। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো বসা অবস্থায় সালাত শুরু করতেন। সালাতে কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখনও তিনি বসা অবস্থায় থাকতেন। যখন তাঁর কিরাআতের ত্রিশ কি চল্লিশ আয়াত পরিমাণ অবশিষ্ট থাকত তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করে রুকু করতেন আর সিজদা করতেন। তারপর দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ করতেন।
। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনো বসে সালাত আদায় করতে দেখিনি। যখন তার বার্ধক্য এসে গেল। তখন তিনি বসে বসেও সালাত আদায় করতেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন। যখন সূরার ত্রিশ কি চল্লিশ আয়াত পরিমাণ অবশিষ্ট থাকত তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং অবশিষ্ট আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে নিতেন, তারপর রুকু করতেন।
। যিয়াদ ইবনু আইয়ুব (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করতেন। যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন লোকদের চল্লিশ আয়াত পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করার সময় থাকতে দাঁড়িয়ে যেতেন।
হাদিস 1651 — Sunan an Nasai 20:54
সহিহসহিহদাঈফ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - قَالَتْ مَنْ أَنْتَ قُلْتُ أَنَا سَعْدُ بْنُ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ . قَالَتْ رَحِمَ اللَّهُ أَبَاكَ . قُلْتُ أَخْبِرِينِي عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ وَكَانَ . قُلْتُ أَجَلْ . قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بِاللَّيْلِ صَلاَةَ الْعِشَاءِ ثُمَّ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ فَيَنَامُ فَإِذَا كَانَ جَوْفُ اللَّيْلِ قَامَ إِلَى حَاجَتِهِ وَإِلَى طَهُورِهِ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَيُصَلِّي ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ يُخَيَّلُ إِلَىَّ أَنَّهُ يُسَوِّي بَيْنَهُنَّ فِي الْقِرَاءَةِ وَالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ ثُمَّ يَضَعُ جَنْبَهُ فَرُبَّمَا جَاءَ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ أَنْ يُغْفِيَ وَرُبَّمَا يُغْفِي وَرُبَّمَا شَكَكْتُ أَغْفَى أَوْ لَمْ يُغْفِ حَتَّى يُؤْذِنَهُ بِالصَّلاَةِ فَكَانَتْ تِلْكَ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَسَنَّ وَلَحُمَ - فَذَكَرَتْ مِنْ لَحْمِهِ مَا شَاءَ اللَّهُ - قَالَتْ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِالنَّاسِ الْعِشَاءَ ثُمَّ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ فَإِذَا كَانَ جَوْفُ اللَّيْلِ قَامَ إِلَى طَهُورِهِ وَإِلَى حَاجَتِهِ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ فَيُصَلِّي سِتَّ رَكَعَاتٍ يُخَيَّلُ إِلَىَّ أَنَّهُ يُسَوِّي بَيْنَهُنَّ فِي الْقِرَاءَةِ وَالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ ثُمَّ يُوتِرُ بِرَكْعَةٍ ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ ثُمَّ يَضَعُ جَنْبَهُ وَرُبَّمَا جَاءَ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ أَنْ يُغْفِيَ وَرُبَّمَا أَغْفَى وَرُبَّمَا شَكَكْتُ أَغْفَى أَمْ لاَ حَتَّى يُؤْذِنَهُ بِالصَّلاَةِ قَالَتْ فَمَا زَالَتْ تِلْكَ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... সা'দ ইবনু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মদীনাতে গেলে আয়িশা (রাঃ) এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। আয়িশা (রাঃ) বললেন, তুমি কে? আমি বললাম, আমি সা’দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির। তিনি বললেন, তোমার পিতার উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন! আমি বললাম, আপনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সষ্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ এরূপ ছিলেন না? আমি বললাম, নিশ্চয়। