রবী ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন হুরমুয (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি উসায়দ ইবন রাফে ইবন খাদীজা (রাঃ) হতে শ্রবণ করেছি, তিনি বলেন, তাদেরকে মুহাকালয হতে নিষেধ করা হয়েছে। মুহাকালার অর্থ হলো উৎপন্ন শস্যের কিয়দংশের বিনিময়ে জমি চাষ করতে দেওয়া।
। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি উমার (রাঃ) এর নিকট এসে বলল আমি জানবাতের অবস্থায় আছি কিন্তু পানি পাইনি। উমার (রাঃ) বললেনঃ তুমি সালাত আদায় করো না। একথা শুনে আম্মার ইবনু ইয়াসির বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার কি স্মরণ নেই, যে এক সময় আমি আর আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম, আমরা উভয়ে জুনুবী হয়ে পড়লাম, আর আমরা পানি পেলাম না। এতে আপনি সালাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম, তারপর সালাত আদায় করলাম। তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার নিকট ঘটনা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ ই যথেষ্ট ছিল। এ বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হস্তদ্বয় মাটিতে মারলেন এরপর তাতে ফুঁ দিলেন এবং তা দ্বারা তার চেহারা এবং উভয় হাত মসেহ করলেন। বর্ণনাকারী সালাম সন্দেহ করলেন এ ব্যাপারে তার মনে নেই কনুই পর্যন্ত বলেছেন নাকি কব্জি পর্যন্ত। এ কথা শুনে উমার (রাঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে তার দায়দায়িত্ব তোমার উপরেই অর্পণ করলাম।
। মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি জুনুবী হয়ে পড়লাম, তখন আমি ছিলাম উট পালের মধ্যে। এসময়ে আমি পানি পেলাম না। তখন আমি চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে এই সংবাদ জানালাম। এ রকম না করে বরং তায়াম্মুম করাই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল।
। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহিয়া ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আম্মার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষরাতে উলাতুল জায়শ নামক স্থানে যাত্রা বিরতি দিলেন। আর তার সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ)। তার ইয়ামানী মোতির হার হারিয়ে গেলে এর তালাশে সমস্ত লোক আটকা পড়ল। অবশেষে ভোর হয়ে গেল অথচ লোকদের পানি ছিল না। যদ্দরুন আবূ বকর (রাঃ) তার উপর রাগান্বিত হয়ে বললেনঃ তুমি লোকদের আটকিয়ে রেখেছ অথচ তাদের সাথে পানি নেই। তখন আল্লাহ তা'আলা তায়াম্মুম করার অনুমতি সংক্রান্ত আয়াত নাযিল করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মুমিনগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে উঠে মাটিতে নিজেদের হাত মারলেন আর তাদের হাত উঠালেন এবং হাত থেকে মাটি একটুও ঝাড়লেন না, বরং তা দ্বারা তাদের চেহারা ও হাত (উপরের দিক থেকে) কাঁধ পর্যন্ত মাসেহ করলেন আর তাদের হাতের নিচ দিক থেকে বগল পর্যন্ত মাসেহ করলেন।
। আব্বাস ইবনু আবদুল আযীয আম্বারী (রহঃ) ... আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাটি দ্বারা তায়ম্মুম করলাম। এতে আমাদের চেহারা এবং কাঁধ পর্যন্ত আমাদের হাত মাসেহ করেছিলাম।
। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা উমার (রাঃ) নিকট ছিলাম। তার কাছে এক ব্যাক্তি এসে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! অনেক সময় আমরা এক মাস বা দুই মাস পর্যন্ত কোথাও অবস্থান করি আর আমরা পানি পাই না। উমার (রাঃ) বললেন, আমি পানি না পেলে সালাত আদায় করবার নই, যাবৎ না পানি পাই। তখন আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) বললেনঃ হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার মনে আছে কি, যখন আমরা অমুক অমুক স্থানে ছিলাম আর আমরা উট চরাতাম, আপনি জানেন যে আমরা জানবাতগ্রস্ত হলাম। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি হেসে বললেনঃ মাটই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল, আর তিনি উভয় হাত মাটিতে মারলেন এবং তাতে ফুঁ দিলেন। তারপর তিনি তার চেহারা আর উভয় হাতের কিয়দংশ মসেহ করলেন। উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আম্মার! আল্লাহকে ভয় কর। আম্মার বললেনঃ হে আমীরুল মুমিনীন! যদি আপনি চান আমি এটা বর্ণনা করব না। উমর (রাঃ) বললেনঃ না। কিন্তু আমার নিকট যা বর্ণনা করলে, এর দায়িত্বভার আমি তোমার উপর অর্পণ করলাম (তাই হাদিস বর্ণনায় সাবধানতা অবলম্বনের জন্য এটা বললাম)।
। আমর ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে তায়াম্মুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। এ প্রশ্নের তিনি কোন উত্তর খুঁজে পেলেন না। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন, আপনার কি স্মরণ আছে? যখন আমরা যুদ্ধে ছিলাম, আমি জানবাতগ্রস্ত হলাম। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ তোমার এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল। এ বলে শু’বা হাঁটুর উপর তার উভয় হাত মেরে তার হস্তদ্বয়ে ফুঁ দিলেন আর উভয় হাত দ্বারা তার মুখ ও হস্তদ্বয় একবার করে মাসেহ করলেন।
। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি জানবাতগ্রস্ত হলে উমর (রাঃ) এর নিকট এসে বলল, আমি জানবাত অবস্থায় উপনীত হয়েছি কিন্তু পানি পাই না। তিনি বললেন তুমি সালাত আদায় করো না। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমরা এক যুদ্ধে ছিলাম। আমরা জানাবার অবস্থায় পতিত হলাম, তখন আমরা পানি পাইনি, এতে আপনি সালাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সালাত আদায় করলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল, এ বলে শু’বা (রহঃ) একবার মাটিতে হাত মারলেন আর তাতে ফুঁ দিলেন আর তা দিয়ে এক হাত অন্য হাতের সাথে ঘষলেন এবং উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল মাসেহ করলেন। তখন উমার (রাঃ) বললেন, আমি জানি না এটা কি। আম্মার (রাঃ) বললেন, যদি আপনি চাহ তাহলে আমি এটা বর্ণনা করব না। সালামার বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে যে, উমার (রাঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে, তার দায়দায়িত্ব তোমার।
। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু তামীম (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি উমার (রাঃ) এর নিকট এসে বলল, আমি জানবাতগ্রস্ত হয়েছি কিন্তু পানি পেলাম না। উমর (রাঃ) বললেন তুমি সালাত আদায় করোনা। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার স্মরণ আছে কি? একবার আমি এবং আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম আর আমরা জানবাতগ্রস্থ হলাম কিন্তু পানি পাচ্ছিলাম না। তখন আপনি সালাত আদায় করলেন না। কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সালাত আদায় করলাম। পরবর্তীতে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তা ব্যক্ত করলাম, তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ ই যথেষ্ট ছিল, এ বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটিতে হাত রাখলেন এবং উভয় হাতে ফুঁ দিলেন তারপর উভয় হাত দ্বারা আপন মুখমণ্ডল ও উভয় কব্জি মাসেহ করলেন। সালামা সন্দেহ করে বলেন, আমার জানা নেই (তিনি এতে উভয় কনুই বলেছেন না উভয় কব্জি বলেছেন)। উমার (রাঃ) বললেন, তুমি যা করলে, তার দায়দায়িত্ব তোমার উপরেই অর্পণ করলাম। শু’বা (রহঃ) বলেন, তিনি উভয় হাত, বাহুদ্বয় এবং মুখমণ্ডলের কথা বলতেন। এজন্য মানসুর তাকে বললেন, আপনি কি বলছেন? আপনি ব্যতীত কেউই বাহুর কথা উল্লেখ করেন নি। এজন্য সালামার সন্দেহ হল। তিনি বললেনঃ আমার স্মরণ নেই তিনি বাহুর কথা উল্লেখ করেছেন কিনা।
। মুহাম্মদ ইবনু আ’লা (রহঃ) ... শাকীক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ এবং আবূ মূসা (রাঃ) এর সঙ্গে বসা ছিলাম, তখন আবূ মূসা বললেন, আপনি কি আম্মারের কথা শুনেওনি য, তিনি উমার (রাঃ) কে বলেছিলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক কাজে পাঠালেন, আমি জানবাতগ্রস্ত হলে পানি পেলাম না। অতএব আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ-ই যথেষ্ট ছিল। এই বলে তিনি তার হস্তদ্বয় একবার মাটিতে মারলেন। তারপর উভয় হাতের তালু মুছলেন ও ঝাড়লেন, তারপর তার বামহাত ডানহাতের উপর মারলেন আর ডান হাত বামহাতের উপর এবং উভয় কব্জি ও মুখমণ্ডল মাসেহ করলেন। আবদুল্লাহ বললেন, তুমি কি দেখছ না যে, উমার (রাঃ) আম্মার (রাঃ) এর কথায় তৃপ্ত হননি।