। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরবর্তীতে তোমরা পরস্পর হানাহানি করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯৪২-৩৯৪৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, জারীর, ইবনু উমার, কুরয ইবনু আলকামা ওয়াসিলা ইবনুল আসকা ও আস-সুনাবিহী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। বুসর ইবনু সাঈদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, খালীফা উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-এর (রাজনৈতিক) বিপর্যয় ও বিদ্রোহকালে সাদ ইবনু আবী ওয়াককাস (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অনতিবিলম্বেই এমন এক বিপর্যয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটবে যখন বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির চেয়ে ভাল (নিরাপদ) থাকবে, দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে ভাল থাকবে, আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তির চেয়ে ভাল থাকবে। সা'দ (রাঃ) বলেন, আপনি এ ব্যাপারে কি মনে করেন যদি ফিতনাবাজ কোন লোক আমার ঘরে প্রবেশ করে এবং আমাকে খুন করতে উদ্যত হয়? তিনি বললেনঃ তুমি আদমের ছেলের (হাবীলের) মতো হয়ে যাও। সহীহঃ ইরওয়া (৮/১০৪) আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, খাব্বাব ইবনুল আরাত্তি, আবূ বাকরা, ইবনু মাসউদ, আবূ ওয়াকিদ, আবূ মূসা ও খারাশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি লাইস ইবনু সাদের সূত্রে কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন এবং আরো একজন বর্ণনাকারীর কথা এই সনদে উল্লেখ রয়েছে। এ হাদীসটি অন্য সূত্রেও সাদ (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় বিপর্যয় আগমনের পূর্বেই তোমরা সৎকাজের প্রতি অগ্রসর হও। ঐ সময় যে ব্যক্তি সকাল বেলায় মু'মিন থাকবে সে সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে এবং যে ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলায় মু'মিন থাকবে সে সকালে কাফির হয়ে যাবে। মানুষ দুনিয়াবী স্বার্থের বিনিময়ে তার ধর্ম বিক্রয় করে দিবে। সহীহ, সহীহাহ (৭৫৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাতে ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে বললেনঃ সুবহানাল্লাহ। আজ রাতে কতই না বিপর্যয় নাযিল হয়েছে, কতই না অনুগ্রহের ভাণ্ডার অবতীর্ণ হয়েছে? এরূপ কে আছে যে এই গৃহবাসীদের জাগ্রত করবে? পৃথিবীতে অনেক পোশাক পরিহিতা, পরকালে থাকবে উলঙ্গ। সহীহ, বুখারী আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের নিকটতম সময়ে অন্ধকার রাতের টুকরার মতো বিপর্যয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তখন যে লোক সকাল বেলায় মু'মিন থাকবে সে সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। আর যে লোক সন্ধ্যা বেলায় মু'মিন থাকবে সকালে সে কাফির হয়ে যাবে। একদল লোক দুনিয়াবী স্বার্থের বিনিময়ে তাদের ধর্ম বিক্রয় করবে। হাসান সহীহ, সহীহাহ (৭৫৮, ৮১০)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, জুনদাব, নুমান ইবনু বাশীর ও আবূ মূসা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি উক্ত সূত্রে গারীব।
হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এ হাদীসের ব্যাখ্যায় তিনি বলতেন যে, সেই বিপর্যয়ের সময়ে সকাল বেলায় যে লোক মু’মিন অবস্থায় থাকবে সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় মু'মিন থাকবে সে সকালে কাফির হয়ে যাবে। কোন লোক তার অপর ভাইয়ের রক্ত (প্রাণ), সম্মান ও সম্পদ (ধ্বংস করা)-কে সকাল বেলায় অবৈধ মনে করবে, অথচ সে সন্ধ্যা বেলায় এগুলো নিজের জন্য বৈধ মনে করবে। আবার এক লোক তার ভাইয়ের রক্ত, সম্মান ও সম্পদকে সন্ধ্যা বেলায় অবৈধ মনে করবে, অথচ সে সকালে এগুলোকে নিজের জন্য বৈধ মনে করবে। হাসান বাসরী হতে সহীহ সনদে বর্ণিত।
হাদিস 2199 — Jami At Tirmidhi 33:42
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجُلٌ سَأَلَهُ فَقَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ عَلَيْنَا أُمَرَاءُ يَمْنَعُونَا حَقَّنَا وَيَسْأَلُونَا حَقَّهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اسْمَعُوا وَأَطِيعُوا فَإِنَّمَا عَلَيْهِمْ مَا حُمِّلُوا وَعَلَيْكُمْ مَا حُمِّلْتُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আলকামা ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজর (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (ওয়াইল) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। কোন একজন লোক তাকে প্রশ্ন করলঃ যদি আমাদের নেতারা এরূপ হয় যে, আমাদের প্রাপ্য অধিকার তারা প্রদান করে না কিন্তু তাদের প্রাপ্য অধিকার সঠিকভাবে আদায় করে নেয়, এমতাবস্থায় আমরা কি করব বলে আপনি মনে করেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (তাদের কথা) শ্রবণ কর ও আনুগত্য কর। কেননা, তাদেরকে তাদের দায়-দায়িত্বের জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং তোমাদেরকে তোমাদের দায়-দায়িত্বের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। সহীহ, মুসলিম (৬/১৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পরবর্তীতে এরূপ এক যুগের আগমন ঘটবে, যখন (দীনি) ইলমকে উঠিয়ে নেয়া হবে এবং হারাজ বৃদ্ধি পাবে। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। হারাজ কি? তিনি বললেনঃ ব্যাপক গণহত্যা। সহীহ, সহীহুল জামি' (২২২৯)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ ও মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ব্যাপক গণহত্যা চলাকালিন সময়ে ইবাদাত করা আমার কাছে হিজরাতের সমতুল্য। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯৮৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতে মুআল্লা ইবনু যিয়াদের সূত্রেই জেনেছি।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে যখন তলোয়ার রাখা হবে (পরস্পর হানাহানি শুরু হবে) তখন হতে কিয়ামত পর্যন্ত তা আর তুলে নেয়া হবে না (হানাহানি বন্ধ হবে না)। সহীহ, মিশকাত (৫৪০৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।