। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রায় ত্রিশজন ডাহা মিথ্যাবাদী প্রতারকের আবির্ভাবের পূর্বে কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তাদের সকলে দাবি করবে যে, সে আল্লাহ্ তা'আলার প্রেরিত রাসূল। সহীহ, সহীহাহ (১৬৮৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, জাবির ইবনু সামুরা ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুশরিকদের সাথে আমার উম্মাতের কতিপয় গোত্র না মিলিত হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, এমনকি তারা মূর্তিপূজাও করবে। আমার উম্মাতের মধ্যে খুব শীঘ্রই ত্রিশজন ডাহা মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে। এদের সকলেই দাবি করবে যে সে নবী। অথচ আমিই সর্বশেষ নবী, আমার পরে কোন নবী নেই। সহীহ, মিশকাত (৫৪০৬), সহীহাহ (১৬৮৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মিথ্যাবাদী ও এক নরঘাতক সাকীফ বংশে জন্মগ্রহণ করবে। সহীহ, মুসলিম (৭/১৯১)। আবূ ঈসা আরো বলেন, কথিত আছে যে, এ মিথ্যাবাদী ব্যক্তিটি হলো মুখতার ইবনু আবূ উবাইদ এবং রক্তপিপাসু নরঘাতক হলো হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ (এরা দুজনেই সাকীফ বংশের)। উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস আবদুর রাহমান ইবনু ওয়াকিদ-শারীক (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান ইবনু উমারের বর্ণনা হিসাবে গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র শারীকের সূত্রে জেনেছি। শারীক বলেন, বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু উসম এবং ইসরাঈল বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু ইসমাহ। আবূ দাউদ সুলাইমান ইবনু সালম আল-বালধী-নাযার ইবনু শুমাইল হতে, তিনি হিশাম ইবনু হাসসান (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হাজ্জাজ যে সকল ব্যক্তিকে বন্দী করে এনে খুন করে তাদের সংখ্যা ছিল একলক্ষ বিশহাজার। সহীহ মাকতু। আবূ ঈসা বলেন, আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আমার যমানাই হলো সর্বোৎকৃষ্ট যমান, তারপর এর নিকটবর্তীদের যমানা, তারপর এর নিকটবর্তীদের যমানা। তারপর এমন যুগের আগমন ঘটবে যখনকার লোকেরা হবে মোটা দেহ বিশিষ্ট এবং তারা মোটা দেহের অধিকারী হতে পছন্দ করবে। সাক্ষ্য না চাওয়া হলেও তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে। সহীহঃ সহীহাহ (১৮৪০), বুখারী ও মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আমাশ-আলী ইবনু মুদরিক হতে তিনি হিলাল ইবনু ইয়াসাফের সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু ফু্যাইল অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। আর একাধিক হাফিয বর্ণনাকারী-আমাশ হতে, তিনি হিলাল ইবনু ইয়াসাফের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তবে তারা বর্ণনাকারী আলী ইবনু মুদরিকের কথা উল্লেখ করেননি। হুসাইন ইবনু হুরাইস (রাহঃ) ওয়াকী হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি হিলাল ইবনু ইয়াসাফ হতে, তিনি ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (তিরমিয়ী বলেন) আমার মতে মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইলের সূত্র অপেক্ষা এ সূত্রটি অনেক বেশি সহীহ। এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যে যুগে যাদের মাঝে প্রেরিত হয়েছি সেই যুগের আমার উন্মাতই হলো শ্রেষ্ঠ; তারপর তাদের পরবর্তী যুগের লোক। বর্ণনাকারী বলেন, তৃতীয় যুগের কথা বলা হয়েছে কি-না তা আমি জানি না। তারপর এমন কিছু মানুষের আগমন ঘটবে যাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া না হলেও তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে। তারা খিয়ানাত করবে, আমানাত রক্ষা করবে না এবং তাদের মধ্যে মোটা দেহ বিশিষ্ট মানুষের বিস্তার ঘটবে। সহীহ, সহীহাহ (১৮৪০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরে বারোজন শাসক হবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি কি যে বললেন, আমি তা বুঝতে পারিনি। তাই আমি আমার কাছের একজন লোককে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাদের