। আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হে লোকসকল! তোমরা তো অবশ্যই এই আয়াত তিলাওয়াত করে থাকঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের নিজেদেরই কর্তব্য তোমাদেরকে সংশোধন করা। যদি তোমরা সৎপথে থাক তাহলে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তারা তোমাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না” (সূরাঃ মাইদা- ১০৫)। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ মানুষ যদি কোন অত্যাচারীকে অত্যাচারে লিপ্ত দেখেও তার দুহাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করে তাহলে আল্লাহ তা'আলা অতি শীঘ্রই তাদের সকলকে তার ব্যাপক শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত করবেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪০০৫)। উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-ইয়াযীদ ইবনু হারুন হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, আইশা, উম্মু সালামা, নুমান ইবনু বাশীর, আবদুল্লাহ ইবনু উমার ও হুযাইফা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ। ইসমাঈলের সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী ইয়াযীদ হতে বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন। এটি ইসমাঈল হতে কেউ মারফু হিসাবে আবার কেউ মাওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
। হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই তোমরা সৎকাজের জন্য আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে। তা না হলে আল্লাহ তা'আলা শীঘ্রই তোমাদের উপর তার শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তোমরা তখন তার নিকট দুআ করলেও তিনি তোমাদের সেই দু'আ গ্রহণ করবেন না। সহীহ, সহীহাহ (২৮৬৮), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় আবূ আমর (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের ইমামকে হত্যা করবে এবং পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হবে এবং নিকৃষ্টতম ব্যক্তিরা তোমাদের দুনিয়ার হর্তাকর্তা হবে, ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৪০৪৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমর ইবনু আবূ আমরের সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীসটি জেনেছি।
হাদিস 2171 — Jami At Tirmidhi 33:14
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ذَكَرَ الْجَيْشَ الَّذِي يُخْسَفُ بِهِمْ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ لَعَلَّ فِيهِمُ الْمُكْرَهَ . قَالَ " إِنَّهُمْ يُبْعَثُونَ عَلَى نِيَّاتِهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ عَائِشَةَ أَيْضًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন একদিন একটি সামরিক বাহিনী প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা করলেন, যারা ভূমিতে (জীবন্ত) ধসে যাবে। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, তাদের মধ্যে কিছু লোককে হয়তো জবরদস্তিমূলকভাবে ভর্তি করা হয়ে থাকবে। তিনি বললেনঃ তাদের নিয়্যাত অনুসারে তাদেরকে পুনরুত্থান করা হবে। সহীহ, তা’লীক আলা ইবনু মা-জাহ, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। নাফি ইবনু জুবাইর হতে আইশা (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।
। তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মারওয়ান ঈদের নামাযের পূর্বে সর্বপ্রথম খুতবাহর প্রচলন করেন। তখন কোন একজন লোক এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে মারওয়ানকে বলেন, আপনি তো সুন্নাত (বিধান) পরিপন্থী কাজ করলেন। মারওয়ান বলল, হে মিয়া! ঐ পন্থা এখানে বাতিল হয়ে আছে। আবূ সাঈদ (রাঃ) পরবর্তীতে বলেন, এ প্রতিবাদকারী তার দায়িত্ব পালন করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যদি তোমাদের মধ্যে কোন লোক কোন অন্যায় সংঘটিত হতে দেখে তাহলে সে যেন তার হাত দ্বারা (ক্ষমতা প্রয়োগে) তা প্রতিহত করে। যদি এই যোগ্যতা তার না থাকে সে যেন তার মুখ দ্বারা তা প্রতিহত করে। যদি এই যোগ্যতাও তার না থাকে তাহলে সে যেন তার অন্তর দ্বারা তা প্রতিহত করে (অন্যায়কে ঘৃণা করে)। আর এটা হলো দুর্বলতম ঈমান। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১২৭৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা আল্লাহ তা'আলার বিধানকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে এবং যারা অবহেলা করে তাদের উদাহরণ হলো সমুদ্রগামী একটি জাহাজের যাত্রীদের অনুরূপ, যারা লটারীর মাধ্যমে এর দুই তলায় আসন নির্ধারণ করল। একদল উপর তলায় অন্যদল নীচের তলায়। নীচের তলার লোকেরা পানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপর তলায় উঠত। ফলে উপরের লোকদের ঐখানে পানি পড়ত। উপর তলার লোকেরা বলল, আমাদের এখানে পানি ফেলে তোমরা আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছ। সুতরাং আমরা তোমাদেরকে উপরে উঠতে দিব না। নীচের তলার লোকেরা বলল, তাহলে জাহাজের তলা ছিদ্র করে আমরা পানি সংগ্রহ করব। এরকম পরিস্থিতিতে উপরের তলার লোকেরা যদি নীচের তলার লোকদের হাত জাপটে ধরে তাদেরকে ছিদ্র করা হতে বিরত রাখতে পারে তাহলে সকলেই বেঁচে যাবে। কিন্তু তারা যদি এদেরকে এ কাজ করতে ছেড়ে দেয় (প্রতিরোধ না করে) তাহলে সকলেই ডুবে মরবে। সহীহ, সহীহাহ (৬৯), তা’লীকুর রাগীব (২/১৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবচেয়ে উত্তম জিহাদ হচ্ছে স্বৈরাচারী শাসকের সামনে ন্যায্য কথা বলা। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪০১০)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ উমামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
আবদুল্লাহ ইবনু খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা খুব দীর্ঘায়িত করে নামায আদায় করেন। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনি তো কখনো এভাবে নামায আদায় করেননি! তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এ নামায ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও ভীতিপূর্ণ। আমি এতে তিনটি বিষয়ের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আবেদন করেছি। তিনি আমাকে দুটি দিয়েছেন এবং একটি দেননি। আমি তার নিকট আবেদন করেছি, তিনি আমার উম্মাতকে যেন দুর্ভিক্ষে নিক্ষেপ করে ধ্বংস না করে দেন। আমার এ দু'আ তিনি কুবুল করেছেন। তারপর আমি আবেদন করেছি যে, তিনি বিজাতীয় শক্রদেরকে যেন তাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে না দেন। আমার এ দু'আও তিনি কুবুল করেছেন। আমি আরো আবেদন জানিয়েছি যে, তারা যেন পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহের আস্বাদ না নেয়। আমার এ দুআ তিনি কুবুল করেননি। সহীহ, সিফাতুস সালাত। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। সা'দ ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার জন্য দুনিয়াকে আল্লাহ তা'আলা সংকুচিত করেন। ফলে আমি এর পূর্ব-পশ্চিম সকলদিক দর্শন করি। আমার জন্য দুনিয়ার যেটুকু পরিমাণ সংকুচিত করা হয়েছে, আমার উন্মাতের রাজত্ব শীঘ্রই ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করবে। আর আমাকে লাল-সাদা (সোন-রূপা) দুটি খনিজ ভাণ্ডারই প্রদান করা হয়েছে। অধিকন্তু আমি আমার উম্মাতের জন্য আমার প্রভুর নিকট আবেদন করেছি যে, তিনি যেন তাদেরকে মারাত্মক দুর্ভিক্ষে ফেলে ধ্বংস না করে দেন এবং তাদের ব্যতীত বিজাতি দুশমনদেরকে যেন তাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে না দেন যাতে তারা তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করার সূযোগ পেতে পারে। আমার প্রভু বলেন, হে মুহাম্মাদ! আমি কোন ফায়সালা করলে তা কোন ক্রমেই পরিবর্তিত হওয়ার নয়। আমি তোমার উম্মাতের জন্য কবুল করলাম যে, প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে তাদের ধ্বংস করব না, তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য কোন দুশমনদেরকে তাদের উপর আধিপত্যশালী করব না যাতে তারা তোমার উম্মাতকে বিনাশ করতে সুযোগ না পায়, এমনকি (দুনিয়ার) সকল অঞ্চল হতে তারা একজোট হয়ে এলেও। তবে তারা পরস্পর পরস্পরকে ধ্বংস করবে এবং কতক কতককে বন্দী করবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯৫২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উম্মু মালিক আল-বাহযিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন একদিন একটি ফিতনার উল্লেখ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তা খুবই নিকটবর্তী। বর্ণনাকারী বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এ ফিতনা চলাকালে সর্বত্তোম ব্যক্তি কে হবে? তিনি বললেনঃ যে লোক তার পশুপাল নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, পশুপালের হক (যাকাত) প্রদান করবে এবং তার প্রভুর ইবাদাত করবে। আর যে লোক তার ঘোড়ার মাথা ধরে থাকবে এবং শক্রদের ভীতি প্রদর্শন করবে এবং তারাও তাকে ভয় দেখাবে। সহীহ, সহীহাহ (৬৯৮), তা’লীকুর রাগীব (২/১৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, উম্মু মুবাশশির, আবূ সাঈদ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। এ হাদীসটি তাউস-উম্মু মালিক আল-বাহযিয়া (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে লাইস ইবনু আবূ সুলাইমও বর্ণনা করেছেন।