আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আবূ উমামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শপথের মাধ্যমে কোন মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করে, আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করে দেন এবং তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন। তখন এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি ঐ মাল অতি নগণ্য হয়? তিনি বললেনঃ যদিও তা পিলু গাছের একটি ডাল হয়।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা হিন্দা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু সুফিয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি। সে না আমার খরচ দেয়, না আমার সন্তানদের। আমি কি তাঁর মাল হতে তার অনুমতি ব্যতীত নিতে পারি? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার এবং তোমার সন্তানদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঙ্গতভাবে নিতে পার।
হুসায়ন ইবন মানসূর ইবন জাফার (রহঃ) ... আবূ বাকরা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কেউ যেন দুই মোকদ্দমার মীমাংসা এক ফয়সালায় না করে। আর কোন ব্যক্তি যেন রাগান্বিত অবস্থায় দুই ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা না করে।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নিকট বিচার নিয়ে এসে থাক, আমিও তো একজন মানুষ। তোমাদের মধ্যে হয়তো কেউ বর্ণনাভঙ্গিতে অন্য হতে পটু। আমি যা শুনি, তার পরিপ্রেক্ষিতেই তোমাদের মধ্যে মীমাংসা করি। যদি আমি কাউকে তার ভাই-এর কোন অধিকার অন্যায়ভাবে দিয়ে দেই; তবে আমি যেন তাকে আগুনের এক অংশই দেই।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার নিকট অত্যধিক ঘৃণিত ব্যক্তি সেই, যে ঘোর ঝগড়াটে।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দুই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে একটি জন্তুর ব্যাপারে মোকদ্দমা পেশ করলো, কিন্তু তাদের কারো কোন প্রমাণ ছিল না। তিনি রায় দিলেন, সেটি তারা উভয়ে আধাআধি পাবে।
আলী ইবন সাঈদ ইবন মাসরূক (রহঃ) ... ইবন আবু মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তায়েফে দুটি বালিকা জুতা সেলাই করতো। তাদের একজন এমন অবস্থায় বের হলো যে, তার হাত হতে রক্ত পড়ছিল। সে বললোঃ তার বান্ধবী তাকে আঘাত করেছে। কিন্তু অন্য বালিকা তা অস্বীকার করলো। আমি এ ব্যাপারে ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে লিখলাম। তিনি উত্তরে লিখলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিধান দিয়েছেন যে, বিবাদী শপথ করবে। কেননা যদি সকলেই তাদের দাবি অনুযায়ী পেয়ে যেত, তাহলে লোক অন্যান্য লোকের জানমাল দাবি করে বসতোমরা। এ ব্যাপারে তার নিকট এ আয়াত তিলাওয়াত করুন : অর্থাৎ “যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং শপথের বিনিময়ে তুচ্ছ পার্থিব সম্পদ গ্রহণ করে, আখিরাতে তাদের কোন অংশই থাকবে না।” (সূরা আলে ইমরানঃ ৭৭) তিনি পূর্ণ আয়াত শেষ করলেন। তখন আমি ঐ বালিকাকে ডেকে তার নিকট এই আয়াত তিলাওয়াত করলে, সে তার অপরাধ স্বীকার করলো। ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এই সংবাদ পৌছলে তিনি খুশি হলেন।
সাওয়ার ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআবিয়া (রাঃ) বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে তাঁর সাহাবীদের এক মজলিসে পৌছলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের এখানে কিসে বসিয়েছে? তারা বললেনঃ আমরা আল্লাহর স্মরণে এবং তিনি যে আমাদেরকে হিদায়ত দান করেছেন এবং আপনাকে প্রেরণ করে আল্লাহ তা'আলা আমাদের উপর যে ইহসান করেছেন তার শোকক আদায় করার জন্য বসেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ সত্যই কি তোমরা এজন্য এখানে বসেছাে? তারা বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমরা এজন্যই এখানে সমবেত হয়েছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করে তোমাদের থেকে শপথ নিইনি, বরং এজন্য যে, জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে সংবাদ দিলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের ব্যাপারে ফেরেশতাদের সামনে গৌরব করছেন।
আহমদ ইবন হাফস (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈসা ইবন মারয়াম (আঃ) এক ব্যক্তিকে চুরি করতে দেখে তাকে বললেনঃ তুমি চুরি করছো? তখন সে বললোঃ আল্লাহ্ তা'আলার শপথ করে বলছিঃ আমি চুরি করিনি, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। ঈসা (আঃ) বললেনঃ আমি আল্লাহর উপর ঈমান রাখি এবং আমার চক্ষুকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করছি।