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে ইশার সালাত আদায় করতেন। তারপর তার বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে যেতেন। যখন অর্ধরাত্রি হয়ে যেত তিনি তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য এবং উযুর পানি নেয়ার জন্য উঠে যেতেন এবং উযু করে নিতেন। তারপর মসজিদে প্রবেশ করে আট রাকআত সালাত আদায় করতেন। আমার ধারণা হত, যেন তিনি উপরোক্ত রাকআত সমুহের কিরাআত, রুকু এবং সিজদাতে সমতা বিধান করতেন। অতঃপর একটি রাকআত দ্বারা উপরোক্ত সালাত সমূহকে বেজোড় করে দিতেন। পরে বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। তারপর তিনি শুয়ে পড়তেন। কখনো কখনো বিলাল (রাঃ) এসে তাকে হালকা নিন্দ্রা আসার পূর্বেই সালাতের সংবাদ দিতেন আর কখনো কখনো তার হালকা নিন্দ্রা এসে যেত, এবং কখনো কখনো আমার সন্দেহ হয়ে যেত যে, তিনি হালকা নিদ্রা গেলেন কি না। ইতিমধ্যে তাকে সালাতের সংবাদ দেওয়া হত। এই ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত। যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন এবং তার শরীর ভারী হয়ে গেল। আয়িশা (রাঃ) আল্লাহর যা ইচ্ছা ছিল তার ভারী হওয়া সম্পর্কে উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করতেন। তারপর নিদ্রা যেতেন। যখন অর্ধ রাত্রি হত তিনি উযুর পানি নেয়ার জন্য এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য নিদ্রা থেকে উঠে যেতেন এবং উযু করতেন ও মসজিদে প্রবেশ করে দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। আমি ধারনা করতাম যে, উক্ত দু’রাকআত সালাতে কিরাআত, রুকু এবং সিজদায় সমতা বিধান করতেন। অতঃপর একটি রাকআত দ্বারা উক্ত সালাত সমূহকে বেজোড় করে দিতেন। তারপর বসা অবস্থায় দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। পরে নিদ্রা যেতেন। কখনো কখনো বিলাল (রাঃ) এসে তাকে হালকা নিদ্রা যাওয়ার পুর্বে সালাতের সংবাদ দিতেন আর কখনো হালকা নিদ্রা যেতেন। আর কখনো কখনো আমরে সন্দেহ হয়ে যেত যে, তিনি হালকা নিদ্রা গেলেন কিনা। ইতিমধ্যে তাঁকে সালাতের সংবাদ দেয়া হত। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এই ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সব সময়ের সালাত।
। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম পালন অবস্থায় আমার মুখে চুমু খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন না। আর মৃত্যু অবধি তার অধিকাংশ (নফল) সালাতই ছিল বসা অবস্থায়। এরপর তিনি আরো একটি বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন। যার অর্থ দাঁড়ায় ফরয সালাত ব্যতীত। আর তার কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল ছিল যা মানুষ সর্বদা করতে থাকে; যদিও তা পরিমাণে অল্পই হোক না কেন।
। সুলায়মান ইবনু সালাম বখলী (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যু অবধি অধিকাংশ সালাত ছিল বসা অবস্থায়, ফরয সালাত ব্যাতীত।
। ইসমাঈল ইবনু মাসউদ (রহঃ) ... উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফরয সালাত ব্যতীত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকাল অবধি অধিকাংশ সালাত ছিল বসা অবস্থায় আর তার কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল ছিল যা সর্বদা করা হত, তার পরিমাণে অল্পই হত না কেন।
। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দূস সামাদ (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকাল অবধি তার অধিকাংশ সালাত ছিল বসা অবস্থায়, ফরয ব্যাতীত। আর তার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল ছিল সর্বদা যা করা হত যদিও পরিমাণে অল্পই হত না কেন।
হাদিস 1656 — Sunan an Nasai 20:59
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَمُتْ حَتَّى كَانَ يُصَلِّي كَثِيرًا مِنْ صَلاَتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ .
। হাসান ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা (রাঃ) অবহিত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল অবধি তার অধিকাংশ সালাত বসা অবস্থাতেই আদায় করতেন।
হাদিস 1657 — Sunan an Nasai 20:60
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا أَبُو الأَشْعَثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَهُوَ قَاعِدٌ قَالَتْ نَعَمْ بَعْدَ مَا حَطَمَهُ النَّاسُ .
। আবূল আশআছ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু শাকীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বসা অবস্থায় সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ; মানুষের দায়িত্ব ভারে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর থেকে।