উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) এবং মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওসকে (ত্রিশ মণ) এর কম মালে যাকাত ওয়াজিব হয় না। পাঁচ উটের কমেও যাকাত ওয়াজিব হয় না এবং পাঁচ ওকিয়া (দুই শত দিৱাহাম)-এর কমেও যাকাত ওয়াজিব হয় না।
ঈসা ইবনু হাম্মদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটির কম উটে যাকাত নেই, পাঁচ ওকিয়ার কম দ্রব্যেও যাকাত নেই। আর পাঁচ ওসাকের কম দ্রব্যেও কোন যাকাত নেই।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর (রাঃ) তাদেরকে লিখলেন যে, আল্লাহ তা’আলার নির্দেশক্রমে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের উপর এ ফরয যাকাত ধাৰ্য করেছেন। অতএব, যে মুসলিমকে নিয়ম মাফিক যাকাত আদায় করতে বলা হবে সে আদায় করে দেবে, আর যে ব্যক্তিকে এর চেয়ে বেশী আদায় করতে বলা হবে সে তা আদায় করবে না। পঁচিশটির কম উট হলে প্রত্যেক পাঁচ উটে একটি বকৱী দিতে হবে। পঁচিশ হতে পঁয়ত্ৰিশ পর্যন্ত দুই বছরী উট দিতে হবে। দুই বছরী উট না থাকলে একটি তিন বছৱী পুরুষ উট দিবে। ছয়ত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি তিন বছরী উট, ছেচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত একটি আরোহণের উপযুক্ত চার বছরী উট, একষট্রি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি পাঁচ বছৱী উট, ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দুইটি তিন বছরী উট, একানব্বই হতে একশত বিশ পর্যন্ত আরোহণের উপযুক্ত দুইটি চার বছৱী উট দিতে হবে। যখন একশত বিশটি উটের বেশী হবে তখন প্ৰত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছরী উট এবং প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি চার বছরী উট ওয়াজিব হবে। যখন যাকাত আদায়কালীন সময় উটের বয়সের বিভিন্নতা দেখা দেয়, যেমন কাহারের উপর একটি পাঁচ বছরী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে কোন পাঁচ বছরী উট নেই বরং তার কাছে চার বছরী উট আছে তখন তার কাছ থেকে চার বছরী উটি আদায় করে সম্ভব হলে আরো দু'টি ছাগল বা বিশটি দিরহাম আদায় করবে। যার উপর একটি চার বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার কাছে পাঁচ বছর বয়সী উটই আছে তখন তার কাছে থেকে তাই আদায় করে নেবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম অথবা দুইটি ছাগল যাই সম্ভব হয় ফিরিয়ে দেবে। যার উপর চার বছরী উট ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু তার কাছে চার বছর বয়সী উট নেই বরং তিন বছর বয়সী উট আছে, তখন তার কাছে থেকে তাই আদায় করা হবে এবং দুইটি ছাগল বা বিশটি দিরহাম যা সম্ভব তার সাথে আদায় করে নেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে শুধুমাত্র চার বছর বয়সী উট রয়েছে, তাহলে তার কাছে থেকে তাই আদায় করবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম বা দুইটি ছাগল ফিরিয়ে দেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে তিন বছর বয়সী উট নেই বরং তার কাছে দুই বছর বয়সী উট আছে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসূল করে নেবে এবং তার সাথে দুইটি ছাগল বা বিশটি দিরহাম যা সম্ভব তা নেবে। আর যার উপর দুই বছরী উট ওয়াজিব হয়ে যায় অথচ তার কাছে শুধুমাত্র তিন বছর বয়সী পুরুষ উট থাকে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসুল করে নেবে এবং তার সাথে অন্য কোন কিছু নেবে না। আর যার কাছে শুধুমাত্র চারটি উট আছে তার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। তবে হ্যাঁ, তার মালিক