। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন কনস্টান্টিনোপল বিজয় সংঘটিত হবে কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে। সনদ সহীহ, মাওকুফ। মাহমূদ বলেন, এ হাদীসটি গারীব। কনস্টান্টিনোপল রোম সাম্রাজ্যের (বর্তমান তুরস্কের) একটি প্রসিদ্ধ শহর। দাজ্জালের আবির্ভাবকালে এটা বিজিত হবে। এটা অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবীদের যামানায় (আমীর মুআবিয়ার রাজত্বকালে) বিজিত হয়েছে।
। আন-নাওয়াস ইবনু সামআন আল-কিলাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সকালে দাজ্জাল প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি এর ভয়াবহতা ও নিকৃষ্টতা তুলে ধরেন। এমনকি আমাদের ধারণা সৃষ্টি হলো যে, সে হয়তো খেজুর বাগানের ওপাশেই বিদ্যমান। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে চলে গেলাম, তারপর আবার আমরা তার নিকট ফিরে এলাম। তিনি আমাদের মধ্যে দাজ্জালের ভীতির চিহ্ন দেখে প্রশ্ন করেনঃ তোমাদের কি হয়েছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনি সকালে দাজ্জাল প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং এর ভয়াবহতা ও নিকৃষ্টতা এমন ভাষায় উত্থাপন করেছেন যে, আমাদের ধারণা হচ্ছিল যে, হয়তো সে খেজুর বাগানের পাশেই উপস্থিত আছে। তিনি বললেনঃ তোমাদের ক্ষেত্রে দাজ্জাল ছাড়াও আমার আরো কিছুর আশংকা রয়েছে। যদি সে আমার জীবদ্দশাতেই তোমাদের মাঝে আসে তাহলে আমিই তোমাদের পক্ষে তার প্রতিপক্ষ হবো। আর সে যদি আমার অবর্তমানে আবির্ভূত হয়, তাহলে তোমরাই তার প্রতিপক্ষ হবে। আর আল্লাহ্ তা'আলাই প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার পরিবর্তে সহায় হবেন। সে (দাজ্জাল) হবে কুঞ্চিত (কোকড়া) চুলবিশিষ্ট, স্থির দৃষ্টিসম্পন্ন যুবক, সে হবে আবদুল উযযা ইবনু কাতানের অনুরূপ। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার দেখা পায় তাহলে যেন সে সূরা কাহফ-এর প্রাথমিক আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে। তিনি বললেনঃ সে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী কোন এলাকা হতে আত্মপ্রকাশ করবে। তারপর সে ডানে-বামে ফিতনা ফ্যাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়াবে। হে আল্লাহর বান্দাহগণ! তোমরা দৃঢ়তার সাথে অবস্থান করবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। সে কত দিন দুনিয়াতে থাকবে? তিনি বললেনঃ চল্লিশ দিন। এর একদিন হবে একবছরের সমান, একদিন হবে একমাসের সমান এবং একদিন হবে একসপ্তাহের সমান, আর অবশিষ্ট দিনগুলো হবে তোমাদের বর্তমান দিনের মতো। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনার কি ধারণা, যে দিনটি একবছরের সমান হবে, তাতে একদিনের নামায আদায় করলেই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমরা সেদিনের সঠিক অনুমান করে নেবে (এবং সে অনুযায়ী নামায আদায় করবে)। আমরা আবার প্রশ্ন করলাম, দুনিয়াতে তার চলার গতি কত দ্রুত হবে? তিনি বললেনঃ তার চলার গতি হবে বায়ুচালিত মেঘের অনুরূপ; তারপর সে কোন জাতির নিকট গিয়ে তাদেরকে নিজের দলের দিকে আহবান জানাবে, কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করবে এবং তার দাবি প্রত্যাখ্যান করবে। সে তখন তাদের নিকট হতে ফিরে আসবে এবং তাদের ধন-সম্পদও তার পিছনে পিছনে চলে আসবে। তারা পরদিন সকালে নিজেদেরকে নিঃস্ব অবস্থায় পাবে। তারপর সে অন্য জাতির নিকট গিয়ে আহবান করবে। তারা তার আহবানে সাড়া দিবে এবং তাকে সত্য বলে মেনে নিবে। সে তখন আকাশকে বৃষ্টি বর্ষনের জন্য আদেশ করবে এবং সে অনুযায়ী আকাশ বৃষ্টি বর্ষন করবে। তারপর সে যামীনকে ফসল উৎপাদনের জন্য নির্দেশ দিবে এবং সে মুতাবিক যামীন ফসল উৎপাদন করবে। তারপর বিকেলে তাদের পশুপালগুলো পূর্বের চেয়ে উচু কুঁজবিশিষ্ট, মাংসবহুল নিতম্ববিশিষ্ট ও দুগ্ধপুষ্ট স্তনবিশিষ্ট