। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জা-সন্ত্রম ও অল্প কথা বলা ঈমানের দুইটি শাখা। অশ্লীলতা ও বাকপটুতা (বাচালতা) নিফাকের (মুনাফিকীর) দুইটি শাখা। সহীহ, ঈমান ইবনে আবী শাইবা(১১৮), মিশকাত তাহকীক ছানী(৪৭৯৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এটিকে আবূ গাসান মুহাম্মাদ ইবনু মুতারিরকের হাদীস হিসেবে জেনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, “আল-আয়্যু অর্থ স্বল্পবাক 'আল-বাযা-য়ু অর্থ অশ্লীল ও নির্লজ্জবাক, আল-বায়ান অর্থ বাকপটু, বাক্যবাগীশ। যেমন পেশাধারী বক্তারা লম্বা লম্বা বক্তৃতা দিয়ে বেড়ায়, কথার বন্যা ছুটিয়ে দেয় এবং বাকপটুতার আশ্রয় নিয়ে মানুষের এমন সব প্রশংসা করতে থাকে, যা আল্লাহ তা'আলা মোটেই পছন্দ করেন না।
হাদিস 2028 — Jami At Tirmidhi 27:134
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلَيْنِ، قَدِمَا فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَا فَعَجِبَ النَّاسُ مِنْ كَلاَمِهِمَا فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا " أَوْ " إِنَّ بَعْضَ الْبَيَانِ سِحْرٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَمَّارٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলে দুইজন লোক এসে উপস্থিত হয়। তারা দুজনে এরকম জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিল যে, জনগণ আশ্চর্য হয়ে গেল। তখন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন কোন বক্তৃতায় যাদু রয়েছে অথবা কোন কোন ভাষণে রয়েছে যাদুকরী প্রভাব। সহীহঃ বুখারী আবূ ঈসা বলেন, আম্মার, ইবনু মাসউদ ও আবদুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকাত বা দানের কারণে কখনো সম্পদের কমতি হয় না। অবশ্যই ক্ষমা ও উদারতার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা মান-সন্মান বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে যে লোক বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করে আল্লাহ তা'আলা তাকে অতি মর্যাদা সম্পন্ন করেন। সহীহ, ইরওয়া (২২০০), সহীহাহ (২৩২৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, ইবনু আব্বাস ও আবূ কাবশা আমর ইবনু সা’দ আল-আনসা-র (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন খাদ্যের উপর কখনো দোষারোপ করতেন না। রুচি হলে খেতেন আর না হয় পরিত্যাগ করতেন। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হাযিম হলেন আল আশজাঈ আল কুফী, তার নাম সালমান, আযযা আল আশযাঈইয়ার মুক্তদাস।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে চিৎকার দিয়ে বললেনঃ হে ঐ জামাআত, যারা মুখে ইসলাম কুবুল করেছ কিন্তু অন্তরে এখনো ঈমান মাজবুত হয়নি। তোমরা মুসলিমদের কষ্ট দিবে না, তাদের লজ্জা দিবে না এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হবে না। কেননা, যে লোক তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধানে নিয়োজিত হবে আল্লাহ তা'আলা তার গোপন দোষ প্রকাশ করে দিবেন। আর যে ব্যক্তির দোষ আল্লাহ তা'আলা প্রকাশ করে দিবেন তাকে অপমান করে ছাড়বেন, সে তার উটের হাওদার ভিতরে অবস্থান করে থাকলেও। বর্ণনাকারী (নাফি) বলেন, একদিন ইবনু উমার (রাঃ) বাইতুল্লাহ বা কা'বার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি কতই না ব্যাপক ও বিরাট! তুমি কতইনা সম্মানিত কিন্তু তোমার চেয়েও মুমিনের সম্মান ও মর্যাদা আল্লাহ তা'আলার নিকটে অনেক বেশি। হাসান, মিশকাত (৫০৪৪), তা’লীকুর রাগীব (৩/২৭৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধু হুসাইন ইবনু ওয়াকিদের সূত্রেই জেনেছি। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আস-সামারকান্দী-হুসাইন ইবনু ওয়াকিদ হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন। আবূ বারযা আল-আসলামী (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হতে একইরকম বর্ণিত আছে।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিই সহনশীল ও ধৈর্যশীল হয় এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া বিচক্ষণ ও প্রজ্ঞাবান হওয়া যায় না। যঈফ, মিশকাত (৫০৫৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই এ হাদীসটি জেনেছি।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাউকে কিছু দান করা হলে পরে তার (দান গ্রহীতার) সংগতি হলে সে যেন এর প্রতিদান দেয়। সংগতি না হলে সে যেন তার প্রশংসা করে। কেননা, যে লোক প্রশংসা করল সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। আর যে তা গোপন রাখল সে অকৃতজ্ঞ হলো। যে লোক এমন কিছু পাওয়ার ভান করল যা তাকে দান করা হয়নি, সে যেন ধোকাবাজি ও প্রতারণার দুটি পোশাক পরল। হাসান, সহীহাহ (২৬১৭), তা’লীকুর রাগীব (২/৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আসমা বিনতু আবী বাকর ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। “মান কাতামা ফাকাদ কাফারা”-এর অর্থ “যে অনুগ্রহ গোপন করল সে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল"।
। উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাউকে অনুগ্রহ করা হলে সে যদি অনুগ্রহকারীকে বলে, “তোমাকে আল্লাহ তা'আলা কল্যাণকর প্রতিদান দিন" তবে সে উপযুক্ত ও পরিপূর্ণ প্রশংসা করল। সহীহ, মিশকাত (৩০২৪), তা’লীকুর রাগীব (২/৫৫), রাওযুন নায়ীর (৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, জায়্যিদ (উত্তম) গারীব। এটিকে শুধুমাত্র উক্ত সনদে উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ)-এর হাদীস বলে আমরা জানি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুরূপ হাদীস আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও বর্ণিত হয়েছে। আমি মুহাম্মাদ (বুখারীকে) কে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি এটি জানেন না বলেছেন। আব্দুর রহিম ইবনু হাযিম আল বালখী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মাক্কী ইবনু ইবরাহীমকে বলতে শুনেছি, আমরা ইবনু জুরাইজ আল-মাক্কীর নিকট উপস্থিত ছিলাম এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে তার নিকট কিছু চাইল। ইবনু জুরাইজ তার অর্থ সচিবকে বললেন তাকে একটি দীনার দিন। সে বলল, আমার নিকট একটি দীনার ব্যতীত আর কিছু নেই। এটি তাকে দান করলে আমার আপনার পরিবারের সবাইকে উপোস করতে হবে। একথা শুনে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং বললেনঃ তাকে সেটা দাও। মাক্কী বলেন, আমরা ইবনু জুরাইজের নিকট থাকাবস্থায়ই এক ব্যক্তি একটি চিঠি এবং একটি থলে নিয়ে উপস্থিত হলেন। যাহা তার কোন ভাই তার নিকট পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখাছিল আমি পঞ্চাশটি দীনার পাঠাইলাম। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু জুরাইজ থলেটি খুলে দীনার গননা করলেন। তাতে তিনি (৫১) একান্নটি দীনার পেলেন। এতে ইবনু জুরাইজ তার অর্থ সচীবকে বললেনঃ তুমি এক দীনার দান করেছ, আল্লাহ সেটা তোমাকে ফেরত দিয়েছেন তার সাথে অতিরিক্ত আরো পঞ্চাশটি দিয়েছেন।