أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَائِذُ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَغَضِبَ حَتَّى احْمَرَّ وَجْهُهُ فَقَامَتِ امْرَأَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَحَكَّتْهَا وَجَعَلَتْ مَكَانَهَا خَلُوقًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَحْسَنَ هَذَا " .
। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কিবলার দিকে নাকের ময়লা দেখে এত রাগান্বিত হলেন যে, তাঁর চেহারা মুবারক রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। তখন এক আনসারী মহিলা দাঁড়িয়ে তা মুছে ফেলে তদস্থলে খলুক নামক সুগন্ধি লাগিয়ে দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা কতইনা উত্তম কাজ।
। সুলায়মান ইবনু উবায়দুল্লাহ গায়লানী বাসরী (রহঃ) ... আবদুল মালিক ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুমায়দ এবং আবূ উসায়দকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন, সে যেন বলেঃاللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ [আল্লাহুম্মাফ্তাহলি আবওয়াবা রাহামাতিক] "হে আল্লাহ! আমার জন্যে আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন।" আর যখন বের হয় তখন যেন বলেঃاللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ [আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকা মিন ফাদলিক] "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার দয়া কামনা করছি।
হাদিস 730 — Sunan an Nasai 8:43
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمِ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ " .
। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন বসার পূর্বে দু’রাকআত সালাত আদায় করে।
। সুলায়মান ইবনু দাঊদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু কাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কা'ব ইবনু মালিককে তাবুক যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তার যোগদান থেকে বিরত থাকার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে তাবুক থেকে আগমন করলেন। তিনি যখন কোন সফর থেকে ফিরে আসতেন প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে দু-রাক’আত সালাত আদায় করতেন। তারপর লোকদের সাথে বসতেন। এইবার যখন তিনি এরূপ করলেন তখন যারা জিছাদে যোগদান থেকে বিরত ছিল তারা এসে তাঁর নিকট যোগদান না করার অজুহাত পেশ করতে আরম্ভ করল এবং তার নিকট কসম করতে লাগল। তারা সংখ্যায় আশিজনের অধিক ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বাহ্যিক কারণগুলো মেনে নিলেন এবং তাদের বায়আত নিলেন এবং তাদের জন্য ক্ষমা চাইলেন। আর তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার আল্লাহর নিকট সোপর্দ করলেন। এমন সময় আমি সেখানে আসলাম। আমি যখন সালাম করলাম তিনি ক্রোধের হাসি হাসলেন। তারপর বললেনঃ আস। আমি এসে তাঁর সম্মুখে বসে পড়লাম। তিনি বললেনঃ তোমাকে কিসে ফিরিয়ে রাখল তুমি কি সওয়ারী সংগ্রহ করেছিলে না? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কসম! যদি আমি আপনি ছাড়া অন্য কোন দুনিয়াদারের সামনে উপবিষ্ট থাকতাম তা হলে আমার মনে হয় আমি তার ক্রোধ হতে বের হয়ে যেতে পারতাম, আমাকে বাক চাতুর্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি জানি, আজ যদি আমি আপনার নিকট মিথ্যা কথা বলি, তাহলে তাতে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন কিন্তু অচিরেই আল্লাহ তাআলা আপনাকে আমার উপর ক্রোধাম্বিত করে দিবেন। আর যদি সত্য কথা বলি, তা হলে আপনি হয়ত আমার উপর ক্রোধাম্বিত হবেন। তবে আমি আল্লাহর ক্ষমা কামনা করি। আল্লাহর কসম! আমি যখন আপনার সাথে যূদ্ধে যাওয়া থেকে বিরত ছিলাম তখনকার চাইতে কোন সময় অধিক শক্তিশালী অথবা অধিক সম্পদশালী ছিলাম না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ব্যক্তি সত্য কথা বলেছে। উঠ, অপেক্ষা কর যে পর্যন্ত না আল্লাহ তোমার ব্যাপারে কোন ফয়সালা করেন। তখন আমি উঠে গেলাম।
। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবূল হাকাম (রহঃ) ... আবূ সাঈদ ইবনুল মুআল্লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় আমরা ভোরে বাজারের দিকে যেতাম। তখন আমরা মসজিদের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় সালাত আদায় করতাম।
। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে যতক্ষন মুসাল্লায় বসে থাকে, ততক্ষন পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য নিম্নরুপ দোয়া করতে থাকেনঃاللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ অর্থাৎ (হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন), যতক্ষণ যাবৎ না তার উযু ভঙ্গ হয়।
হাদিস 734 — Sunan an Nasai 8:47
সহিহসহিহIsnaad Hasan
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عُقْبَةَ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ مَيْمُونٍ، حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ سَهْلاً السَّاعِدِيَّ، - رضى الله عنه - يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ كَانَ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ فَهُوَ فى الصَّلاَةِ " .
। কুতায়বা (রহঃ) ... আইয়াশ ইবনু উকবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইয়াহইয়া ইবনু মাইমূন তাকে বলেছেন যে, তিনি সাহল আস-সাঈদী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মসজিদে সালাতের অপেক্ষায় থাকে সে যেন সালাতের মধ্যে থাকে।
হাদিস 735 — Sunan an Nasai 8:48
সহিহসহিহহাসান
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ فِي أَعْطَانِ الإِبِلِ .
। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের বসার স্থানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
। হাসান ইবনু ইসমাঈল ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার জন্য সমগ্র যমীনকে মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ করে দেয়া হয়েছে। আমার উম্মতের যে ব্যক্তি যেখানেই সালাত পায়- সেখানেই সালাত আদায় করবে।
। সাঈদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ উমারী (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে সুলায়ম (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিবেদন করলেন, তিনি যেন তার নিকট আগমন করে তাঁর ঘরে সালাত আদায় করেন। তাহলে তিনি ঐ স্থানকে সালাতের স্থান নির্ধারণ করে নেবেন। তিনি তাঁর ঘরে আসলেন, তখন তিনি একটি চাটাইর ব্যবস্থা করলেন এবং পানি দ্বারা তা মুছে ফেললেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর সালাত আদায় করলেন এবং অন্য লোকেরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করলেন।