। আহমদ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... বশীর ইবনু সাল্লাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফের আমলে আমি এবং মুহাম্মদ ইবনু আলী (রাঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদেরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে অবগত করুন। তিনি [জাবির (রাঃ)] বললেন, যখন সুর্য ঢলে পড়ল এবং ছায়া জুতার ফিতার সমান হল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে যোহরের সালাত আদায় করলেন। পুনরায় যখন ছায়া জুতার ফিতা পরিমান ও মানুষের ছায়ার সমপরিমাণ হল, তখন আসরের সালাত আদায় করলেন। সুর্য অস্তমিত হলে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। শাফাক অদৃশ্য হলে ইশার সালাত আদায় করলেন। প্রভাত হলে (প্রথম ওয়াক্তে) ফজরের সালাত আদায় করলেন। পরদিন লোকের ছায়া তার সমান হলে যোহরের সালাত আদায় করলেন। মানুষের ছায়া যখন তার দ্বিগুন হল এবং সূর্যাস্তের পূর্বে এতটুকু সময় বাকী রইল যে, একজন দ্রুতগামী আরোহী (মদিনা থেকে) যুল-হুলায়ফা পর্যন্ত পৌছতে পারে, তখন তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। রাত এক-তৃতীয়াংশ অথবা অর্ধাংশ শেষ হওয়ার পূর্বে (বর্ণনাকারী যায়দ সন্দেহ করলেন) ইশার সালাত আদায় করলেন। তারপর ফজরের সালাত আদায় করলেন যখন ফর্সা হয়ে গেল।
। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... সাইয়ার ইবনু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে আবূ বারযাহ (রাঃ)-এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। আমার পিতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে ফরজ সালাত আদায় করতেন, এ সমন্ধে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেনঃ সুর্য ঢলে পড়লে যোহরের সালাত আদায় করতেন যাকে তোমরা প্রথম সালাত বল। তিনি এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যে, সালাত আদায় করে কেউ মদিনার এক প্রান্তে নিজ অবস্থানে আসতে পারত এবং তখনও সুর্য করোজ্জ্বল থাকত। বর্ণনাকারী সাইয়ার (রাঃ) বলেনঃ মাগরিব সমন্ধে কি বলেছিলেন তা আমি ভুলে গেয়েছি। ইশার সালাত যাকে তোমরা ‘আতামা’ বল, বিলম্বে আদায় করাকে তিনি পছন্দ করতেন। ‘ইশার পূর্বে ঘুমানো ও ইশার পর কথা বলাকে মকরূহ জানতেন। আর ফজরের সালাত আদায় করে এমন সময় ফিরতেন যে, তখন যে কেউ তার পার্শ্ববর্তী লোককে চিনতে পারত। আর এ সালাতে ষাট আয়াত থেকে একশত আয়াত পাঠ করতেন।
। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুর্য ঢলে পড়ার পর জিবরীল (আলাইহিস সালাম) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ হে মুহাম্মদ! আপনি দাঁড়ান, সুর্য মাথার উপর থেকে ঢলে পড়লে যোহরের সালাত আদায় করুন। তারপর অপেক্ষা করলেন। যখন মানুষের ছায়া তার সমান হল, তখন আসরের জন্য তাঁর নিকট এসে বললেনঃ হে মুহাম্মদ! উঠুন এবং আসরের সালাত আদায় করুন। আবার অপেক্ষা করলেন। যখন সুর্য অস্তমিত হল তখন এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! উঠুন এবং মাগরিবের সালাত আদায় করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং সুর্য ডোবার সাথে সাথেই মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। পুনরায় অপেক্ষা করলেন এবং আকাশের শাফাক অদৃশ্য হয়ে গেলে তিনি এসে বললেনঃ উঠুন এবং ইশার সালাত আদায় করুন। তিনি দাঁড়িয়ে ইশার সালাত আদায় করলেন। যখন স্পষ্টরূপে প্রভাত হল, আবার এসে বললেনঃ হে মুহাম্মদ! উঠুন এবং ফজরের সালাত আদায় করুন। তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন। পরদিন ছায়া মানুষের বরাবর হলে আবার এসে বললেনঃ হে মুহাম্মদ! আপনি উঠুন এবং সালাত আদায় করুন। তিনি যোহরের সালাত আদায় করলেন। কোনো মানুষের ছায়া যখন দ্বিগুন হল জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আবার আসলেন এবং বললেনঃ হে মুহাম্মদ! উঠুন এবং সালাত আদায় করুন। তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন। সূর্যাস্তের পর পূর্ব দিনের ন্যায় মাগরিবের জন্য আবার আসলেন এবং বললেন, উঠে সালাত আদায় করুন। তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। রাতের এক-তৃতীয়াংশ চলে গেলে ইশার জন্য আবার এসে বললেনঃ উঠুন এবং সালাত আদায় করুন। তিনি ঈশা আদায় করলেন। প্রভাত স্পষ্ট হওয়ার পর ফজরের সালাতের জন্য আবার আসলেন এবং বললেন, উঠুন, সালাত আদায় করুন এবং তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, এই দুইদিনের সময়ের মধ্যবর্তী সময়ই সালাতের সময়।
। আমর ইবনু আলী ও মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের সালাত সময়ের শুরুতে আদায় করতেন। আসরের সালাত সুর্য উজ্জ্বল থাকতেই আদায় করে নিতেন। সূর্যাস্তের পরেই মাগরিবের সালাত আদায় করতেন। ইশার সালাত কখনও লোক একত্র হলে তাড়াতাড়ি আদায় করতেন আবার কখনও লোক জমায়েত দেরিতে হলে বিলম্বে আদায় করতেন।
