। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বপ্ন তিন প্রকারঃ (১) সত্য স্বপ্ন, (২) বান্দার মনের চিন্ত-ভাবনা (যা চিন্তা করে তাই স্বপ্নে দেখে) ও (৩) শাইতানের পক্ষ হতে ভীতি প্রদর্শনমূলক কিছু। অতএব, কেউ যদি অপছন্দনীয় কোন কিছু স্বপ্নে দেখে তাহলে সে যেন ঘুম হতে জেগে নামায আদায় করে। আর তিনি বলতেন, স্বপ্নে (পায়ে) শৃংখল দেখা আমার পছন্দনীয় এবং (গলায়) শৃংখল দেখা অপছন্দনীয়। (পায়ে) শৃংখলের ভাবার্থ হচ্ছে দ্বীনের উপর সুদৃঢ় থাকার ইঙ্গিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলতেনঃ যে আমাকে স্বপ্নে দেখলো তা সত্যিই আমি। কেননা, শাইতান আমার রূপ (সাদৃশ্য) ধারণ করতে পারে না। তিনি আরো বলতেনঃ জ্ঞানী ব্যক্তি অথবা শুভাকাংখী ব্যক্তি ব্যতীত আর কোন ব্যক্তির কাছে স্বপ্নের কথা প্রকাশ করবে না। সহীহ, সহীহাহ (১১৯, ১২০, ১৩৪১), রাওযুন নায়ীর (১১৬২)। আবূ ঈসা বলেন, আনাস, আবূ বাকরা, উম্মুল আলা, ইবনু উমার, আইশা, আবূ মূসা, জাবির, আবূ সাঈদ ইবনু আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহীহ।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমি বর্ণনা করছি যে, তিনি বলেছেনঃ মনগড়া (মিথ্যা) স্বপ্ন বর্ণনাকারীকে কিয়ামতের দিন যবের দানায় গিট লাগাতে বাধ্য করা হবে। সহীহ, সহীহাহ (২৩৫৯)।
। উপরোল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ কুতাইবা-আবূ আওয়ানা হতে, তিনি আলী (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি হাসান। ইবনু আব্বাস, আবূ হুরাইরা, আবূ শুরাইহ ও ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, পূর্বোক্ত হাদিসের সনদসুত্রের চেয়ে এইসনদসুত্রটি অনেক বেশি সহীহ।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মনগড়া (মিথ্যা) স্বপ্ন বর্ণনাকারীকে কিয়ামতের দিন দুটি যবের দানায় গিট লাগাতে বাধ্য করা হবে; আর সে তাতে গিট লাগাতে সক্ষম হবে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯১৬), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কোন এক সময় আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম, এ সময় আমার সামনে এক পেয়ালা দুধ নিয়ে আসা হলো। আমি তা হতে পান করলাম এবং বাকী টুকু উমার ইবনুল খাত্তাবকে দিলাম। লোকেরা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনি এর কি তাবীর (ব্যাখ্যা) করেন? তিনি বললেনঃ জ্ঞান। সহীহ, তা’লীকাত আল-হাস্সান (৬৮১৫, ৬৮৩৯), বুখারী, মুসলিম। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম, খুযাইমা, তুফাইল ইবনু সাখবারা, আবূ উমামা ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটি সহীহ।
হাদিস 2285 — Jami At Tirmidhi 34:16
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجُرَيْرِيُّ الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ عَلَىَّ وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثُّدِيَّ وَمِنْهَا مَا يَبْلُغُ أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ فَعُرِضَ عَلَىَّ عُمَرُ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ " . قَالُوا فَمَا أَوَّلْتَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الدِّينَ " .
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন একদিন আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখতে পাই যে, জামা পরিহিত লোকদেরকে আমার সামনে হাযির করা হচ্ছে। তাদের কারো জামা বুক পর্যন্ত এবং কারো জামা তার নীচে পর্যন্ত। তখন উমারকে আমার সামনে হাযির করা হলো এবং তার পরনে ছিল লম্বা পোশাক, যা সে হেঁচড়িয়ে চলছিল। লোকেরা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি এর কি তাবীর (ব্যাখ্যা) করেন? তিনি বললেনঃ এর দ্বারা দ্বীন বুঝানো হয়েছে। সহীহ, বুখারী, মুসলিম।
। পূর্বোক্ত হাদীসের মতো হাদীস আবদ হুমাইদ-ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম ইবনু সা’দ হতে, তিনি তার বাবা হতে, হতে, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এই সনদসূত্রটি অনেক বেশি সহীহ।
। আবূ বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মধ্যে কে স্বপ্ন দেখেছে? জনৈক ব্যক্তি বলল, আমি স্বপ্নে দেখি যে, আকাশ হতে একটি দাড়িপাল্লা নেমে এলো। তারপর আপনাকে ও আবূ বাকরকে ওজন করা হলো। আবূ বাকরের চেয়ে আপনার ওজন ভারী হলো। তারপর আবূ বাকর ও উমারকে ওজন দেয়া হলো এবং তাতে আবূ বাকরের ওজন বেশি হলো। তারপর উমার ও উসমানকে ওজন দেয়া হলো এবং তাতে উমারের ওজন বেশি হলো। তারপর দাড়িপাল্লা উঠিয়ে নেয়া হলো। এমন সময় আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করলাম। সহীহ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬০৫৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওয়ারাকা ইবনু নাওফল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় (তিনি কি জান্নাতী না জাহান্নামী)। খাদীজা (রাঃ) তাকে বলেন, তিনি তো আপনাকে সত্য বলে সমর্থন করেছিলেন এবং আপনার নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বেই মারা যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তাকে সাদা পোশাক পরে থাকা অবস্থায় স্বপ্নে দেখেছি। তিনি জাহান্নামী হলে তার পরিধানে অন্য রংয়ের পোশাক থাকত। যঈফ, মিশকাত (৪৬২৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আর হাদীস বিশারদদের মতে উসমান ইবনু আবদুর রহমান খুব একটা মজবুত রাবী নন।
। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবূ বাকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) এর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বপ্ন দেখা প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জনগণকে সমবেত হতে দেখলাম। আবূ বকর এক বালতি কি দুই বালতি পানি তুললো। তার মধ্যে সামান্য দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করুন। তারপর উমার দাড়ালো এবং পানি তুলতে লাগল। বালতিটি বেশ বিরাট আকার ধারণ করল। তার মতো করে কোন শক্তিশালী ব্যক্তিকে আমি কাজ করতে দেখিনি। আর সে এত পানি তুললো যে, লোকেরা তাদের উটের পানির চৌবাচ্চা পূর্ণ করে নিল। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ, তবে ইবনু উমর (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।