। আল-আব্বাস ইবনু আবদিল মুত্তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ সেই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ লাভ করেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলাকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নবী হিসেবে খুশী মনে মেনে নিয়েছে। সহীহঃ মুসলিম (১/৪৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির মধ্যে তিনটি গুণ রয়েছে সে ঈমানের স্বাদ লাভ করেছে। (১) যে ব্যক্তির কাছে আল্লাহ ও তার রাসূলই অন্য সকল কিছু হতে প্রিয়তর, (২) যে আল্লাহ তা'আলার ওয়াস্তে কোন মানুষকে ভালবাসে এবং (৩) আল্লাহ তা'আলা কাউকে (ঈমানের মাধ্যমে) কুফুর হতে মুক্তিদানের পর সে আবার তাতে ফিরে যেতে এতটা অপছন্দ করে যতটা অপছন্দ করে আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪০৩৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কাতাদাহ (রাযিঃ) এ হাদীসটি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যিনাকারী যিনায় লিপ্ত থাকাবস্থায় মুমিন থাকে না, চোর চুরি করার সময় মুমিন থাকে না। তবে তওবা করার সুযোগ আছে। সহীহ ইবনু মা-জাহ (৩৯৩৬), বুখারী ও মুসলিম। ইবনু আব্বাস, আয়িশাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ এবং এ সূত্রে গারীব। অধিকন্তু আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “বান্দা যখন যিনায় লিপ্ত থাকে, তখন ঈমান তার থেকে বেরিয়ে যায় এবং ছায়ার মতো তার মাথার উপর অবস্থান করে। তারপর সে যখন সেই দুষ্কর্ম হতে সরে আসে তখন ঈমানও তার মাঝে ফিরে আসে।” আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনু আলী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, “অপরাধী ব্যক্তি এ ধরনের পরিস্থিতে ঈমানের স্তর হতে বেরিয়ে ইসলামের স্তরে নেমে আসে”। একাধিক সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি যিনা ও চুরি সম্পর্কে বলেনঃ “যে ব্যক্তি যিনা ও চুরির অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছে এবং তার উপর হদ (নির্ধারিত শাস্তি) কার্যকর করা হয়েছে, তাতে তার গুনাহর কাফফারা হয়ে গেছে। আর কেউ এ অপরাধে লিপ্ত হলে এবং আল্লাহ তা'আলা তা গোপন রাখলে এটা আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তিনি চাইলে কিয়ামত দিবসে তাকে শাস্তিও দিতে পারেন, ক্ষমাও করতে পারেন"। সহীহঃ সহীহাহ (২৩১৭), বুখারী ও মুসলিম। তাছাড়া এ হাদীসটি আলী ইবনু আবূ তালিব, উবাদাহ ইবনুস সামিত ও খুযাইমাহ (রাযিঃ) প্রমুখগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি হাদযোগ্য অপরাধ করলে এবং দুনিয়াতেই তার উপর হাদ্দ কার্যকর হলে আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাকে পরকালে আবার শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই ন্যায়বিচারক। আর কোন ব্যক্তি হাদ্দযোগ্য অপরাধ করলে, আল্লাহ তা'আলা তার অপরাধ গোপন রাখলে এবং ক্ষমা করলে তিনি তাকে ক্ষমা করার পর আবার শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই অধিক দয়াপরবশ। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৬০৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। বিশেষজ্ঞ আলিমগণও ও মতই পোষণ করেন। তাদের কেউ যেনা, চুরি, ইত্যাদি অপরাধের দরুন তাকে কাফির বলে ফতোয়া দিয়েছেন বলে আমাদের জানা নাই।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলিম। আর যাকে মানুষ তাদের জান ও মালের জন্য নিরাপদ মনে করে সে-ই প্রকৃত মুমিন। হাসান সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (৩৩), সহীহাহ (৫৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। অপর বর্ণনায় আছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হল যে, কোন ব্যক্তি মুসলিমদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহবা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে। জাবির, আবূ মূসা ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 2628 — Jami At Tirmidhi 40:23
সহিহসহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا بِذَلِكَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ أَىُّ الْمُسْلِمِينَ أَفْضَلُ قَالَ " مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করা হল, কোন ব্যক্তি মুসলিমদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এটি ২৫০৪ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ এবং আবূ মূসা (রাযিঃ)-এর সূত্রে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীস হিসেবে গারীব।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অপরিচিত অবস্থায় ইসলামের সূচনা হয়েছে এবং যে অবস্থায় তার সূচনা হয়েছিল আবার সে রকম অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে। সুতরাং অপরিচিতদের জন্যই সু-সংবাদ। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৯৮৮), মুসলিম। সাদ, ইবনু উমার, জাবির, আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর বর্ণনা হিসেবে গারীব। আমরা এ হাদীস শুধুমাত্র হাফস ইবনু গিয়াস হতে আমাশের সূত্রেই জেনেছি। আবূল আহওয়াসের নাম ‘আওফ ইবনু মালিক ইবনু নাযলা আল-জুশামী। হাফস এ হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
। কাসীর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আওফ ইবনু যাইদ ইবনু মিলহা (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সাপ যেভাবে (সংকুচিত হয়ে) তার গর্তে ফিরে যায় তেমনি দীন ইসলামও এক সময় সংকুচিত হয়ে হিজাযে ফিরে আসবে। পাহাড়ী বকরী যেমন পাহাড় শৃংগে আশ্রয় নেয়, দীন ইসলামও তেমন হিজাযে আশ্রয় নিবে। দীন ইসলাম তো অপরিচিত অবস্থায় যাত্রা শুরু করছিল এবং অচিরেই অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে অর্থাৎ অপরিচিত হয়ে যাবে। সুতরাং অপরিচিতদের জন্য সংবাদ, যারা আমার সুন্নাত বিপর্যস্ত হয়ে যাবার পর তা পুনরুজ্জীবিত করে। অত্যন্ত দুর্বল, সহীহা (১২৭৩) নং হাদীসের আওতায়। মিশকাত (১৭০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকের আলামত বা নিদর্শন তিনটি। সে (১) কথা বললে মিথ্যা বলে; (২) ওয়াদাহ করলে তা ভঙ্গ করে এবং (৩) তার নিকট আমানাত রাখা হলে সে তার খিয়ানাত করে। সহীহঃ ঈমান আবী উবাইদ, পৃষ্ঠা (৯৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আল-আ'লার বর্ণনা হিসেবে গারীব। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে এই মর্মে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণিত আছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আনাস ও জাবির (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস আলী ইবনু হুজুর-ইসমাঈল ইবনু জাফার হতে, তিনি আবূ সুহাইল ইবনু মালিক হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ। আবূ সুহাইল হলেন মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ)-এর চাচা, তার নাম নাফি, ইবনু মালিক ইবনু আবী আমির আল-আসবাহী আল-খাওলানী।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির মধ্যে চারটি অভ্যাস রয়েছে সে মুনাফিক। আর যার মধ্যে এগুলোর কোন একটি অভ্যাস থাকে, তা ত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব থাকে। যে কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদাহ করলে তা ভঙ্গ করে, ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে এবং চুক্তি করলে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল-আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মুররাহ (রহঃ)-এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিও হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মনে করেন এ হাদীসের তাৎপর্য হলো, কার্যকলাপে মুনাফিকী, এখনো যা বিদ্যমান আছে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মুনাফিকী ছিল ইসলামকে অস্বীকার করার মুনাফিকী। হাসান বাসরী (রাহঃ) হতে একই রকম ব্যাখ্যা বর্ণিত আছে।