। হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন এক সময় উমর (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, ফিতনা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল কথা বলে গেছেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি সেগুলোকে বেশি মনে রাখতে সক্ষম হয়েছ? হুযাইফা (রাঃ) বললেন, আমি। তারপর হুযাইফা (রাঃ) বললেন, কোন লোকের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্তুতি ও প্রতিবেশীর ক্ষেত্রে যে বিপদ অর্থাৎ ক্রটি-বিচূতি হয় এগুলোর জন্য নামায, রোযা, দান-খাইরাত, সৎ কাজের প্রতি আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দেয়া হচ্ছে কাফফারা স্বরূপ। উমার (রাঃ) তখন বলেন, আমি এ সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করিনি, বরং সেই ফিতনা প্রসঙ্গে যা সমুদ্রের তরঙ্গের ন্যায় মাথা তুলে আসবে। তিনি বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! সেই ফিতনা ও আপনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা আছে। উমার (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, সেই দরজা কি ভাঙ্গা হবে, না খুলে দেয়া হবে? তিনি বলেন, বরং তা ভাঙ্গা হবে। তিনি বললেন, তাহলে তো কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত তা আর বন্ধ হবে না। আবূ ওয়াইল (রাহঃ) বলেন, হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসে আছেঃ আমি মাসরূককে বললাম, আপনি সেই দরজা প্রসঙ্গে হুযাইফা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করুন। তিনি এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলেন। তিনি (হুযাইফা) উত্তরে বলেন, উমার (রাঃ) হলেন সেই দরজা। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫৫৫), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।
। কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আমাদের সামনে আসলেন। আমরা সংখ্যায় ছিলাম নয়জন; পাঁচজন আরব এবং চারজন অনারব অথবা এর বিপরীত। তিনি বললেনঃ তোমরা শোন, তোমরা কি শুনেছ? খুব শীঘ্রই আমার পরে এমন কিছু সংখ্যক শাসক আবির্ভূত হবে, যে লোক তাদের সংস্পর্শে গিয়ে তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে এবং তাদেরকে অত্যাচারে সহায়তা দান করবে সে আমার দলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমিও তার দলে অন্তর্ভুক্ত নই। আর সে ব্যক্তি হাওযে কাওসারে আমার সামনে পৌছতে পারবে না। আর যে লোক তাদের সংস্পর্শে যাবে না, তাদের অত্যাচারে সহায়তা দান করবে না এবং তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে না, সে আমার এবং আমিও তার। সে হাওযে কাওসারে আমার সাক্ষাৎ লাভ করবে। সহীহ, ৬১৪ নং হাদীস আরও অধিক বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ্ গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই মিসআরের বর্ণিত হাদীস হিসাবে জেনেছি। হারুন বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল ওয়াহহাব (রাহঃ) পূর্বোক্ত হাদীসের ন্যায় হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান হতে, তিনি আবূ হুসাইন হতে, তিনি শাবী হতে, তিনি আসিম আল-আদাবী হতে, তিনি কা'ব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে। হারুন আরো বলেন, মিসআর বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীসটি সুফিয়ান-যুবাইদ হতে, তিনি ইবরাহীম (ইনি ইবরাহীম নাখঈ নন) হতে, তিনি কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে মুহাম্মাদ (রহঃ) বর্ণনা করেন। হুযাইফা ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের উপর এমন একটি যুগের আগমন ঘটবে যখন তার পক্ষে ধর্মের উপর ধৈর্য ধারণ করে থাকাটা জ্বলন্ত অঙ্গার মুষ্টিবদ্ধ করে রাখা ব্যক্তির মতো কঠিন হবে। সহীহ, সহীহাহ (৯৫৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ সূত্রে হাদীসটি গারীব। উমার ইবনু শাকির বসরার অধিবাসী মুহাদ্দিস। তার সূত্রে একাধিক হাদীস বিশারদ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আমার উম্মাত দাম্ভিকতার সাথে চলবে এবং পারস্য ও রোমের রাজবংশের লোকেরা তাদের দাসানুদাস হবে তখন এই উন্মাতের উত্তম ব্যক্তিদের উপর দুষ্ট ব্যক্তিদের কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেয়া হবে। সহীহ, সহীহাহ (৯৫৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী (রহঃ)-এর সূত্রে আবূ মু'আবিয়া (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-ওয়াসিতী-আবূ মু'আবিয়া হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ মু'আবিয়া-ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটির মূল প্রসঙ্গে কিছু জানা যায়নি। মূসা ইবনু উবাইদার বর্ণনাটি প্রসিদ্ধ। অধিকন্তু এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি আবদুল্লাহ ইবনু দীনার-ইবনু উমর (রাঃ) হতে এই সূত্রটি তাতে উল্লেখ করেননি।
হাদিস 2262 — Jami At Tirmidhi 33:105
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ عَصَمَنِي اللَّهُ بِشَيْءٍ سَمِعْتُهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا هَلَكَ كِسْرَى قَالَ " مَنِ اسْتَخْلَفُوا " . قَالُوا ابْنَتَهُ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمُ امْرَأَةً " . قَالَ فَلَمَّا قَدِمَتْ عَائِشَةُ يَعْنِي الْبَصْرَةَ ذَكَرْتُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَصَمَنِي اللَّهُ بِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .
