মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি স্বীয় পরিবার-পরিজনের জন্য সওয়াবের নিয়্যতে খরচ করলে তা তার জন্য সাদাকারূপে গণ্য হবে।
হাদিস 2546 — Sunan an Nasai 23:112
সহিহসহিহ
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَعْتَقَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عُذْرَةَ عَبْدًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ، فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَلَكَ مَالٌ غَيْرُهُ " . قَالَ لاَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي " . فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَدَوِيُّ بِثَمَانِمِائَةِ دِرْهَمٍ فَجَاءَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " ابْدَأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا فَإِنْ فَضَلَ شَىْءٌ فَلأَهْلِكَ فَإِنْ فَضَلَ شَىْءٌ عَنْ أَهْلِكَ فَلِذِي قَرَابَتِكَ فَإِنْ فَضَلَ عَنْ ذِي قَرَابَتِكَ شَىْءٌ فَهَكَذَا وَهَكَذَا يَقُولُ بَيْنَ يَدَيْكَ وَعَنْ يَمِينِكَ وَعَنْ شِمَالِكَ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, উযরা গোত্রের এক ব্যাক্তি নিজের এক গােলামকে বলল যে, সে তার মৃত্যুর পর মুক্ত হয়ে যাবে। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তােমার কি এ গােলাম ছাড়া অন্য কোন সম্পত্তি আছে? সে বললঃ না। তখনরাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ গােলামকে আমার কাছ থেকে কে খরিদ করবে? তাকে নুআয়ম ইব্ন আব্দুল্লাহ আদাবী (রাঃ) আটশত দিরহাম দিয়ে খরিদ করে নিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দিরহাম নিয়ে এসে ঐ লােকটিকে দিয়ে দিলেন এবং বললেন, তুমি নিজের থেকে শুরু কর (অর্থাৎ) নিজের জন্য খরচ কর। কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে তা নিজ পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ কর। তারপর কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে তা নিজ আত্মীয়-স্বজনের জন্য খরচ কর। তারপরও কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে তা এরকম এরকমভাবে খরচ করবে এবং স্বীয় ডান হস্ত এবং বাম হস্ত দ্বারা ইশারা করলেন।
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দানশীল এবং কৃপণের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায় যারা বক্ষ থেকে অবশ্য গলার হাঁসুলী পর্যন্ত লম্বা দুটি লোহার বর্ম বা জুব্বা পরিধান করেছে। (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুব্বা বলেছেন না লোহার বর্ম বলেছেন রাবী তা নিশ্চয়তার সাথে বলতে পারেন নাই) দানশীল ব্যক্তি দান করার ইচ্ছা করলে তা সম্প্রসারিত হয়ে যায় অথবা লম্বা হয়ে যায় (এখানেও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্প্রসারিত হয়ে যায় বলেছেন, না লম্বা হয়ে যায় বলেছেন রাবী সেটা নিশ্চয়তার সাথে বলতে পারেন নাই।) সম্প্রসারিত হয়ে তার আঙ্গুল ঢেকে ফেলে এবং তার পদচিহ্ন মুছে দেয়। আর কৃপণ যখন ব্যয় করতে ইচ্ছা করে তখন বর্মটি আরো ছোট হয়ে যায় এবং প্রত্যেকটি কড়া নিজ নিজ স্থানে অবস্থান গ্ৰহণ করে এবং তাকে তার হাঁসুলী অথবা ঘাড়ের সাথে আটকিয়ে দেয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তা সম্প্রসারিত করতে দেখেছি। কিন্তু তা সম্প্রসারিত হচ্ছিল না। তাউস (রহঃ) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর ব্যাপারে শুনেছি যে, তিনি স্বীয় হাত দ্বারা ইশারা করে দেখিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সম্প্রসারিত করতে চেষ্টা করেছেন কিন্তু তা সম্প্রসারিত হয়নি।
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুৱায়রা (রাঃ) সূত্রে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, কৃপণ এবং দানশীল ব্যক্তি এমন দু’জন ব্যক্তির ন্যায় যাদের গায়ে দুটি লোহার বর্ম রয়েছে। যার দরুণ তাদের উভয়ের হাত গলার হাঁসুলীর সাথে লেগে রয়েছে। যখন দানশীল ব্যক্তি কোন কিছু দান করতে চায় তখন তা সম্প্রসারিত হয়ে যায় এবং তার পদচিহ্নকে মুছে ফেলে। আর কৃপণ যখন কোন কিছু দান করতে ইচ্ছা করে তখন প্ৰত্যেক কড়া নিজ নিজ স্থানে অবস্থান গ্ৰহণ করে এবং হাতকে তার গলার হাঁসুলীর সাথে মিলিয়ে দেয়। আর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, সে তা সম্প্রসারিত করতে চায় কিন্তু সম্প্রসারিত হয় না।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবু উমামা ইবন সাহল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা কিছু সংখ্যক মুহাজির ও আনসারসহ মসজিদে বসা ছিলাম। আমরা আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে একজন লোককে অনুমতি নেওয়ার জন্য পাঠালাম। অতঃপর তাঁর খেদমতে আমরা উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন যে, একবার আমার কাছে একজন ভিক্ষুক আসল তখন আমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন। আমি তাকে কিছু দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম। অতঃপর তাঁকে ডেকে দেখলাম তিনি কি দিতেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি চাও যে, তোমার ঘরে তোমার বিনা অনুমতিতে কোন কিছু প্ৰবেশ করুক এবং কোন কিছু বেরও না হােক, আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, হে আয়েশা, তুমি কখনও এরূপ করো না; তুমি কখনও হিসাব করে খরচ করবে না; নয়তো আল্লাহ্ তা'আলাও তোমাকে হিসাব করে করে দেবেন।
হাদিস 2550 — Sunan an Nasai 23:116
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ، عَنْ عَبْدَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا " لاَ تُحْصِي فَيُحْصِيَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكِ " .
মুহাম্মদ ইকূল আদম (রহঃ) ... আসমা বিনত আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেনঃ তুমি হিসাব করে খরচ (দান) করবে না নতুবা আল্লাহ তা'আলাও তোমাকে হিসাব করে দিবেন।
হাসান ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আসমা বিনত আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কাছে তো আমার স্বামী জুবায়র (রাঃ)-এর দেওয়া বস্তু ছাড়া অন্য কোন বস্তু নেই। অতএব তার দেয় বস্তু থেকে আমি কি কিছু দান করতে পারব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যা সম্ভব দান করবে এবং হিসাব করবে না; নয়তো আল্লাহ্ তা'আলাও তোমাকে হিসাব করে করে দেবেন।
হাদিস 2552 — Sunan an Nasai 23:118
সহিহসহিহসহিহ Bukhari
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْمُحِلِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ " .
নাসর ইবন আলী (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) সূত্রে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ (নিজেদের রক্ষা করা) যদিও তা খেজুরের টুকরা দ্বারাও হয়। (সামান্য বস্তু সাদাকা করতে পারলেও তা কর।)
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের আগুনের আলোচনা করলেন ও তিনি স্বীয় চেহারা মুবারক ফিরিয়ে নিলেন (এভাবে ফিরালেন যেন তিনি জাহান্নামকে সম্মুখে দেখছিলেন।) অতঃপর জাহান্নামের আগুন থেকে পানাহ্ চাইলেন। শু'বা (রহঃ) বলেন, তিনবার তিনি এরূপ করেছিলেন। অতঃপর বললেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, যদিও তা খেজুরের টুকরা দ্বারাও হয়। তাও যদি না পাও তাহলে অন্তত উত্তম কথা দ্বারা (জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো)।
আযহার ইবন জামীল (রহঃ) ... জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা একবার দুপুর বেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় কিছু নগ্নদেহী এবং নগ্নপদী লোক তলোয়ার (কাঁধে) লটকানো অবস্থায় আমাদের কাছে আসল। তাদের অধিকাংশ বরং সবাই মুদার গোত্রের ছিল। তাদের অনাহারে থাকার অবস্থা দর্শনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ রূপ ধারণ করল। তিনি বাড়ীর ভিতর গেলেন এবং বের হয়ে এসে বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে নির্দেশ দিলেন। বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাআতে সালাত আদায় করে খুতবা দিলেন এবং বললেনঃ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا - اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ অর্থঃ হে মানব! তােমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতেই সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তা হতে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন, যিনি তাদের দু'জন হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দেন এবং আল্লাহকে ভয় কর যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্চা কর এবং সতর্ক থাকি জ্ঞাতিবন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ দৃষ্টি রাখেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, প্রত্যেকেই ভাবিয়ে দেখুক আগামীকালের জন্য সে কী অগ্ৰীম পাঠিয়েছে। (সূরা নিসাঃ ১ এবং সূরা হাশর ১৮) প্রত্যেকে নিজ নিজ দীনার দিরহাম, কাপড়, এক সা' গম এবং এক সা' খেজুর হতেও দান কর বলতে বলতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতটুকু পর্যন্ত বললেন যে, এক টুকরা খেজুর হলেও দান কর। তখন একজন আনসারী সাহাবী একটি থলি নিয়ে আসলেন যেন তার হাত তা বহন করতে অপারগ হয়ে যেতে ছিল বরং অপারগ হয়েই গিয়েছিল। অতঃপর অন্যান্য লোকজনও তার অনুসরণ করল। আমি সেখানে কাপড় এবং খাদ্যের দু'টাে স্তুপ দেখতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা মুবারক উজ্জ্বল ও তাঁকে প্রফুল্ল দেখতে পেলাম। তখন তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামে কোন উত্তম প্রথা চালু করবে সে তার সওয়াব তো পাবেই উপরন্তু আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াবও পাবে। অথচ আমলকারীদের সওয়াব এর পরিমাণ কিছুমাত্র হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্মে কোন খারাপ প্রথা প্রচলন করবে তার জন্য তার গুনাহ তো রয়েছেই। উপরন্তু খারাপ প্রথার আমলকারীদের সমপরিমাণ গুনাহ্ও তার জন্য রয়েছে। অবশ্য তাদের গুনাহ বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।