সকলেই কুরাইশ বংশীয় হবে। সহীহ, সহীহাহ (১০৭৫), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উপরোক্ত হাদীসের মতো বর্ণিত আছে আবু কুরাইব হতে, তিনি উমার ইবনু উবাইদ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবু নকর ইবনু আবু মুসা হতে, তিনি জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব। এ হাদীসটিকে আবূ মূসা হতে জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ)-এর সূত্রে গারীব বলা হয়। ইবনু মাসউদ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। যিয়াদ ইবনু কুসাইব আল-আদাবী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ইবনু আমিরের মিম্বরের নিকট আবূ বাকরা (রাঃ)-এর সাথে বসা ছিলাম। সে সময় তিনি সূক্ষ্ম মিহি পোশাক পরিহিত অবস্থায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। আবূ বিলাল বললেন, তোমরা আমাদের শাসকের প্রতি লক্ষ্য করে দেখ, তিনি গুনাহগারদের অনুরূপ পোশাক পরেছেন। আবূ বাকরা (রাঃ) বললেন, তুমি চুপ থাক, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ দুনিয়াতে আল্লাহ তা'আলার নিযুক্ত শাসককে যে ব্যক্তি অপমান করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে অপমান করবেন। হাসান, সহীহাহ (২২৯৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলা হলো, আপনি যদি আপনার পরবর্তী খালীফা (প্রতিনিধি) মনোনীত করে যেতেন! তিনি বললেন, আমি যদি পরবর্তী খালীফা মনোনীত করি তাহলে আবূ বাকর (রাঃ)-ও পরবর্তী খালীফা মনোনীত করেছিলেন। আর আমি যদি পরবতী খালীফা মনোনীত না করে যাই (তাও যথার্থ হবে), কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে খালীফা মনোনীত করে যাননি। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৬০৫), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসে আরো দীর্ঘ ঘটনা আছে-যো সহীহ মুসলিমের কিতাবুল ইমারা-এর প্রথমদিকে উল্লেখিত)। এ হাদীসটি সহীহ। এ হাদীসটি ইবনু উমার (রাঃ) হতে একাধিকসূত্রে বর্ণিত আছে।
। সাঈদ ইবনু জুহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সাফীনাহ (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের খিলাফাতের সময়কাল (শাসনকাল) হবে ত্ৰিশবছর, তারপর হবে রাজতন্ত্র। সহীহ, সহীহাহ (৪৫৯, ১৫৩৪, ১৫৩৫)। তারপর সাফীনাহ (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফতকাল গণনা কর। তারপর বললেন, উমার ও উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকাল গণনা কর। তারপর বললেন, আলী (রাঃ)-এর খিলাফতকালও গণনা কর। আমরা গণনা করে এর সময়কাল ত্ৰিশবছরই পেলাম। সাঈদ (রহঃ) বললেন, আমি তাকে বললাম, বানু উমাইয়্যার জনগণও দাবি করে যে, তাদের মাঝেও খিলাফাত বিদ্যমান? তিনি বললেন, যারকার সন্তানেরা মিথ্যা বলছে, বরং তারা তো নিকৃষ্ট রাজতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত রাজতান্ত্রিক গোষ্ঠী। আবূ ঈসা বলেন, উমার ও আলী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। তারা বলেন, খিলাফাত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন অঙ্গীকার করে যাননি। এ হাদীসটি হাসান। অবশ্য এ হাদীসটি সাঈদ ইবনু জুমহান (রাহঃ) হতে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র তার রিওয়ায়াত হিসাবেই জেনেছি।
। হাবীব ইবনুয যুবাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবূল হুযাইল (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমর ইবনুল আস (রাঃ)-এর সামনে রাবীআ বংশের কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিল। বাকর ইবনু ওয়াইল বংশের কোন একজন লোক বলল, অবশ্যই অন্যায় কাজ হতে কুরাইশদের বিরত থাকা উচিত। তা না হলে আল্লাহ তা'আলা এ (খিলাফাতের) দায়িত্ব আরবদের মাঝে অন্যদেরকে প্রদান করবেন। আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, তুমি ভুল বলেছ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন পর্যন্ত কুরাইশগণ ভাল-মন্দ সর্বাবস্থায় জনগণের নেতৃত্ব দিবে। সহীহ, সহীহাহ (১১৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু মাসউদ ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।