। আমর ইবনু সাওয়াদ ইবনু আসওয়াদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) সুত্রে থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে থাকতেন, তখন যোহরের সালাত আসর পর্যন্ত বিলম্বে করতেন। তারপর উভয়কে একত্রে আদায় করতেন এবং মাগরিবকে বিলম্বে করে মাগরিব ও ঈশাকে একত্রে আদায় করতেন।
। মাহমুদ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমরের কিছু জমি ছিল। সেখানে কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম ও সেখানে পৌঁছার পড়ে হঠাৎ একদিন এক সংবাদদাতা বললো যে, আপনার স্ত্রী সফিয়্যা বিনত আবূ উবায়দ (রাঃ) মুমূর্ষু অবস্থায়, দেখতে চাইলে যেতে পারেন। তারপর তিনি দ্রুতবেগে চললেন। এক কুরায়শী ব্যাক্তি সফরসঙ্গী ছিলেন। সুর্য অস্তমিত হলেও মাগরিবের সালাত আদায় করলেন না। আমি তাঁকে যতদিন ধরে জানি, যথাসময়ে সালাত আদায়ে যত্নবান থাকতেন। এরপরও যখন দেরী করেছেন, তখন আমি বললাম, সালাত, আল্লাহপাক আপনাকে রহম করুন। তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং চলতে লাগলেন। এ অবস্থায় যখন পশ্চিম আকাশের লালিমা প্রায় অদৃশ্য হল, তখন মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। তারপর আমাদের দিকে লক্ষ্য করে বললেনঃ যখন সফরে কোন ত্বরা থাকত, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।
। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে মক্কা হতে আসছিলাম। যখন ঐ রাত হল (তাঁর স্ত্রীর মুমূর্ষুতার সংবাদ পাওয়ার পর) তিনি আমাদের নিয়ে দ্রুত চললেন। যখন সন্ধা হল, আমরা ধারণা করলাম, তিনি সালাতের কথা ভুলে গেছেন, এজন্য আমরা তাঁকে সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। তিনি চুপ রইলেন এবং আরো অগ্রসর হলেন। তারপর আকাশের লালিমা অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হলে অবতরণ করে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। আবার যখন শাফাক অদৃশ্য হয়ে গেলো তখন ইশার সালাত আদায় করলেন। তারপর আমাদের লক্ষ্য করে বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর সঙ্গে যখন সফরে তাঁর কোনো ত্বরা থাকত, তখন আমরা এরূপ করতাম।
। আবদা ইবনু আবদুর রহীম (রহঃ) ... কাছীর ইবনু কারাওয়ান্দা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সফরের সালাত সম্বন্ধে সালিম ইবনু আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনার পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) সফরের একাধিক সালাত একত্রে আদায় করেছেন কি? উত্তরে বললেনঃ না, মুযদালিফা ব্যতীত আর কোথাও একত্রে আদায় করেননি। পুনরায় সতর্ক হয়ে ঘটনার উল্লেখ করে বললেনঃ সফিয়্যা আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। সফিয়্যা (রাঃ) তাঁর নিকট খবর পাঠালেন যে, আমি পার্থিব জীবনের শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে উপনীত হয়েছি। সংবাদ পাওয়ামাত্রই তিনি আরোহন করলেন, আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি অত্যন্ত দ্রুতবেগে চললেন। পরে যখন সালাতের সময় হল, মুয়াযযিন বললেন, হে আবদূর রহমান! সালাত। তিনি চলতে লাগলেন। তারপর দুই সালাতের মাঝামাঝি সময়ে উপনীত হলেন, তখন অবতরণ করে মুয়াযযিনকে বললেনঃ ইকামত বল। যখন যোহরের সালাত সমাপ্ত করি তখন আবার সেখানে দাঁড়িয়েই ইকামত বলবে। ইকামত বলা হলে যোহরের দু’রাক’আত্ আদায় করলেন। আবার সেখানেই ইকামত দিলে আসরের দু’রাক’আত্ আদায় করে আরোহন করলেন এবং সুর্য অস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দ্রুত চললেন। আবার মুয়াযযীন বললেন, হে আবদূর রহমান! সালাত। তিনি বললেনঃ পূর্বের মতই কাজ কর, এই বলে চলতে লাগলেন। তারপর যখন আকাশে তারকারাশি ছেয়ে গেল, তখন অবতরণ করেন এবং ইকামতের আদেশ দিলেন। বললেনঃ যখন সালাম ফিরাব, আবার ইকামত বলবে। তারপর মাগরিবের তিন রাক’আত্ আদায় করলেন। তারপর সেখানেই ইকামত বলে ইশার সালাত আদায় করলেন। তারপর একদিকে সালাম ফিরিয়ে বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারও সামনে এমন কোন কাজ দেখা দেয়, যা ফওত হয়ে যাওয়ার (ছুটে যাওয়ার) আশংকা থাকে, এভাবেই সালাত আদায় করে নেবে।
হাদিস 598 — Sunan an Nasai 6:105
সহিহসহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ .
। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–কে যখন কোথাও সফরে দ্রুত চলতে হতো, তখন মাগরিব ও ঈশা একত্রে আদায় করে নিতেন।
হাদিস 599 — Sunan an Nasai 6:106
সহিহ Isnaadসহিহ IsnaadIsnaad Sahih
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ أَوْ حَزَبَهُ أَمْرٌ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ .
। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–কে যখন কোথাও সফরে দ্রুত চলতে হতো, অথবা তাঁর সামনে কোনো জটিল কাজ উপস্থিত হতো, তখন তিনি মাগরিব ও ঈশা একত্রে আদায় করে নিতেন।
হাদিস 600 — Sunan an Nasai 6:107
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمٌ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ .
। মুহাম্মাদ ইবনু মানসুর (রহঃ) ... সালিম (রহঃ)-এর পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, যখন তাঁকে সফরে দ্রুত চলতে হতো, তখন তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন।
হাদিস 601 — Sunan an Nasai 6:108
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا مِنْ غَيْرِ خَوْفٍ وَلاَ سَفَرٍ .
। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর ও আসর একত্রে আদায় করেছেন এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন। তখন সফররত অবস্থায়ও ছিলেন না এবং তার মধ্যে কোন ভয়-তীতিও ছিল না।
। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল-আযীয ইবনু রিযমা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ্বীনায় যোহর ও আসর একত্রে আদায় করতেন এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। তখন কোন ভয়ও ছিল না বা ও বৃষ্টিও ছিল না। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি কেন এরুপ করতেন? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ তার উম্মাতের যেন অসুবিধা না হয়।
হাদিস 603 — Sunan an Nasai 6:110
সহিহসহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّيْتُ وَرَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيًا جَمِيعًا وَسَبْعًا جَمِيعًا .
। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে একত্রে আট রাক’আত আদায় করেছি এবং সাত রাক’আতও।