যদি কিছু আদায় করতে চায় তবে সেটা ভিন্ন কথা। আর চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যন্ত বিচরণকারী ছাগলে যাকাত হিসাবে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। একশত একুশ হতে দুইশত পর্যন্ত ছাগলে দুটি ছাগল ওয়াজিব হবে। দুইশত এক হতে তিনশত পর্যন্ত ছাগলে তিনটি ছাগল ওয়াজিব হবে। যখন এরও অধিক হয়ে যাবে তখন প্রত্যেক একশত ছাগলে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। আর অতি বৃদ্ধ খুঁত বিশিষ্ট এবং পুরুষ ছাগলও আদায় করবে না। তবে হ্যাঁ, উসুলকারী যদি ইচ্ছা করে তবে আদায় করতে পারবে। যাকাত আদায়ের ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশু কখনো একত্রিত করবে না এবং একত্রিত পশুও কখনো বিচ্ছিন্ন করবে না। আর শরিকী মালে যাকাত উভয় মালিকের উপর সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কারো বিচরণকারী ছাগল যদি চল্লিশটি থেকে একটিও কম হয়, তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিতে ইচ্ছে করে তবে সেটা ভিন্ন কথা। খাটি রৌপ্যে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত ওয়াজিব হবে। কারো কাছে যদি শুধু একশত নব্বই দিরহাম থাকে তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিয়ে ইচ্ছা করে তবে সেটা ভিন্ন কথা।
ইমরান ইবন বাক্কার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উটের মালিক যাকাত আদায় না করলে উট তার কাছে পূর্বাপেক্ষা অধিক বলিষ্ঠাকারে উপস্থিত হবে। তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে। আর ছাগলের মালিকও যাকাত আদায় না করলে ছাগল তার সামনে পূর্বাপেক্ষা অধিক বলিষ্ঠাকারে উপস্থিত হবে; তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে এবং স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন যে, জীব জন্তুর অধিকার হল পানির কাছে তার দুধ দোহন করা।* সাবধান, কেউ যেন কিয়ামতের দিন স্বীয় স্কন্ধ দেশে কোন উটি নিয়ে উপস্থিত না হয় যা চিৎকার করতে থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বলতে থাকবে, হে মুহাম্মদ! আমি বলবঃ আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তো আগেই আল্লাহর হুকুম পৌছিয়ে দিয়েছিলাম। সাবধান, তোমাদের কেউ যেন কিয়ামতের দিন স্বীয় স্কন্ধাদেশে কোন ছাগল নিয়ে উপস্থিত না হয়, যা চিৎকার করতে থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বলতে থাকবে, হে মুহাম্মাদ! তখন আমি বলবঃ আমি তো আগেই (আল্লাহর হুকুম) পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ তোমাদের কারো কারো সম্পদ যে সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যাকাত আদায় করা হয় না কিয়ামতের দিন বিষাক্ত সৰ্পের আকার ধারণ করবে। আর ঐ ব্যক্তি তা থেকে পলায়ন করতে থাকবে কিন্তু সাপে তার পিছু নিতে থাকবে এবং বলতে থাকবেঃ আমি তো তোমার সম্পদ। এইরূপ পিছু নিতে নিতে অবশেষে ঐ সৰ্প তার অঙ্গুলী (এবং পৰ্যায়ক্রমে সমস্ত দেহ) গিলে ফেলবে।
হাদিস 2449 — Sunan an Nasai 23:15
হাসানহাসানহাসান
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ بَهْزَ بْنَ حَكِيمٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " فِي كُلِّ إِبِلٍ سَائِمَةٍ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ لاَ تُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا لَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ إِبِلِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا لاَ يَحِلُّ لآلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا شَىْءٌ " .
