। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ হে বৎস! তুমি যখন তোমার পরিবার-পরিজনের নিকটে যাও, তখন সালাম দিও। তাতে তোমার ও তোমার পরিবার-পরিজনের কল্যাণ হবে। হাদীসটির সানাদ দুর্বল। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কথা-বার্তা বলার আগেই সালাম বিনিময় হবে। হাসানঃ সহীহাহ (৮১৬)। এ সানাদেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ সালাম দেয়ার পরই কাউকে খাবারের দাওয়াত দাও। মাওজু’ - যঈফ আল-জামি' (৩৩৭৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি মুনকার। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীসটি জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, আনবাসা ইবনু ‘আবদুর রাহমান হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল এবং অবহেলিত। আর মুহাম্মাদ ইবনু যাযান প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাকারী।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইয়াহুদী-নাসারাদেরকে প্রথম সালাম করো না। রাস্তায় তাদের মধ্যে কারো সাথে তোমাদের দেখা হলে, পথের সংকীর্ণ পার্শ্ব দিয়ে তাকে চলতে বাধ্য কর। সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 2701 — Jami At Tirmidhi 42:14
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّ رَهْطًا مِنَ الْيَهُودِ دَخَلُوا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا السَّامُ عَلَيْكَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " عَلَيْكُمْ " . فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ بَلْ عَلَيْكُمُ السَّامُ وَاللَّعْنَةُ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الأَمْرِ كُلِّهِ " . قَالَتْ عَائِشَةُ أَلَمْ تَسْمَعْ مَا قَالُوا قَالَ " قَدْ قُلْتُ عَلَيْكُمْ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ وَابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ وَأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُهَنِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একদিন একদল ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আসসামু 'আলাইকা (আপনার মৃত্যু হোক)। তাদের এ কথার জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আলাইকুম (তোমাদেরই তাই হোক)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আলাইকুমুস সাম ওয়াল লা'নত (তোমাদের উপর মৃত্যু ও অভিশাপ পতিত হোক)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ আল্লাহ তা'আলা সকল ব্যাপারেই কোমলতা পছন্দ করেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, তারা কি বলেছে আপনি কি তা শুনেননি? তিনি বললেনঃ আমিও তো বলে দিয়েছি, আলাইকুম। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (৭৬৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ বাসরা আল-গিফারী, ইবনু উমার, আনাস ও আবূ আবদুর রাহমান আল-জুহানী (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উসামাহ্ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ইয়াহুদী-মুসলিম সম্মিলিত একটি সমাবেশের পাশ দিয়ে চলার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন। সহীহঃ বুখারী (৬২৫৪), মুসলিম (৫/১৮২-১৮৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরোহী পদচারীকে, পদচারী বসা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম দিবে। ইবনুল মুসান্না বর্ণিত হাদীসে আরো আছেঃ বয়সে নবীনরা প্রবীণদেরকে সালাম করবে। সহীহঃ সহীহাহ (১১৪৫), বুখারী ও মুসলিম। ‘আবদুর রাহমান ইবনু শিবল, ফাযালাহ ইবনু উবাইদ ও জাবির (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। আইয়ুব সাখতিয়ানী, ইউনুস ইবনু উবাইদ ও আলী ইবনু যাইদ বলেনঃ হাসান আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে হাদীস শ্রবণ করেননি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অল্প বয়সী বেশি বয়সীদেরকে, পদচারী বসা লোকদেরকে এবং অল্প সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম করবে। সহীহঃ প্রাগুক্ত (১১৪৯), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ফাযালাহ ইবনু উবাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অশ্বারোহী পথচারীকে, পথচারী দাঁড়ানো ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম দিবে। সহীহঃ প্রাগুক্ত (১১৫০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আলী আল-জানবীর নাম 'আমর ইবনু মালিক।
হাদিস 2706 — Jami At Tirmidhi 42:19
হাসান Sahihহাসান SahihহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا انْتَهَى أَحَدُكُمْ إِلَى مَجْلِسٍ فَلْيُسَلِّمْ فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَجْلِسَ فَلْيَجْلِسْ ثُمَّ إِذَا قَامَ فَلْيُسَلِّمْ فَلَيْسَتِ الأُولَى بِأَحَقَّ مِنَ الآخِرَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ أَيْضًا عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ কোন মাজলিসে উপস্থিত হলে সে যেন সালাম করে, তারপর তার ইচ্ছা হলে বসে পড়বে। তারপর সে যখন উঠে দাড়াবে, তখনো যেন সালাম করে। কেননা পরের সালামের চাইতে প্রথম সালাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। হাসান সহীহঃ সহীহাহ (১৮৩), তাখরীজুল কালিম (২০১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি ইবনু আজলান-সাঈদ আল-মাকবুরী হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও বর্ণিত আছে।
। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক পর্দা তুলে কারো ঘরের মধ্যে তাকালো এবং সম্মতি পাওয়ার আগেই ঘরের গোপনীয় বিষয় দেখে ফেললো, সে দণ্ডনীয় অপরাধী হয়ে গেলো, যা করা তার পক্ষে বৈধ নয়। সে যখন ঘরের ভেতরে তাকিয়ে ছিলো, তখন কেউ যদি এগিয়ে এসে তার দু'চোখ ফুড়ে বা সমূলে উপড়ে ফেলে দিত তবে তাকে আমি অপরাধী সাব্যস্ত করতাম না। আর কেউ যদি উম্মুক্ত দরজার পাশ দিয়ে যায় যার পর্দা নেই, আর সে যদি এদিকে তাকায়, তবে তাতে তার কোন দোষ নেই, বরং দোষ বাড়িওয়ালার (পর্দা ঝুলানো তাদের দায়িত্ব)। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৫২৬) এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা ও আবূ উমামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে, আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা ইবনু আবূ লাহীআর রিওয়ায়াত ছাড়া এ রকম হাদীস জানতে পরিনি। আবূ আবদুর রহমান আল-হুবুলীর নাম আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ।