। বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি একবার দোহন করা দুধ দান করে অথবা টাকা-পয়সা ধার দেয় অথবা পথ হারিয়ে যাওয়া লোককে সঠিক পথের সন্ধান দেয়, তার জন্য রয়েছে একটি গোলাম মুক্ত করে দেয়ার সম-পরিমাণ সাওয়াব। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/৩৪,২৪১), মিশকাত (১৯১৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং আবূ ইসহাক-তালহা ইবনু মুসাররিফের সূত্রে গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র এই সূত্রেই জেনেছি। এ হাদীসটি তালহা ইবনু মুসাররিফের সূত্রে মানসূর ইবনুল মু'তামির ও শুবা (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন। নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। "মানাহা মানীহাতা ওয়ারিকিন” অর্থ টাকা-পয়সা ধার দেয়া। “হাদা যুককান" অর্থ সঠিক পথের সন্ধান দেয়া।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন এক সময় একজন লোক পথ দিয়ে চলাকালে একটি কাটাযুক্ত ডাল দেখতে পেল। সে তা তুলে ফেলে দিল। আল্লাহ তা'আলা তার এ কাজকে কুবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। সহীহ, বুখারী ও মুসলিম। আবূ বারযা, ইবনু আব্বাস ও আবূ যার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক কোন কথা বলার পর আশেপাশে তাকালে তার উক্ত কথা (শ্রবণকারীর জন্য) আমানাত বলে গণ্য। হাসান, সহীহাহ (১০৮৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র ইবনু আবী যিব-এর বর্ণনার মাধ্যমেই জেনেছি।
। আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসুল! যুবাইর (রাঃ) আমাকে যা কিছু দেন তা ব্যতীত আমার কাছে কিছু নেই। আমি কি তা হতে দান করব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। ’ তুমি থলের ফিতা বেঁধে রাখবে না, অন্যথায় তোমার জন্যও (আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে) বেঁধে রাখা হবে (তোমার রিযিকের থলে)। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (১৪৯০), বুখারী ও মুসলিম। অপর বর্ণনায় আছে, গুনে গুনে খরচ কর না, অন্যথায় তোমাকেও গুনে গুনে দেয়া হবে। আইশা ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি উপরোক্ত আবদুল্লাহ-ইবনুয যুবাইর হতে, তিনি আসমা বিনতু আবী বাকর (রাঃ) হতে এইসূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটি আইয়ুবের সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা এতে আব্বাদ ইবনু আবদুল্লাহর উল্লেখ করেননি।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দানশীল ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার নিকটবর্তী, জান্নাতের নিকটবর্তী, মানুষের নিকটবর্তী এবং জাহান্নাম হতে দূরবর্তী। কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা হতে দূরবর্তী, জান্নাত হতে দূরবর্তী, মানুষের নিকট হতেও দূরবর্তী, কিন্তু জাহান্নামের নিকটবর্তী। আল্লাহ তা'আলার নিকটে কৃপণ আলেম ব্যক্তির চেয়ে মূর্খ দানশীল ব্যক্তি বেশী প্রিয়। খুবই দুর্বল, যঈফা (১৫৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। শুধু সাঈদ ইবনু মুহাম্মাদের বরাতেই আমরা ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ-আল-আ'রাজ হতে আবূ হুরাইরা (রাঃ) সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে এই হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সাঈদ ইবনু মুহাম্মাদের ব্যাপারে মতের অমিল করা হয়েছে। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ-আইশা (রাঃ) সূত্রে এই বিষয়ে কিছু মুরসাল হাদীসও বর্ণিত আছে।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিন ব্যক্তির মধ্যে দুটি স্বভাবের (চারিত্রিক দোষ) সমাবেশ হতে পারে নাঃ কৃপণতা ও চরিত্রহীনতা। যঈফ, যঈফা (১১১৯)। নাকদুল কাত্তানী (৩৩/৩৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। শুধু সাদাকা ইবনু মূসার সূত্রে আমরা এ হাদীস জেনেছি। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতারক-ধোকাবাজ, কৃপণ ও উপকার করে তার খোঁটা দানকারী জান্নাতে যেতে পারবে না। যঈফ (বেচা-কেনা সংক্রান্ত হাদীস) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু'মিন ব্যক্তি চিন্তাশীল, গম্ভীর ও ভদ্র হয়ে থাকে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি প্রতারক, ধোকাবাজ, কৃপণ, নীচ ও অসভ্য হয়ে থাকে। হাসান, সহীহাহ (৯৩২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সনদসূত্রে জেনেছি।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক তার দীনারগুলোর মধ্যে যেটি তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে, যে দীনারটি সে আল্লাহ তা'আলার পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে তার পশুর জন্য ব্যয় করে এবং যে দীনারটি সে আল্লাহ তা'আলার পথে তার মুজাহিদ সঙ্গীর জন্য ব্যয় করে, তা-ই সবোত্তম দীনার। আবূ কিলাবা তার বর্ণনায় বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বক্তব্য শুরু করেন পরিবার-পরিজন হতে। তারপর তিনি বলেনঃ যে লোক তার নিজের ছোট ছোট সন্তানদের জন্য ব্যয় করে, বিরাট সাওয়াবের ব্যাপারে তার চেয়ে বেশি বড় আর কে আছে? আল্লাহ তার মাধ্যমে এদের মান-ইজ্জাত ও সম্মান-সন্ত্রম রক্ষা করেন এবং তার ওয়াসীলায় এদের স্বনির্ভর করেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৬০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।