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ঐ প্রত্যেক বিচরণকারী উটের যাকাত হল প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী উটনী। উটের হিসাব থেকে কোন উটকে বাদ দেওয়া হবে না। য়ে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়াতে তা দান করবে তার জন্য তার সওয়াব বুয়েছে আর যে ব্যক্তি তা আদায় করতে অস্বীকার করবে। আমিই তার থেকে তা উসুল করে নেব, সাথে সাথে আরো অর্ধেক উন্ট নিয়ে নেব। এটা আমার আল্লাহর হকসমূহ থেকে একটি হক। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরদের জন্য এর কোন অংশ বৈধ হবে না।
মুহাম্মাদ ইবন রাফি (রহঃ) ... মু'আয (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামেনে পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন তাদের প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার করে আদায় করেন। অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী চাদর আদায় করেন। আর গরুর যাকাত হিসেবে প্রত্যেক ত্ৰিশে একটি দুই বছর বয়সী বৃষ বা গাভী এবং প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী গাভী আদায় করেন।
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন আমি প্রত্যেক চল্লিশটি গরু থেকে একটি তিন বছর বয়সী গাভী এবং প্রত্যেক ত্রিশটি থেকে একটি দুই বছর বয়সী গরু। আর প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী কাপড় আদায় করি।
আহমদ ইবন হারবা (রহঃ) ... মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামানে পাঠান। তখন তাঁকে নির্দেশ দেন যেন তিনি প্রত্যেক ত্রিশটি গরুতে একটি দুই বছর বয়সী গরু বা গাভী এবং প্রত্যেক চল্লিশটি গরুতে একটি তিন বছর বয়সী গাভী আদায় করেন। আর প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী চাদর আদায় করেন।
মুহাম্মদ ইবনুন মানসুর তুসী (রহঃ) ... মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠানাের সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আমি গরুর সংখ্যা ত্রিশ না হওয়া পর্যন্ত তার থেকে কোন যাকাত আদায় না করি। যখন ত্রিশ হয়ে যাবে তখন একটি দুই বছর বয়সী পুরুষ অথবা স্ত্রী বাছুর (এঁড়ে বা বকনা) দিতে হবে। এ হুকুম চল্লিশ পর্যন্ত (ত্ৰিশের বেশী কিন্তু চল্লিশের কম)। চল্লিশ হয়ে গেলে তাতে একটি তিন বছর বয়সী গাভী ওয়াজিব হবে।
ওয়াসিল ইবন আব্দুল আ'লা (রাঃ) ... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উট, গরু এবং ছাগলের প্রাপ্য আদায় না করবে তাকে কিয়ামতের দিন একটি সমতল ভূমিতে উখিত করা হবে। তাকে ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তুরা ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে এবং শিং বিশিষ্ট জন্তুরা শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। সে দিন কোন জন্তু শিং বিহীন বা ভগ্ন শিং বিশিষ্ট থাকবে না। আমরা প্রশ্ন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! জন্তুর প্রাপ্য কি? তিনি বললেন, ষাঁড় গরু ধার দেওয়া, ডোল (বালতি) ধার দেওয়া এবং পশুর উপর আল্লাহর রাস্তায় ভার বহন করা। (আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য পশু ধার দেওয়া) আর যে ধন্যবান ব্যক্তি ধন সম্পদের যাকাত আদায় না করবে কিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ধন সম্পদ তার সামনে বিষাক্ত সৰ্পকারে উপস্থিত হবে, ঐ ধনবান ব্যক্তি তার থেকে পলায়ন করবে কিন্তু ঐ সৰ্প তার পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকবে এবং বলবে যে, এতো তোমার ধন সম্পদ যা থেকে তুমি ব্যয় করতে না। যখন সে ব্যক্তি দেখবে যে, ঐ সৰ্পের কাছে যেতেই হবে তখন সে স্বীয় হস্ত ঐ সৰ্পের মুখে প্রবেশ করিয়ে দেবে। আর সর্প তা চিবুতে থাকবে যে রূপ যাঁড় চিবুতে থাকে।