। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিনে ঈদগাহের দিকে বের হতেন এবং মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। যখন দ্বিতীয় রাকআতে বসতেন এবং সালাম ফিরাতেন। তখন দাঁড়িয়ে যেতেন ও মানুষের দিকে মুখ করে নিতেন আর লোকজন বসা থাকত। যদি তাঁর কোথাও কোন সৈন্য প্রেরণের প্রয়োজন দেখা দিত তিনি তা মানুষের সামনে প্রকাশ করতেন। অন্যথায় তাদেরকে দান খয়রাতের আদেশ দিতেন। তিনি তিনবার বলতেন, তোমরা দান খয়রাত কর। অধিকাংশ দান খয়রাতকারিণী হত মহিলাগণ।
। মুহাম্মাদ ইবনু সালামা এবং হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি যদি ইমামের খূৎবা দেয়াকালীন তোমার সাথীকে বল, "নিরব থাক" তা হলে তুমি একটি অনর্থক কাজ করবে।
। উতবা ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার খূৎবায় বলতেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার যথাযোগ্য প্রসংসা এবং গুন বর্ণনা করতেন। مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْهُ فَلاَ هَادِيَ لَهُ إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْىِ هَدْىُ مُحَمَّدٍ وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ وَكُلَّ ضَلاَلَةٍ فِي النَّارِ অতঃপর বলতেনঃبُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ (আমি প্রেরিত হয়েছি এমন অবস্থায় যে, আমি ও কিয়ামত এ দু'টি আঙ্গুল তর্জনী ও মধ্যমার মত।) অর্থাৎ আমার পরে প্রেরিত রূপে আর কোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসবে না। এইভাবে আমি কিয়ামতের নিকটবর্তী নবীরূপে প্রেরিত হয়েছি। আর যখন তিনি কিয়ামতের উল্লেখ করতেন তাঁর গণ্ডদ্বয়ের উপরিভাগ লাল হয়ে যেত এবং আওয়াজ উচ্চ হয়ে যেত, তার রাগ বেড়ে যেত যেন তিনি কোন সৈন্য বাহিনীকে সতর্ক করে দিচ্ছেন। তিনি বলতেন, শক্রবাহিনী তোমাদের উপর সকালে অথবা সন্ধ্যায় আক্রমণ করতে পারে। তারপর বলতেন, যে ব্যক্তি কোন সস্পতি ছেড়ে মারা যাবে তা তার পরিবারবর্গর জন্য আর যে ব্যক্তি কোন ঝন অথবা নিঃসম্বল সন্তান-সন্ততি রেখে মারা যাবে তার সমুদয় দায়-দায়িত্ব আমার উপর বর্তাবে, আর আমিই মুমিনদের জন্য উত্তম অভিভাবক।
। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে বের হতেন এবং দু’রাকআত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর খুৎবা দিতেন আর সাদকার আদেশ করতেন, অধিকাংশ সাদকারিণী হত মহিলা। যদি তার কোন প্রয়োজন হত অথবা কোথাও কোন সৈন্য বাহিনী প্রেরণের প্রয়োজন দেখা দিত, তাহলে তিনি কথা বলতেন, অন্যথায় ফিরে যেতেন।
। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) একবার বসরায় খুৎবা দিচ্ছিলেন, তিনি বললেন, তোমরা স্বীয় কওমের যাকাত আদায় কর। তখন লোকেরা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগল। তিনি বললেন এখানে মদীনার অধিবাসী কে কে আছ? তোমরা তোমাদের ভাইদের কাছে যাও এবং তাদের দ্বীনী ইলম শিক্ষা দাও। যেহেতু তারা জানে না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট, বড়, আযাদ, গোলাম, পুরুষ এবং মহিলা সবার উপর অর্ধ সা' গম অথবা এক সা' খেজুরে এবং যব ফরয করেছেন।
। কুতায়বা (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিনে আমাদের সামনে সালাতের পরে খূৎবা দিলেন। তারপর বললেন, যে আমাদের সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করবে এবং আমাদের কুরবানীর ন্যায় কুরবানী দেবে সেই সঠিকভাবে কুরবানী দেবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করবে সেটা বকরীর গোশত হবে। আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি সালাতের জন্য বের হওয়ার পুর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। আমি জানতাম যে, আজ পানাহারের দিন। তাই আমি তাড়াতাড়ি যবেহ করে ফেলেছি এবং আমি নিজে খেয়ে নিলাম এবং আমার পরিবারবর্গ এবং প্রতিবেশীকেও খাওয়ায়ে দিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেটাতো বকরীর গোশত। আবূ বুরদাহ (রাঃ) বললেন, আমার কাছে একটি এক বছর বয়সের ভেড়া আছে যাতে দু’টি বকবীর গোশত অপেক্ষাও বেশী গোশত হবে। তা কি আমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? বললেন, হ্যাঁ; কিন্তু তোমার পরে আর কারো পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে না।
হাদিস 1582 — Sunan an Nasai 19:27
হাসানহাসানসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَتْ صَلاَتُهُ قَصْدًا وَخُطْبَتُهُ قَصْدًا .
। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামূরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করতাম, তার সালাত ছিল পরিমিত, তার খুৎবা ছিল পরিমিত।
হাদিস 1583 — Sunan an Nasai 19:28
হাসানহাসানসহিহ
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَقْعُدُ قَعْدَةً لاَ يَتَكَلَّمُ فِيهَا ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ خُطْبَةً أُخْرَى فَمَنْ خَبَّرَكَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ قَاعِدًا فَلاَ تُصَدِّقْهُ .
। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম যে, তিনি দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছেন। অতঃপর ক্ষণিকের তরে নীরব হয়ে বসলেন। পুনরায় দাঁড়ালেন ও দ্বিতীয় খুৎবা দিলেন। অতএব, যে ব্যক্তি তোমাকে সংবাদ দেয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে খুৎবা দিয়েছে। তুমি তাকে সত্যবাদী মনে করবে না।
হাদিস 1584 — Sunan an Nasai 19:29
হাসানহাসানহাসান
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ وَيَقْرَأُ آيَاتٍ وَيَذْكُرُ اللَّهَ وَكَانَتْ خُطْبَتُهُ قَصْدًا وَصَلاَتُهُ قَصْدًا .
। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন, অতঃপর বসতেন, আবার দাঁড়াতেন এবং কিছু আয়াত পাঠ করতেন এবং আল্লাহর যিকর করতেন। আর তার খুৎবা ছিল পরিমিত এবং তাঁর সালাতও ছিল পরিমিত।
। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন, ইত্যবসরে হাসান ও হুসায়ন (রাঃ) আসলেন, তাদের পরিধানে দু'টি লাল জামা ছিল। তাঁরা চলছিলেন এবং জামায় আটকে আটকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন। তিনি নীচে নেমে আসলেন এবং উভয়কে উঠিয়ে নিলেন আর বললেন, আল্লাহ তা'আলা সত্যই বলেছেন, "নিশ্চয়ই তোমাদের সস্পদ এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততি পরীক্ষা স্বরূপ"; আমি এদের দেখলাম যে, এরা চলছিল এবং হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল জামায় আটকে আটকে। তখন আমি ধৈর্যধারণ করতে পারলাম না। অবশেষে নীচে নেমে আসলাম এবং তাদের উঠিয়ে নিলাম।