। আবূ আম্মার হুসায়ন ইবনু হুরায়য়ছ (রহঃ) ... মা'দান ইবনু তালহা ইয়ামারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আযাদকৃত দাস ছাওবানের সাথে আমি সাক্ষাৎ করলাম। আমি বললাম, আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন যা আমার উপকারে আসবে অথবা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি আমার জবাব না দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তারপর আমার প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আপনি সিজদা করতে থাকুন। কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে বান্দাই আল্লাহর উদ্দেশে একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। আর এর দ্বারা তার একটি পাপ মুছে ফেলবেন। মা’দান বলেন, অতঃপর আমি আবূ দারদার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকেও ঐ প্রশ্ন করলাম যা আমি ছাওবান (রাঃ)-কে করেছিলাম। তিনিও আমাকে বললেন, আপনি সিজদাকে অবশ্য করনীয়রুপে গ্রহণ করুন। কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, যে কোন বান্দা আল্লাহর উদ্দেশে একটি সিজদা করে, আল্লাহ তায়ালা তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার দ্বারা তার একটি পাপ মার্জনা করেন।
। মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মান লুয়ায়ন (রহঃ) ... আতা ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) এবং আবূ সাঈদ (রাঃ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তাদের একজন শাফাআতের হাদীস বর্ণনা করলেন, আর অন্যজন ছিলেন নিশ্চুপ। তিনি বলেন, তারপর ফেরেশতা এসে সুপারিশ করবেন এবং রাসুলগণ সুপারিশ করবেন, তারপর তিনি পুলসিরাতের উল্লেখ করে বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাদের অনুমতি দেয়া হবে তাঁদের মধ্যে আমিই হবো প্রথম। তারপর যখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টির বিচারকার্য থেকে অবসর গ্রহণ করবেন এবং দোযখ থেকে যাকে বের করতে ইচ্ছা করবেন তাকে বের করবেন। আল্লাহ তা’আলা ফেরেশতা ও রাসুলগণকে আদেশ করবেন সুপারিশ করার জন্য। তখন তারা তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনে নিবেন যে, আদম সন্তানের সিজদার স্থান ব্যতীত আর সব কিছু আগুন জ্বালিয়ে ফেলেছে। তারপর তাদের উপর আবে হায়াত- ঢেলে দেয়া হবে। তখন তারা নবজীবন লাভ করবে যেরূপ স্রোতের ধারায় বীজ গজিয়ে ওঠে।
হাদিস 1141 — Sunan an Nasai 12:113
সহিহসহিহIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلاَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ أَنْبَأَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ الْبَصْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي إِحْدَى صَلاَتَىِ الْعِشَاءِ وَهُوَ حَامِلٌ حَسَنًا أَوْ حُسَيْنًا فَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَضَعَهُ ثُمَّ كَبَّرَ لِلصَّلاَةِ فَصَلَّى فَسَجَدَ بَيْنَ ظَهْرَانَىْ صَلاَتِهِ سَجْدَةً أَطَالَهَا . قَالَ أَبِي فَرَفَعْتُ رَأْسِي وَإِذَا الصَّبِيُّ عَلَى ظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ سَاجِدٌ فَرَجَعْتُ إِلَى سُجُودِي فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ النَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ سَجَدْتَ بَيْنَ ظَهْرَانَىْ صَلاَتِكَ سَجْدَةً أَطَلْتَهَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ قَدْ حَدَثَ أَمْرٌ أَوْ أَنَّهُ يُوحَى إِلَيْكَ . قَالَ " كُلُّ ذَلِكَ لَمْ يَكُنْ وَلَكِنَّ ابْنِي ارْتَحَلَنِي فَكَرِهْتُ أَنْ أُعَجِّلَهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ " .
