। হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা অনুকরণপ্রিয় হয়ো না যে, তোমরা এরূপ বলবেঃ লোকরা যদি আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে তাহলে আমরাও ভাল ব্যবহার করব। যদি তারা আমাদের সাথে যুলুম করে তাহলে আমরাও যুলুম করব। বরং তোমরা নিজেদের অন্তরে এ কথা বদ্ধমূল করে নাও যে, লোকেরা তোমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করলে তোমরাও ভাল ব্যবহার করবে। তারা তোমাদের সাথে অন্যায় ব্যবহার করলেও তোমরা যুলুমের পথ বেছে নিবে না। যঈফ, নাকদুল কাত্তানী (২৬) মিশকাত (৫১২৯) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই আমরা এটা জেনেছি।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি হাসিলের আশায় কোন অসুস্থ লোককে দেখতে যায় অথবা নিজের ভাইয়ের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যায়, একজন ঘোষক (ফিরিশতা) তাকে ডেকে বলতে থাকেনঃ কল্যাণময় তোমার জীবন, কল্যাণময় তোমার এই পথ চলাও। তুমি তো জান্নাতের মধ্যে একটি বাসস্থান নির্দিষ্ট করে নিলে। হাসান, মিশকাত (৫০১৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ সিনানের নাম ঈসা ইবনু সিনান। হাম্মাদ ইবনু সালামা-সাবিত হতে, তিনি আবূ রাফি হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এইরকম কিছু বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জা-সন্ত্রম হচ্ছে ঈমানের অঙ্গ, আর ঈমানের (ঈমানদারের) জায়গা জান্নাতে। নির্লজ্জতা ও অসভ্যতা হচ্ছে দুর্ব্যবহারের অঙ্গ, আর দুর্ব্যবহারের (দুর্ব্যবহারকারীর) জায়গা জাহান্নামে। সহীহ, সহীহাহ (৪৯৫), রাওযুন নায়ীর (৭৪৬)। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উমার, আবূ বাকরা, আবূ উমামা ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস আল-মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম আচরণ, দৃঢ়তা-স্থিরতা ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে নাবুওয়াতের চব্বিশ ভাগের একভাগ। হাসান, রাওযুন নায়ীর (৩৮৪), তা’লীকুর রাগীব (৩/৬)। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। কুতাইবা-নূহ ইবনু কাইস হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ইমরান হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে (উপরের হাদীসের) একইরকম বর্ণনা করেছেন। এই সূত্রটিতে আসিমের উল্লেখ নেই। কিন্তু নাসর ইবনু আলীর হাদীসটিই সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবদুল কাইস বংশের প্রতিনিধি দলের নেতা আশাজ্জকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মধ্যে এরূপ দুটি গুণ রয়েছে যা আল্লাহ তা'আলা অধিক পছন্দ করেনঃ সহিষ্ণুতা ও স্থিরতা। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪১৮৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আশাজ্জ আল-আসারী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। সাহল ইবনু সা’দ আস-সায়িদী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধৈর্য ও স্থিরতা আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হতে, আর তাড়াহুড়া শাইতানের পক্ষ হতে। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫০৫৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। একদল হাদীস বিশারদ আবদুল মুহাইমিনের সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। আল-আশাজ-এর নাম আল-মুনযির, পিতা আয়িয।
। আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে নমনীয়তার অংশ দেয়া হয়েছে তাকে কল্যাণের অংশ দেয়া হয়েছে। নমনীয়তার অংশ হতে যে ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাকে কল্যাণের অংশ হতে বঞ্চিত করা হয়েছে। সহীহ, সহীহাহ (৫১৫, ৮৭৪)। আবূ ঈসা বলেন, আইশ, জারীর ইবনু আবদুল্লাহ ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণের সময় বলেনঃ অত্যাচারিতের বদ-দু’আকে ভয় কর। কেননা, তার বদ-দুআ এবং আল্লাহ তা'আলার মাঝখানে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (১৪১২), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আনাস, আবূ হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ মা'বাদের নাম না-ফিয।
হাদিস 2015 — Jami At Tirmidhi 27:121
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ خَدَمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَشْرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِي أُفٍّ قَطُّ وَمَا قَالَ لِشَيْءٍ صَنَعْتُهُ لِمَ صَنَعْتَهُ وَلاَ لِشَيْءٍ تَرَكْتُهُ لِمَ تَرَكْتَهُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ خُلُقًا وَلاَ مَسِسْتُ خَزًّا قَطُّ وَلاَ حَرِيرًا وَلاَ شَيْئًا كَانَ أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ شَمَمْتُ مِسْكًا قَطُّ وَلاَ عِطْرًا كَانَ أَطْيَبَ مِنْ عَرَقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَالْبَرَاءِ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি দশবছর যাবতকাল ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেবা-যত্ন করেছি। তিনি আমার প্রতি কখনো উহ’ শব্দটিও উচ্চারণ করেননি (অসন্তোষ প্রকাশ করেননি)। তিনি আমার কোন কাজে কখনো অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেননি যে, এটা তুমি করলে কেন অথবা কোন কাজ ছুটে যাওয়ার কারণেও তিনি বলেননি যে, এটা তুমি কেন করলে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সবচাইতে উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মানুষ। আমি রেশম এবং পশম মিশিয়ে বানানো কাপড়ও নিজ হাতে ছুয়ে দেখেছি এবং খাটি রেশমী কাপড়ও ছুয়েছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের চেয়ে অধিক নরম ও মসৃন কোন কিছু স্পর্শ করিনি। আমি মৃগনভির গন্ধও গ্রহণ করেছি এবং আতরের গন্ধও গ্রহণ করেছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের ঘামের চেয়ে অধিক সুগন্ধ কোন কিছুতেই পাইনি। সহীহ, মুখতাসার শামা-ইল (২৯৬), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আইশা ও বারাআ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ আবদুল্লাহ আল-জাদালী (রাহঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র-মাধুর্য সম্বন্ধে আইশা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো অশ্লীল ও কটুভাষী ছিলেন না, অশ্লীল ব্যবহারও করেননি। তিনি কখনো বাজারে গিয়ে হউগোল করতেন না এবং অন্যায়ের দ্বারা অন্যায়ের প্রতিশোধ নেননি। বরং তিনি উদার মন নিয়ে ক্ষমা করে দিতেন। সহীহ, মুখতাসার শামা-ইল (২৯৮), মিশকাত (৫৮২০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আবদুল্লাহ আবদ।