। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একসময় জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কোন ব্যক্তি তার ভাই কিংবা বন্ধুর সাথে দেখা করলে সে কি তার সামনে ঝুঁকে (নত) যাবে? তিনি বললেনঃ না। সে আবার প্রশ্ন করল, তাহলে কি সে গলাগলি করে তাকে চুমু খাবে? তিনি বললেনঃ না। সে এবার বলল, তাহলে সে তার হাত ধরে মুসাফাহা (করমর্দন) করবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭০২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
হাদিস 2729 — Jami At Tirmidhi 42:42
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Bukhari
حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ قُلْتُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هَلْ كَانَتِ الْمُصَافَحَةُ فِي أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে মুসাফাহার প্রচলন ছিল কি? তিনি বললেন,হ্যাঁ। সহীহঃ বুখারী (৬২৬৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সালামের সময় হাত ধরা (মুসাফাহ করা) সালামের পূর্ণতা সম্পাদনকারী। যঈফ, যঈফা (২৬৯১)। এ অনুচ্ছেদে বারাআ এবং ইবনু উমার হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইম হতে সুফিয়ানের সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি এটিকে সংরক্ষিত বলে মনে করেননি এবং বলেছেন, সম্ভবত ইয়াহইয়া- আমার মতে সুফিয়ান বর্ণিত হাদীস উদ্দেশ্য করেছিলেন যা মানসূর-খাইসামা হতে যিনি ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন- তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ "যে ব্যক্তি নামায আদায়ের ইচ্ছা রাখে সে এবং মুসাফির ছাড়া (এশার পর) আলাপ-আলোচনা করার অনুমতি নেই”। মুহাম্মাদ আল-বুখারী আরো বলেন, মানসূর-আবূ ইসহাক হতে তিনি আবদুর রহমান ইবনু ইয়ামীদ অথবা অপরের সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ “মুসাফাহা করলে সালাম পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়”।
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রোগীকে সম্পূর্ণভাবে সেবা করার পূর্ণতা হল তার কপালে হাত রাখা অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেনঃ রোগীর হাতের উপর হাত রেখে প্রশ্ন করা, সে কেমন আছে? আর তোমাদের সালামের পূর্ণতা হল একে অন্যের সঙ্গে মুসাফাহা করা। যঈফ, যঈফা (১২৮৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ খুবএকটা মজবুত নয়। মুহাম্মাদ (বুখারী রাহঃ) বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু যাহর বিশ্বস্ত রাবী এবং আলী ইবনু ইয়াযীদ দুর্বল রাবী। আল-কাসিম হলেন আবদুর রহমানের পুত্র, উপনাম আবূ আবদুর রহমান, তিনি বিশ্বস্ত রাবী। তিনি আবদুর রহমান ইবনু খালিদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়ার মুক্তদাস। আল-কাসিম সিরিয়ার অধিবাসী।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যাইদ ইবনু হারিসা (রাঃ) যখন (সফর হতে) মদীনায় ফিরে এলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমার ঘরে ছিলেন। তিনি এসে দরজা খটখট করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালি গায়ে কাপড় টানতে টানতে তার নিকটে গেলেন। আল্লাহর শপথ! আমি তাকে আগে বা পরে কখনো খালি গায়ে দেখিনি। তারপর তিনি যাইদের সাথে কোলাকুলি করলেন এবং তাকে চুমু খেলেন। যঈফ, মিশকাত (৪৬৮২), রিয়াদুস সালেহীন এর মুকাদ্দামা (ওয়াও/৫) নাকদুল কাত্তানী আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। যুহরীর বর্ণনা হিসাবে আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
। সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহুদী তার এক সঙ্গিকে বলল, আস আমরা এই নবীর নিকট যাই। তার বন্ধু বলল, নবী বলো না, তিনি যদি শুনে ফেলেন তাহলে খুশীতে তার চার চোখ হয়ে যাবে। অতঃপর এরা দু’জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি তাদের বললেনঃ আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, চুরি করো না, যেনা করো না, আল্লাহ যেসব প্রাণ হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন সঙ্গত কারণ ছাড়া সেগুলো হত্যা করো না, হত্যার উদ্দেশ্যে কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে বিচারালয়ে নিয়ে যেও না, যাদু করো না, সুদ খেয়ো না, সতী-সাধ্বী মহিলাকে যেনার অপবাদ দিও না, যুদ্ধের ময়দান থেকে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করো না এবং বিশেষ করে তোমরা ইয়াহুদীগণ শনিবারের সীমা লংঘন করো না। রাবী বলেন, এসব স্পষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা শুনে তারা তার হাতে-পায়ে চুমু দিল এবং বলল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নবী। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তাহলে আমার অনুসরণ করতে তোমাদের বাধা কিসের? রাবী বলেন, তারা বলল, দাউদ (আঃ) তার রবের নিকটে দু'আ করেছিলেন যে, তার (বংশধরের) সন্তানদের মধ্যেই যেন নবী হন। আমরা আশংকা করছি আমরা যদি আপনার অনুসরণ করি তাহলে ইয়াহুদীগণ আমাদের হত্যা করে ফেলবে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৭০৫) এ অনুচ্ছেদে ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ, ইবনু উমার ও কাব ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উম্মু হানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন এবং ফাতিমা (রাযিঃ) একটি কাপড় দ্বারা তাকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশ্ন করলেনঃ কে? আমি বললাম, আমি উম্মু হানী। তিনি বললেনঃ উম্মু হানীকে স্বাগতম! তারপর বর্ণনাকারী এ হাদীসের পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন। সহীহঃ বুখারী (৩৫৭), মুসলিম (২/১৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।