কুতায়বা (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেনঃ হে উকবা! বল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কি বলবো? তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর বললেনঃ হে উকবা! বল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি বলবো? তিনি আবার চুপ থাকলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্! তাকে আমার দিকে ফিরিয়ে দিন। তারপর তিনি বললেনঃ হে উকবা! বল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! কি বলবো? এবার তিনি বললেনঃ বল, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক, আমি তা পড়ে শেষ করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বল। আমি বললামঃ কি বলবো? তিনি বললেনঃ বল, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। আমি তা পাঠ করলাম। এরপর তিনি বললেনঃ কোন প্রার্থনাকারী এর মত কিছু দ্বারা প্রার্থনা করেনি এবং কোন আশ্রয়প্রার্থী এর মত অন্য কিছু দ্বারা আশ্রয় গ্রহণ করেনি।
কুতায়বা (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে দেখলাম, তিনি বাহনে আরোহণ করে আছেন। আমি তাঁর পায়ে আমার হাত রেখে বললামঃ আমাকে সূরা হূদ শিক্ষা দিন, আমাকে সূরা ইউসুফ শিক্ষা দিন। তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহর নিকট অতি প্রিয় সূরা ফালাক অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কোন সূরা পড়বে না।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (র) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উপর কয়েকটি আয়াত নাযিল হয়েছে, যার মত আর কোন আয়াত দেখা যায় না, আর তা হলো ‘কুল আউযুবি রাব্বিল ফালাক’ শেষ পর্যন্ত এবং কুল আউযুবিরাব্বিন নাস’ শেষ পর্যন্ত।
আমর ইবন আলী (র) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ হে জাবির! পড়। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আমি কি পড়বো? তিনি বললেনঃ তুমি পড়, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। তখন আমি উভয় সূরা তিলাওয়াত করলাম। তিনি বললেনঃ একটি পাঠ কর। এর মত আর কোন সূরা তিলাওয়াত করবে না।
ইয়াযীদ ইবন সিনান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি বস্তু হতে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করতেন : অনুপকারী ইলম হতে, এমন অন্তর হতে- যা আল্লাহর ভয়ে ভীত কম্পিত হয় না, এমন দু'আ হতে, যা ককূল হয় না, আর ঐ প্রবৃত্তি হতে যা পরিতৃপ্ত হয় না।
হাদিস 5443 — Sunan an Nasai 50:16
দাঈফদাঈফহাসান
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَمُرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَفِتْنَةِ الصَّدْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ .
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় কামনা করতেন কাপুরুষতা, কৃপণতা, অন্তরের ফিতনা এবং কবরের আযাব হতে।
হুসায়ন ইবন ইসহাক (রহঃ) ... শাকাল ইবন হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে এমন এক আশ্রয় প্রার্থনার দু'আ শিক্ষা দিন, আমি যা দ্বারা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি। তখন তিনি আমার হাত ধরে বললেনঃ তুমি বল, হে আল্লাহ্! আমি আমার কান, চক্ষু, জিহ্বা, অন্তর এবং বীর্যের অনিষ্ট হতে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রাবী বলেন, আমি তা মুখস্থ করে নিয়েছি। সাঈদ (রাঃ) বলেন, হাদীসের 'মনি' শব্দের অর্থ বীর্য।
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... মুস'আব ইবন সা'দ (রাঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি আমাদেরকে পাঁচটি কথা শিক্ষা দিতেন এবং তিনি বলতেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলাে দ্বারা দু'আ করতেন এবং তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা থেকে, আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা থেকে, আমি আরো আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবনের নিকৃষ্টতম অংশ (অতি বার্ধক্য) থেকে এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিতনা থেকে এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে।
ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আমর ইবন মায়মূন আওদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন সা'দ (রাঃ) তাঁর সন্তানদেরকে এই বাক্যসমূহ শিক্ষা দিতেন, যেমন শিক্ষক ছাত্রদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু'আগুলো নামাযের পর পাঠ করতেনঃ হে আল্লাহ! আমি কাপুরুষতা, কার্পণ্য, চরম বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রাবী বলেনঃ আমি এই হাদীস মুসআব (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি এর সত্যয়ন করেন।