। আবূ বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে শুনা একটি উক্তি দ্বারা আল্লাহ তা'আলা আমাকে (উষ্ট্রের যুদ্ধে অংশগ্রহণ হতে) রক্ষা করেছেন। পারস্য সম্রাট কিসরা নিহত হওয়ার পর তিনি প্রশ্ন করেনঃ তারা কাকে শাসক হিসাবে নিয়োগ করেছে? সাহাবীগণ বলেন, তার কন্যাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে জাতি নিজেদের শাসক হিসাবে নারীকে নিয়োগ করে সে জাতির কখনো কল্যাণ হতে পারে না। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আইশা (রাঃ) বসরায় আসার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐ বাণী আমার মনে পড়ে গেল। অতএব, এর মাধ্যমেই আল্লাহ তা'আলা আমাকে (আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্ৰধারণ হতে) রক্ষা করেন। সহীহ, ইরওয়া (২৪৫), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে থাকা কয়েকজন লোকের পাশে এসে দাড়িয়ে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম কে এবং সবচাইতে নিকৃষ্ট কে তা কি আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব না? বর্ণনাকারী বলেন, সকলেই চুপ করে রইল। তারপর তিনি ঐ কথা তিনবার জিজ্ঞেস করেন। তারপর এক ব্যক্তি বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল আমাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমাদের মধ্যে কে সর্বাধিক উত্তম এবং কে সর্বাধিক নিকৃষ্ট। তিনি বললেনঃ সেই লোক তোমাদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম যার নিকট কল্যাণ কামনা করা যায় এবং যার ক্ষতি হতে মুক্ত থাকা যায়। আর সেই লোক তোমাদের মধ্যে সবচাইতে নিকৃষ্ট যার নিকট কল্যাণের আশা করা যায় না এবং যার ক্ষতি হতেও নিরাপদ থাকা যায় না। সহীহ, মিশকাত (৪৯৯৩)। (আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ)।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে উত্তম শাসক (নেতা) ও নিকৃষ্ট শাসকদের ব্যাপারে কি জানিয়ে দিব না? উত্তম শাসক হচ্ছে তারাই যাকে তোমরা ভালবাস এবং তারাও তোমাদেরকে ভালবাসে, আর তোমরা তাদের জন্য দু’আ কর এবং তারাও তোমাদের জন্য দুআ করে। নিকৃষ্ট শাসক হচ্ছে তারাই যাকে তোমরা ঘৃণা কর এবং তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে, আর তোমরা তাদেরকে অভিশাপ প্রদান কর এবং তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ প্রদান করে। সহীহ, সহীহাহ (৯০৭), মুসলিম প্রশ্নের উল্লেখ ব্যতীত। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র মুহাম্মাদ ইবনু হুমাইদের বর্ণনায় জেনেছি। আর মুহাম্মাদ তার স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে সমালোচিত।
। উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শীঘ্রই তোমাদের মধ্যে এমন কিছু সংখ্যক ব্যক্তি শাসক হবে যাদের কতগুলো কাজ তোমরা পছন্দ করবে এবং কতগুলো কাজ অপছন্দ করবে। যে লোক (তাদের) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, সে দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে, আর যে লোক তাকে ঘৃণা করবে সেও দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু যে লোক তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে এবং তার অনুসরণ করবে সে অন্যায়ের অংশীদার বলে গণ্য হবে। প্রশ্ন করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করব না? তিনি বললেন, না, তারা যে পর্যন্ত নামায আদায় করে। সহীহ, মুসলিম (৬/২৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের মধ্যকার উত্তম লোক তোমাদের শাসক হবে তোমাদের সম্পদশালীরা দানশীল হবে এবং তোমাদের কর্ম পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে, তখন ভূতলের তুলনায় ভূপৃষ্ঠই তোমাদের জন্য উত্তম হবে। আর যখন তোমাদের মধ্যকার খারাপ লোক তোমাদের শাসক হবে, তোমাদের সম্পদশালীরা কৃপণ হবে এবং তোমাদের কার্যবলী তোমাদের নারীদের উপর ন্যস্ত করা হবে তখন ভূতলই ভূপৃষ্ঠের তুলনায় তোমাদের জন্য উত্তম হবে (অর্থাৎ জীবনের চেয়ে মৃত্যুই উত্তম)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র সালিহ আল-মুররীর সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। সালিহ-এর রিওয়ায়াত অত্যন্ত গারীব (আখ্যাত) যার কোন সমর্থক পাওয়া যায় না। তিনি সজ্জন হলেও হাদীসের ব্যাপারে তাকে অনুসরণ করা যায় না।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা এমন এক যুগে অবস্থান করছ যে, যদি তোমাদের কোন ব্যক্তি নির্দেশিত বিষয়ের (কর্তব্যকর্মের) এক-দশমাংশ পরিমাণও ত্যাগ করে তাহলে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। তারপর এমন এক যুগের আগমণ ঘটবে যে, কোন ব্যক্তি যদি নির্দেশিত বিষয়ের এক-দশমাংশ পরিমাণও পালন করে তাহলে সে মুক্তি লাভ করবে। সহীহ, সহিহাহ (২৫১০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র নুআইম ইবনু হাম্মাদের সূত্রে সুফিয়ান ইবনু উআইনা হতে জেনেছি। আবূ যার ও আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।