। মুহাম্মদ ইবনু কুদামা (রহঃ) ... নু’মান ইবনু বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইশার সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে অধিক অবগত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয়ার (তৃতীয় রাতের চাঁদ) চাঁদ অস্ত যাওয়ার সময় ইশার সালাত আদায় করতেন।
। সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... সাইয়ার ইবনু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার পিতা আবূ বারযাহ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমার পিতা জিজ্ঞাসা করলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরজ সালাত কিভাবে আদায় করতেন? তিনি বললেনঃ সুর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়লে যোহরের সালাত আদায় করতেন, যাকে তোমরা (সালাতে) উলা বল এবং আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, আমাদের কেউ মদিনার দূর প্রান্তে নিজ অবস্থানে চলে যেতে পারত, তখনও সুর্য দীপ্তিমান থাকত। [বর্ণনাকারী সাইয়ার (রাঃ)] বলেনঃ মাগরিব সমন্ধে কি বলেছিলেন আমার স্মরণ নেই। ইশার সালাত যাকে তোমরা ‘আতামা’ বল, বিলম্বে আদায় করা তিনি পছন্দ করতেন। ইশার পূর্বে ঘুমানো ও পরে কথা বলাকে তিনি অপছন্দ করতেন। আর ফজরের সালাত আদায় করে এমন সময় ফিরতেন যখন কোনো ব্যাক্তি তার পার্শ্ববর্তী লোককে চিনতে পারত। তিনি ফজরের সালাতে ষাট থেকে একশত আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন।
। ইবরাহিম ইবনু হাসান ও ইউসুফ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ইবনু যুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতা (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার কাছে আমার ইশার সালাতের জন্য কোন সময়টি বেশি পছন্দ – তা ইমামরুপে আদায় করি বা একাকী? তিনি বললেনঃ আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, একরাত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, লোকজন ঘুমিয়ে পড়ল, আবার জাগ্রত হল, আবার ঘুমিয়ে পড়ল, আবার জাগ্রত হল। এমতাবস্থায় উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেনঃ সালাত, সালাত। আতা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এমতাবস্থায় যে, আমি যেন এখনও দেখতে পাচ্ছি তাঁর মাথা থেকে গোসলের পানি ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছিল এবং তাঁর মাথার একপাশে হাত রাখা ছিলো। আতা বলেন, ইবনু আব্বাস ইঙ্গিতে দেখালেন। আমি আতা (রহঃ)-কে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে মাথায় হাত রাখলেন? তিনি আমাকে ইঙ্গিতে দেখালেন যেভাবে ইবনু আব্বাস (রাঃ) ইঙ্গিতে দেখিয়েছিলেন। আতা (রহঃ) হাতের আঙ্গুলগুলো কিছু ফাঁক ফাঁক করে মাথার উপর এমনভাবে রাখলেন যে, আঙ্গুলগুলোর পার্শ্বদেশ মাথার অগ্রভাগে পৌঁছল। তারপর আঙ্গুলগুলো একত্র করে মাথার উপর এমনভাবে ঘর্ষণ করলেন যে, উভয় বৃদ্ধাঙ্গুলী চেহারা সংলগ্ন কানের অংশ স্পর্শ করলো। তারপর কানের পার্শ্ব ও ললাট এমনভাবে (মাসেহ) করলেন যেন কোন কাজ দ্রুত ও ধীরগতিতে করেননি, বরং তা স্বাভাবিকভাবে করেছেন। তারপর বললেনঃ আমার উম্মতের উপর যদি কঠিন না হতো, তবে আমি তাদের আদেশ করতাম, ইশার সালাত যেনো এভাবে বিলম্ব করে আদায় করে।
হাদিস 532 — Sunan an Nasai 6:39
সহিহসহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَخَّرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى ذَهَبَ مِنَ اللَّيْلِ فَقَامَ عُمَرُ - رضى الله عنه - فَنَادَى الصَّلاَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَقَدَ النِّسَاءُ وَالْوِلْدَانُ . فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمَاءُ يَقْطُرُ مِنْ رَأْسِهِ وَهُوَ يَقُولُ " إِنَّهُ الْوَقْتُ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي " .
। মুহাম্মদ ইবনু মানসুর মাক্কী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাতে বিলম্ব করলেন। রাতের এক অংশ চলে গেলে উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন – ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাত। মহিলা ও ছেলেমেয়েরা সকলে ঘুমিয়ে পরেছে। তিনি এমতবস্থায় বের হলেন যে, পবিত্র মাথা থেকে পানির ফোঁটা পড়ছিল এবং তিনি বলছিলেন, যদি আমি আমার উম্মতের পক্ষে কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে এটাই (ইশার মুস্তাহাব) ওয়াক্ত ছিলো।
হাদিস 533 — Sunan an Nasai 6:40
সহিহসহিহসহিহ Muslim
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُؤَخِّرُ الْعِشَاءَ الآخِرَةَ .
। কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত বিলম্বে আদায় করতেন।