। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার (রাঃ) বললেন, আকিলার উপর দিয়াত (রক্তমূল্য) ধার্য করা হবে। স্বামীর দিয়াতের মধ্যে স্ত্রী উত্তরাধিকারী হবে না। তখন যাহহাক ইবনু সুফিয়ান আল-কিলাবী (রাঃ) তাকে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লিখে পাঠিয়েছেনঃ “আশইয়াম আয-যিবাবীর স্ত্রীকে তার স্বামীর দিয়াতের উত্তরাধিকারী বানাও”। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৪২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 2111 — Jami At Tirmidhi 29:22
সহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قال حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى فِي جَنِينِ امْرَأَةٍ مِنْ بَنِي لَحْيَانَ سَقَطَ مَيِّتًا بِغُرَّةٍ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ ثُمَّ إِنَّ الْمَرْأَةَ الَّتِي قُضِيَ عَلَيْهَا بِالْغُرَّةِ تُوُفِّيَتْ فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ مِيرَاثَهَا لِبَنِيهَا وَزَوْجِهَا وَأَنَّ عَقْلَهَا عَلَى عَصَبَتِهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى يُونُسُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَرَوَاهُ مَالِكٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَمَالِكٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلٌ .
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, লিহইয়ান বংশের একজন স্ত্রীলোককে তার (অন্যের আঘাতে মৃত্যুজনিত কারণে) গর্ভপাতের দিয়াত হিসাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম একটি গোলাম অথবা একটি দাসী প্রদানের ফায়সালা দেন। তিনি যে মহিলাটির উপর এই দিয়াত নির্ধারণ করেন পরে সে মারা যায়। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায়সালা দেন যে, এটা তার স্বামী ও ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে এবং তার উপর ধার্যকৃত দিয়াত তার আসাবাগণের উপর বর্তাবে। সহীহ, ইরওয়া (২২০৫), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, ইউনুস (রাহঃ) যুহরী হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব ও আবূ সালামা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে একইরকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি মালিক-যুহরী হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদীসটি মালিক যুহরী হতে, তিনি সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব হতে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
। তামীমুদ দারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলাম, কোন মুসলিম লোকের হাতে কোন মুশরিক লোক ইসলাম কুবুল করলে তার কি বিধান রয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে (মুসলিম লোকটি) তার (নও-মুসলিমের) জীবনে-মরণে অন্য সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে। হাসান সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৭৫২) আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধুমাত্র আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহবের সূত্রেই এ হাদীসটি জেনেছি। আবার কেউ তা বর্ণনা করেছেন ইবনু মাওহিব হতে, তিনি তামীমুদ দারী (রাঃ)-এর সূত্রে। এই হাদীসের সনদে আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব ও তামীমুদ দারী (রাঃ)-এর মাঝখানে কোন কোন বর্ণনাকারী কাবীসা ইবনু যুআইব (রাহঃ)-কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিন্তু তা সঠিক নয়। আব্দুল আযীয ইবনু উমারের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু হামযা এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে কাবীসা ইবনু যুআইবের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমি মনে করি এ হাদীসের সনদ মুত্তাসিল নয়। এ হাদীস অনুযায়ী একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তাদের মতে, যার হাতে সে লোকটি মুসলিম হয়েছে সে তার উত্তরাধিকারী হবে। বিশেষজ্ঞদের অন্য আরেক দল বলেছেন, তার মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বাইতুল মালে জমা করা হবে। ইমাম শাফিঈর এই অভিমত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসটি তার দলীলঃ “যে লোক গোলাম মুক্ত করে সে-ই 'ওয়ালার স্বত্বাধিকারী হবে'।
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি কোন স্বাধীন স্ত্রীলোক অথবা দাসীর সাথে যিনায় (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয় তাহলে (জন্মগ্রহণকারী) সন্তান জারজ সন্তান’ বলে গণ্য হবে। সে কারো উত্তরাধিকারী হবে না এবং তারও কেউ উত্তরাধিকারী হবে না। সহীহ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩০৫৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আমর ইবনু শুআইবের সূত্রে ইবনু লাহীআ ছাড়াও অন্য বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ব্যভিচারজাত সন্তান তার জন্মদাতা পিতার উত্তরাধিকারী হবে না।
হাদিস 2114 — Jami At Tirmidhi 29:25
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قال: حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَرِثُ الْوَلاَءَ مَنْ يَرِثُ الْمَالَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ .
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি মালের উত্তোরাধিকারী হবে সে-ই ওয়ালার উত্তোরাধিকারী হবে (অর্থাৎ যে গোলাম মুক্ত করার মূল্য পরিশোধ করবে সে-ই গোলামের রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তোরাধিকারী হবে)। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩০৬৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ তেমন মজবুত নয়।
। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্ত্রীলোকেরা (এককভাবে) তিন ধরনের মীরাসী সম্পত্তির ওয়ারিস হতে পারেঃ নিজের আযাদকৃত গোলামের, যে শিশুকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়ে সে তুলে নিয়ে লালন-পালন করেছে তার এবং যে শিশু সম্পর্কে সে লিআন করেছে তার। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৭৪২) আবূ ঈসা বলেছেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। মুহাম্মাদ ইবনু হারব-এর সূত্রেই আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি।