهُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُعْطِيهِ فَيَتَحَرَّى مَوْضِعَ فَمِي فَيَضَعُهُ عَلَى فِيهِ .
। মুহাম্মদ ইবনু মানসুর (রহঃ) ... মিকদাম ইবনু সুরাইয়া তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাত্র দিতেন আমি তা থেকে পান করতাম অথচ তখন আমি ঋতুমতী। তারপর আমি তাকে সে পাত্র দিতাম আর তিনি আমার পান করার জায়গা তালাশ করে সে জায়গায় তাঁর মুখ রাখতেন।
হাদিস 282 — Sunan an Nasai 1:283
সহিহসহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، وَسُفْيَانُ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ وَأُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ وَأُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ .
। মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হায়য অবস্থায় পাত্র থেকে পান করতাম এবং তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিতাম। আমি যেখানে মুখ রেখে পান করতাম তিনি সেখানে মুখ রাখতেন। আমি হায়য অবস্থায় হাড় চিবাতাম তারপর তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিতাম। আর তিনি আমার মুখ রাখার স্থানে মুখ রাখতেন।
। ইসমাইল ইবনু মাসউদ (রহঃ) উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একই চাঁদরে শায়িত ছিলাম, হঠাৎ আমার হায়য দেখা দিল। আমি সরে পড়লাম এবং আমার হায়যের কাপড় পরিধান করলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তুমি কি ঋতুমতী হয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি আমাকে ডাকলেন আর আমি তাঁর সঙ্গে একই চাঁদরে শয়ন করলাম।
। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই চাঁদরে রাত্রিযাপন করতাম অথচ তখন আমি ঋতুমতী। যদি আমার কোন কিছু তাঁর শরীরে লাগত, তখন তিনি ঐ স্থানই ধুয়ে নিতেন এবং এর বেশি ধুতেন না। আর এ অবস্থাতেই তিনি সালাত আদায় করতেন, আবার তিনি বিছানায় ফিরে আসতেন। যদি আমার কোন কিছু তার শরীরে লাগত, তবে তিনি শরীরের ঐ অংশটুকুই ধুতেন এর বেশী ধুতেন না। আর এ অবস্থাতেই তিনি নামায পড়তেন।
হাদিস 285 — Sunan an Nasai 1:286
সহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ إِحْدَانَا إِذَا كَانَتْ حَائِضًا أَنْ تَشُدَّ إِزَارَهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا .
। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাদের কেউ ঋতুমতী অবস্থায় থাকলে রাসুলুল্লাহ তাকে ইযার (হায়যের কাপড়) পরার আদেশ দিতেন। তারপর তিনি তাঁর শরীরের সাথে শরীর লাগাতেন।
হাদিস 286 — Sunan an Nasai 1:287
সহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ إِحْدَانَا إِذَا حَاضَتْ أَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَتَّزِرَ ثُمَّ يُبَاشِرُهَا .
। ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাদের কেউ ঋতুমতী থাকলে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাঁর ইযার পরিধান করতে বলতেন। তারপর তিনি তাঁর শরীরে শরীর লাগাতেন।
। হারিস ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন সহধর্মিণীর হায়য অবস্থায় যখন তাঁর পরনে ইযার থাকত যা হাঁটু ও রানের মধ্যস্থল পর্যন্ত পৌঁছে, তখন তিনি তাঁর শরীরে শরীর মেলাতেন। লায়সের হাদিসে আছে, তিনি (সহধর্মিণী) ঐ ইযার দ্বারা (দেহের মধ্যাংশ) আবৃত করতেন।
হাদিস 288 — Sunan an Nasai 1:289
সহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَتِ الْيَهُودُ إِذَا حَاضَتِ الْمَرْأَةُ مِنْهُمْ لَمْ يُؤَاكِلُوهُنَّ وَلَمْ يُشَارِبُوهُنَّ وَلَمْ يُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ فَسَأَلُوا نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى } الآيَةَ فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُؤَاكِلُوهُنَّ وَيُشَارِبُوهُنَّ وَيُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ وَأَنْ يَصْنَعُوا بِهِنَّ كُلَّ شَىْءٍ مَا خَلاَ الْجِمَاعَ .
। ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ইয়াহুদিদের স্ত্রীরা যখন ঋতুমতী হত তখন তারা তাদের সাথে একত্রে পানাহার করত না এবং তারা ঘরে তাদের সাথে একত্রে অবস্থানও করত না। অতএব সাহাবীগন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন।তখন আল্লাহ্ তা’য়ালা - وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى আয়াতটি* নাযিল করলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আদেশ করলেন তারা যেন তাদের স্ত্রীদের সাথে পানাহার করে ও ঘরে একত্রে অবস্থান করে এবং তাদের সাথে সহবাস ব্যাতিত আর সব কিছু করা বৈধ মনে করে। এতে ইয়াহুদিরা বলল, আমাদের রীতিনীতির কোনটিরই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরোধিতা না করে ছাড়বেন না। উসায়দ ইবনু হুজায়র ও আব্বাদ ইবনু বিশর (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গমন করে এ কথাটি জানালেন এবং প্রশ্ন করলেন, আমরা হায়য অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে সহবাস করব কি? এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা রক্তিম হয়ে গেল, তখন তারা ধারনা করলেন যে, তিনি রাগান্বিত হয়েছেন এবং উভয়েই সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। ইত্যবসরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু হাদিয়ার দুধ গ্রহন করলেন। তখন তিনি সাহাবিদ্বয়-এর অনুসন্ধানে লোক পাঠালেন। তাদের দেকে আনা হল এবং উভয়কে তিনি দুধ পান করালেন। এতে জানা গেল যে, তাদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগ করেন নি।
হাদিস 289 — Sunan an Nasai 1:290
সহিহসহিহদাঈফ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مُقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّجُلِ يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ بِنِصْفِ دِينَارٍ .
। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ঐ ব্যাক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেনঃ যে ব্যাক্তি হায়য অবস্থায় স্ত্রী সঙ্গম করে, সে এক দিনার অথবা অর্ধ দিনার সা’দকা করবে। সহিহ, ইবনু মাজাহ হাঃ ৬৪০, আদবুয যিফাফ
হাদিস 290 — Sunan an Nasai 1:291
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ نُرَى إِلاَّ الْحَجَّ فَلَمَّا كَانَ بِسَرِفَ حِضْتُ فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ " مَا لَكِ أَنَفِسْتِ " . فَقُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ فَاقْضِي مَا يَقْضِي الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ " . وَضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نِسَائِهِ بِالْبَقَرِ .
। ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হাজ্জের (হজ্জ) নিয়তে বের হলাম। যখন আমরা সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আমার হায়য আসল। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন, তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি হল? তোমার কি হায়য হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ্ তা’আলা আদম কন্যাদের জন্য অবধারিত করেছেন। অতএব তুমি হাজ্জের (হজ্জ) সকল আহকাম আদায় কর তবে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী দিলেন।