হবে। তারপর সে নির্জন পতিত ভূমিতে গিয়ে বলবে, তোর ভিতরের খনিজভাণ্ডার বের করে দে। তারপর সে সেখান হতে ফিরে আসবে এবং সেখানকার ধনভাণ্ডার তার অনুসরণ করবে যেভাবে মৌমাছিরা রাণী মৌমাছির অনুসরণ করে। তারপর সে পূর্ণযৌবন এক তরুণ যুবককে তার দিকে আহবান করবে। সে তলোয়ারের আঘাতে তাকে দুই টুকরা করে ফেলবে। তারপর সে তাকে ডাক দিবে, অমনি সে হাস্যোজ্জ্বল চেহারা নিয়ে সামনে এসে দাড়াবে। হলুদ রংয়ের দুটি কাপড় পরিহিত অবস্থায় দুজন ফিরিশতার ডানায় ভর করে ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অবতরণ করবেন। তিনি তার মাথা নীচু করলে ফোটায় ফোটায় এবং উচু করলেও মনিমুক্তার ন্যায় (ঘাম) পড়তে থাকবে। তার নিঃশ্বাস যে ব্যক্তিকেই স্পর্শ করবে সে মারা যাবে; আর তার শ্বাসবায়ু দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত পৌছবে। তারপর তিনি দাজ্জালকে খোঁজ করবেন এবং তাকে 'লুদ্দ’-এর নগরদ্বারপ্রান্তে পেয়ে হত্যা করবেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা মতো এভাবে তিনি অতিবাহিত করবেন। তারপর আল্লাহ তা'আলা তার নিকট ওয়াহী প্রেরণ করবেনঃ “আমার বান্দাহদেরকে তুর পাহাড়ে সরিয়ে নাও। কেননা, আমি এমন একদল বান্দাহ অবতীর্ণ করছি যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারো নেই”। তিনি বলেন, তারপর আল্লাহ ইয়াজুজ-মাজুজের দল পাঠাবেন। আল্লাহ তা'আলার বাণী অনুযায়ী তাদের অবস্থা হলো, “তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি হতে ছুটে আসবে” (সূরাঃ আম্বিয়া-৯৬)। তিনি বলেন, তাদের প্রথম দলটি (সিরিয়ার) তাবারিয়া উপসাগর অতিক্রমকালে এর সমস্ত পানি পান করে শেষ করে ফেলবে। এদের শেষ দলটি এ স্থান দিয়ে অতিক্রমকালে বলবে, নিশ্চয়ই এই জলাশয়ে কোন সময় পানি ছিল। তারপর বাইতুল মাকদিসের পাহাড়ে পৌছার পর তাদের অভিযান সমাপ্ত হবে। তারা পরস্পর বলবে, আমরা তো দুনিয়ায় বসবাসকারীদের ধ্বংস করেছি, এবার চল আকাশে বসবাসকারীদের ধ্বংস করি। তারা এই বলে আকাশের দিকে তাদের তীর নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের তীরসমূহ রক্তে রঞ্জিত করে ফিরত দিবেন। তারপর ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) ও তার সাথীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। তারা (খাদ্যাভাবে) এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে পতিত হবেন যে, তখন তাদের জন্য একটা গরুর মাথা তোমাদের এ যুগের একশত দীনারের চাইতে বেশি উত্তম মনে হবে। তিনি বলেন, তারপর ঈসা (আঃ) ও তার সাথীরা আল্লাহ্ তা'আলার দিকে রুজু হয়ে দু’আ করবেন। আল্লাহ তা'আলা তখন তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজ বাহিনীর) ঘাড়ে মহামারীরূপে নাগাফ নামক কীটের উৎপত্তি করবেন। তারপর তারা এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে যেন একটি প্রাণের মৃত্যু হয়েছে তখন ঈসা (আঃ) তার সাথীদের নিয়ে (পাহাড় হতে) নেমে আসবেন। সেখানে তিনি এমন এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও পাবেন না, যেখানে সেগুলোর পচা দুৰ্গন্ধময় রক্ত-মাংস ছড়িয়ে না থাকবে। তারপর তিনি সাথীদের নিয়ে আল্লাহ তা'আলার নিকট দু’আ করবেন। আল্লাহ তা'আলা তখন উটের ঘাড়ের ন্যায় লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি প্রেরণ করবেন। সেই পাখি ওদের লাশগুলো তুলে নিয়ে গভীর গর্তে নিক্ষেপ করবে। এদের পরিত্যক্ত তীর, ধনুক ও তূণীরগুলো মুসলিমগণ সাতবছর পর্যন্ত জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবে। তারপর আল্লাহ তা'আলা এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যা সমস্ত ঘর-বাড়ী, স্থলভাগ ও কঠিন মাটির স্তরে গিয়ে পৌছবে এবং সমস্ত পৃথিবী ধুয়েমুছে আয়নার মতো ঝকঝকে হয়ে উঠবে। তারপর যামীনকে বলা হবে, তোর ফল ও ফসলসমূহ বের করে দে এবং বারকাত ও কল্যাণ ফিরিয়ে দে। তখন এরূপ পরিস্থিতি হবে যে, একদল লোকের জন্য একটি ডালিম পর্যাপ্ত হবে এবং একদল লোক এর খোসার ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবে। দুধেও এরূপ বারকাত হবে যে, বিরাট একটি দলের জন্য একটি উটনীর দুধ, একটি গোত্রের জন্য একটি গাভীর দুধ এবং একটি ছোট দলের জন্য একটি ছাগলের দুধই যথেষ্ট হবে। এমতাবস্থায় কিছুদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর হঠাৎ আল্লাহ তা'আলা এমন এক বাতাস প্রেরণ করবেন যা সকল ঈমানদারের আত্মা ছিনিয়ে নেবে এবং অবশিষ্ট থাকবে শুধুমাত্র দুশ্চরিত্রের লোক যারা গাধার মতো প্রকাশ্যে নারী সম্ভোগে লিপ্ত হবে। তারপর তাদের উপর কিয়ামত সংঘটিত হবে। সহীহ, সহীহাহ (৪৮১), তাখরাজ ফাযায়েলুশশাম (২৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ ইবনু জাবিরের সূত্রেই জেনেছি।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, দাজ্জালের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ জেনে রাখ, তোমাদের প্রভু অন্ধ নন। জেনে রাখ, দাজ্জালের ডান চোখ অন্ধ। তার ডান চোখটি মনে হবে যেন ফুলে উঠা একটি আঙ্গুর। সহীহ, বুখারী (৩৪৯৩), মুসলিম (১/১০৭) প্রশ্নের উল্লেখ ব্যতীত। আবূ ঈসা বলেন, সাদ, হুযাইফা, আবূ হুরাইরা, আসমা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, আবূ বাকরা, আইশ, আনাস, ইবনু আব্বাস ও ফালাতান ইবনু আসিম (রাঃ) হতে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাজ্জাল মাদীনায় উপস্থিত হয়ে দেখতে পাবে যে, ফিরিশতাগণ তা পাহারা দিচ্ছেন। অতএব, আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় মহামারী ও দাজ্জাল মাদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। সহীহ, সহীহাহ (২৪৫৮), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, ফাতিমা বিনতু কাইস, উসামা ইবনু যাইদ সামুরা, ইবনু জুনদাব ও মিহজান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমান হলো ঈয়ামানে, কুফর হলো প্রাচ্যে, বকরীওয়ালাদের মধ্যে আছে শান্তি এবং উচ্চঃস্বরে চিৎকারকারী ঘোড়াওয়ালা ও উটওয়ালাদের মধ্যে আছে গৰ্ব-অহংকার ও প্রদর্শনেচ্ছা। দাজ্জাল মাসীহ আত্মপ্রকাশ করে যখন উহুদের পিছনে উপস্থিত হবে, ফিরিশতারা তখন তার মুখমণ্ডল (চলার গতি)-কে সিরিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দিবেন। আর সে ঐ স্থানেই ধ্বংস হবে। সহীহ, সহীহাহ (১৭৭০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কোন নবী প্রেরিত হননি, যিনি তার সম্প্রদায়কে কানা মিথ্যাবাদীর (দাজ্জালের) ব্যাপারে সতর্ক করেননি। জেনে রাখ, সে অবশ্যই কানা হবে। আর তোমাদের প্রভু তো অন্ধ নন। ঐ মিথ্যাবাদীর দুচোখের মধ্যবর্তী স্থানে ‘কাফ, ফা রা’ শব্দটি লিখিত থাকবে। সহীহ, তাখরীজু শারহিল আকীদাতিত তাহাবীয়া (৭৬২), “কিচ্ছাতুল মাসীহিদাজ্জাল” বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন একদিন ইবনু সাইদ হাজ্জ কিংবা উমরাহ উপলক্ষ্যে আমার সঙ্গী হলো। সবাই চলে গেল কিন্তু আমি ও সে পিছনে পড়ে গেলাম। আমি তার সাথে একা হয়ে গেলে তার ব্যাপারে জনগণ যা বলাবলি করত তা মনে উদয় হলে আমি ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লাম। আমি এক জায়গায় বিশ্রামের জন্য অবতরণ করে তাকে বললাম, তোমার ঐ গাছের নিকট তোমার মালামাল রেখে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে একপাল বকরী দেখে একটি পেয়ালা নিয়ে সেদিকে গেল এবং কিছু দুধ দোহন করে আমার নিকট নিয়ে এল। সে আমাকে বলল, হে আবূ সাঈদ দুধ পান করুন। তার ব্যাপারে লোকজন বিভিন্ন কথা বলাবলি করার দরুন আমি তার হাতের কিছু পান করা অপছন্দ করলাম। অতএব, আমি তাকে বললাম, আজকের দিনটি প্রচণ্ড গরমের, আমি এরকম দিনে দুধপান করতে পছন্দ করি না। তখন সে আমাকে বলল, হে আবূ সাঈদ! আমাকে ও আমার ব্যাপারে মানুষেরা যে নানা কথা বলে সেজন্য আমার ইচ্ছা হয় একটি গাছে দড়ি বেঁধে ফাসিতে আত্মহত্যা করি। আপনি কি মনে করেন, আমার বিষয় কারো নিকট অজানা থাকলেও আপনাদের নিকট তো তা মোটেই অস্পষ্ট নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস সম্বন্ধে তো আপনারা অধিক অবহিত। হে আনসার সম্প্রদায়! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, সে (দাজ্জাল) হবে কাফির? অথচ আমি মুসলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, সে হবে নিঃসন্তান? অথচ আমি আমার সন্তান মাদীনায় রেখে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করাটা তার জন্য বৈধ (সম্ভব) নয়? আমি কি মাদীনাবাসী নই? আমি সেখান হতেই তো আপনার সাথে মক্কায় এসেছি। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! সে একটার পর একটা অনবরতভাবে যুক্তি দেখাতে লাগল। অবশেষে আমি মনে মনে বললাম, তার উপর হয়তো মিথ্যারোপ করা হয়েছে। সে আবার বলল, হে আবূ সাঈদ, আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে সঠিক সংবাদ দিব। আল্লাহর শপথ! আমি নিঃসন্দেহে তাকে (দাজ্জালকে) চিনি, তার বাবাকেও চিনি এবং সে এখন কোন এলাকায় আছে তাও জানি। তখন আমি বললাম, তোর পুরো দিনটাই বিফলে যাক। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 2247 — Jami At Tirmidhi 33:90
সহিহসহিহসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ لَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ابْنَ صَائِدٍ فِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَاحْتَبَسَهُ وَهُوَ غُلاَمٌ يَهُودِيٌّ وَلَهُ ذُؤَابَةٌ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ " . فَقَالَ أَتَشْهَدُ أَنْتَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " آمَنْتُ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ " . قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا تَرَى " . قَالَ أَرَى عَرْشًا فَوْقَ الْمَاءِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَرَى عَرْشَ إِبْلِيسَ فَوْقَ الْبَحْرِ . قَالَ " فَمَا تَرَى " . قَالَ أَرَى صَادِقًا وَكَاذِبَيْنِ أَوْ صَادِقَيْنِ وَكَاذِبًا . قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لُبِّسَ عَلَيْهِ " . فَدَعَاهُ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي ذَرٍّ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَجَابِرٍ وَحَفْصَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন একদিন মাদীনার একটি গলিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাইদের সাক্ষাৎ পেয়ে তিনি তাকে আটক করলেন। সে ছিল একজন ইয়াহুদী বালক। তার চুল ছিল বেণীবদ্ধ। আবূ বাকর ও উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল? সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমিও আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ঈমান এনেছি আল্লাহ্ তা'আলার উপর, তার ফিরিশতাগণের উপর, তার গ্রন্থসমূহে ও তার রাসূলদের উপর এবং পরকালের উপর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করেনঃ তুমি কী দেখতে পাও? সে বলল, আমি পানির উপর একটি সিংহাসন দেখতে পাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সমুদ্রে শাইতানের আসন দেখতে পাও। তিনি আরো প্রশ্ন করেনঃ তুমি আর কি দেখ? সে বলল, আমি একজন সত্যবাদী ও দুজন মিথ্যাবাদী অথবা দুজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদী দেখতে পাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা শুনে বললেন, বিষয়টা তার কাছে তালগোল পাকিয়ে গেছে। তোমরা দুজনেই একে ত্যাগ কর। সহীহ, সহীহাহ, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, উমার, হুসাইন ইবনু আলী, ইবনু উমার, আবূ যার, ইবনু মাসউদ, জাবির ও হাফসা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান।