কুূতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ হালাল মাল থেকে দান না করলে আল্লাহ্ তা'আলা তার দান কবুল করেন না। হালাল মাল থেকে কৃত দান আল্লাহ তা’আলা তাঁর ডান হাতে কবুল করেন যদিও তা একটি খেজুরই হােক না কেন এবং সে দান আল্লাহ্ তাআলার তত্ত্বাবধানে বৃদ্ধি পেতে পেতে পাহাড় থেকেও বিরাট আকার ধারণ করে থাকে। যেরূপ তোমাদের কেউ কেউ স্বীয় ঘোড়ার শাবকের বা উটের শাবকের লালন-পালন করে থাকে।
আবদুল ওয়াহহাব ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন হুবশী খাছ'আমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হল যে, সর্বোত্তম কাজ কোনটি? তিনি বললেন, সংশয়মুক্ত ঈমান খিয়ানত বিহীন জিহাদ, পাপমুক্ত হজ্জ। জিজ্ঞাসা করা হল যে, সর্বোত্তম সালাত কোনটি? তিনি বললেন, দীর্ঘ কিরাআত বিশিষ্ট সালাত, জিজ্ঞাসা করা হল যে, সৰ্বোত্তম সাদাকা কোনটি? তিনি বললেন, গরীবের দান। জিজ্ঞাসা করা হল যে, সর্বোত্তম হিজরত কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলার নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে বিরত থাকা। প্রশ্ন করা হল যে, সর্বোত্তম জিহাদ কোনটি? তিনি বললেন, মুশরিকদের বিরুদ্ধে নিজ জানমাল নিয়ে জিহাদ করা। জিজ্ঞাসা করা হল যে, সম্মানজনক নিহত হওয়া কোনটি? তিনি বললেন, যা রক্ত প্রবাহিত করা হয়েছে এবং ঘোড়াকে হত্যা করা হয়েছে (যে ব্যক্তি জিহাদে নিজের ধন-সম্পদ ব করেছে এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে।)
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক দিরহাম এক লক্ষ দিরহামের উপর প্রাধান্য নিয়ে গেছে। সাহাবীগণ বললেন যে, এটা কিভাবে? তিনি বললেন, এক ব্যক্তির শুধুমাত্র দুইটি দিরহাম ছিল সেখান থেকে সে একটি দান করে দিল, আর এক ব্যক্তি অগণিত ধন-সম্পদ থেকে এক লক্ষ দিরহাম নিয়ে দান করে দিল।
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক দিরহাম এক লক্ষ দিরহাম এর উপর প্রাধান্য নিয়ে গেছে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, সেটা কিভাবে ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, এক ব্যক্তির শুধুমাত্র দু'টি দিরহামই রয়েছে সেখান থেকে সে একটি দিরহাম নিল এবং সাদাকা করে দিল, আর এক ব্যক্তির অগণিত মাল রয়েছে, সেখান থেকে সে এক লক্ষ দিরহাম নিল এবং দান করে দিল।
হাদিস 2529 — Sunan an Nasai 23:95
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا بِالصَّدَقَةِ فَمَا يَجِدُ أَحَدُنَا شَيْئًا يَتَصَدَّقُ بِهِ حَتَّى يَنْطَلِقَ إِلَى السُّوقِ فَيَحْمِلَ عَلَى ظَهْرِهِ فَيَجِيءَ بِالْمُدِّ فَيُعْطِيَهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّي لأَعْرِفُ الْيَوْمَ رَجُلاً لَهُ مِائَةُ أَلْفٍ مَا كَانَ لَهُ يَوْمَئِذٍ دِرْهَمٌ .
হুসায়ন ইবন হুরায়স (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাদাকা করার নির্দেশ দিতেন কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি ছিল যার কাছে সাদাকা করার মত কিছুই ছিল না। অগত্যা সে বাজারে যেত এবং বােঝা বহন করত এবং এক মুদ নিয়ে এসে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিত। আমি এমন এক ব্যক্তিকে জানি যে আজ লক্ষ দিরহামের মালিক অথচ সে দিন তার কাছে এক দিরহামও ছিল না।
বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাদেরকে সাদাকা করতে নির্দেশ দিলেন আবু আকীল অর্ধ সা' সাদাকা করলেন আর অন্যান্য লােকেরা প্রচুর মাল-সামান নিয়ে আসল। তখন মুনাফিকরা বলল যে, আল্লাহ তা'আলা এ সমস্ত সাদাকার মুখাপেক্ষী নন। অথচ এ সমস্ত অন্যান্য লোকেরা লোক দেখানো মনোভাব নিয়ে সাদাকা করেছিল। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لاَ يَجِدُونَ إِلاَّ جُهْدَهُمْ অর্থঃ মুমিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদাকা দেয় এবং যারা নিজ শ্রম ব্যতিরেকে কিছুই পায় না। (সূরা তাওবাঃ)
কুতায়াবা (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একবার সাহায্য চাইলে তিনি আমাকে সাহায্য করলেন। আবার সাহায্য চাইলে আবারও আমাকে সাহায্য করলেন। পুনরায় সাহায্য চাইলে তিনি সাহায্য করলেন এবং বললেন যে, এ সমস্ত ধন-সম্পদ খুবই মনোমুগ্ধকর এবং চিত্তাকর্ষক। তাই যে ব্যক্তি সেগুলো সন্তুষ্টচিত্তে গ্ৰহণ করবে সেগুলোতে তার জন্য বরকত দেওয়া হবে, আর যে ব্যক্তি সেগুলো লোভাতুর অন্তরে গ্রহণ করবে তার জন্য সেগুলোতে বরকত দেওয়া হবে না। আর সে ব্যক্তি তার মত যে আহার করল। কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারুল না, আর উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম।
ইউসুফ ইবন ঈসা (রহঃ) ... তারিকুল মুহারিবী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার মদীনায় আসলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে উপস্থিত লোকদের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেনঃ দাতার হাত হল উপরের হাত। আর দান করা শুরু করবে স্বীয় পোষ্যদের থেকে- তোমার আম্মা, আব্বা, ভাই-বোন, তারপর তোমার নিকটাত্মীয়, নিকটাত্মীয়। (সংক্ষিপ্ত)
কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকা এবং কারো কাছে কিছু না চাওয়ার বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেনঃ উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম। উপরের হাত হল দাতার হােত আর নীচের হাত হল গ্ৰহীতার হাত।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উত্তম দান হল নিজ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস সাদাক করা। আর উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম, নিজ পোষ্য থেকে দান করা শুরু করবে।