। আবদুর রহমান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সাল্লাম (রহঃ) ... শাদ্দাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইশার সালাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে বেরিয়ে আসলেন। তখন তিনি হাসান অথবা হুসায়ন (রাঃ)-কে বহন করে আনছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হয়ে তাকে রেখে দিলেন। তারপর সালাতের জন্য তাকবীর বললেন ও সালাত আদায় করলেন। সালাতের মধ্যে একটি সিজদা লম্বা করলেন। (হাদীসের অন্যতম রাবী আব্দুল্লাহ বলেন), আমার পিতা (শাদ্দাদ) বলেন, আমি আমার মাথা উঠালাম এবং দেখলাম, ঐ ছেলেটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিঠের উপর রয়েছেন। আর তিনি সিজদারত। তারপর আমি আমার সিজদায় গেলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলে লোকেরা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আপনার সালাতের মধ্যে একটি সিজদা এত লম্বা করলেন, যাতে আমরা ধারণা করলাম, হয়তো কোন ব্যাপার ঘটে থাকবে। অথবা আপনার উপর ওহী নাযিল হচ্ছিল। তিনি বললেন, এর কোনটাই ঘটেনি। বরং আমার এ সন্তান আমাকে সওয়ারী বানিয়েছে। আমি তাড়াতাড়ি উঠতে অপছন্দ করলাম, যেন সে তার কাজ সমাধা করতে পারে।
। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, তিনি (সালাতের মধ্যে) প্রত্যেক নীচু হওয়ার সময় এবং মাথা উত্তোলনের সময় আর প্রত্যেক দাঁড়ানোর এবং বসার সময় তাকবীর বলতেন এবং ডান ও বাম দিকে আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে সালাম করতেন। তখন তাঁর চেহারার শুভ্রতা দেখা যেত। রাবী বলেন, আর আমি আবূ বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ)-কেও এরূপ করতে দেখেছি।
। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... মালিক ইবনু হুয়ায়রিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে প্রবেশ করতেন তখন তার হাতদ্বয় উঠাতেন। আর যখন রুকু করতেন ঐরূপ করতেন, আর যখনরুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখনও ঐরূপ করতেন। আর যখন সিজদা থেকে তাঁর মাথা উঠাতেন তখনও ঐরূপ করতেন। অর্থাৎ তাঁর হাতদ্বয় উঠাতেন।
হাদিস 1144 — Sunan an Nasai 12:116
সহিহসহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ وَبَعْدَ الرُّكُوعِ وَلاَ يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ .
। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, আর যখন রুকু করতেন এবং রুকুর পরেও। আর তিনি হাত উঠাতেন না দু’সিজদার মাঝে।
। মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) ... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে তারপাশে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন,اللَّهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ তারপর তিনি সুরা বাকারা পড়তে শুরু করলেন, পরে তিনি রুকু করলেন। তার রুকু তার কিয়ামের প্রায় বরাবর ছিল। তিনি রুকুতে বললেনسُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ আর যখন তিনি মাথা উঠালেন, তখন বললেন,لِرَبِّيَ الْحَمْدُ لِرَبِّيَ الْحَمْدُ আর তিনি তার সিজদায় বলতেনسُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى তিনি তাঁর দু'সিজদার মধ্যে বলতেন رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي।
। মুসা ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুসা বাসরী (রহঃ) ... নযর ইবনু কাসীর আবূ সাহল আযদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু তাঊস (রহঃ) মিনার মসজিদে খায়ফে আমার পাশে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি প্রথম সিজদা করতেন এবং সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন, তখন তিনি তাঁর চেহারা বরাবর তাঁর উভয় হাত উঠাতেন। তা আমার না-পছন্দ হওয়ায় আমি উহায়ব ইবনু খালিদকে বললাম, এ ব্যক্তি এমন কিছু করছে যা আমি কাউকে করতে দেখিনি। উহায়ব তাঁকে বললেন, আপনি এমন কিছু করছেন যা আমরা কাউকে করতে দেখিনি, তখন আব্দুল্লাহ ইবনু তাঊস বললেন, আমি আমার পিতাকে তা করতে দেখেছি। আর আমার পিতা বলেছেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাসকে এরূপ করতে দেখেছি। আর আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি।
। আব্দুর রহমান ইবরাহীম দুহায়ম (রহঃ) ... মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন তখন তাঁর হাত দু’খানা এত দুরে রাখতেন যে, তাঁর পেছন দিক থেকে তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দেখা যেত। আর যখন তিনি বসতেন তখন তিনি তাঁর বাম উরুর উপর স্থির হয়ে বসতেন।
। উবায়দুল্লাহ ইবনু সায়ীদ আবূ কুদামা (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতে তাঁর রুকু-সিজদা এবং রুকু থেকে মাথা উত্তোলনের পর দাঁড়ানো এবং দু’সিজদার মধ্যবর্তী সময় প্রায় বরাবর হতো।