। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করেনঃ তুমি কি জানো বান্দার উপর আল্লাহ তা'আলার কি হক (অধিকার) রয়েছে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ তাদের উপর তার হক এই যে, তারা তার ইবাদাত করবে এবং তার সাথে আর কোন কিছুকে অংশীদার স্থাপন করবে না। তিনি আবার প্রশ্ন করেনঃ তারা এগুলো করলে আল্লাহ তা'আলার উপর তাদের কি হক (অধিকার) রয়েছে তুমি কি তা জানো? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার উপর তাদের হক্ক এই যে, তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪২৯৬), বুখারী ও মুসলিম। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমার নিকট এসে এই সুসংবাদ দেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাথে কিছু শারীক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি প্রশ্ন করলাম, সে যদি ব্যভিচার করে থাকে, সে যদি চুরি করে থাকে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ (তবুও সে জান্নাতে যাবে)। সহীহঃ সহীহাহ (৮২৬), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যে ব্যক্তির কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২২০), বুখারী ও মুসলিম। উমার, আবূ হুরাইরাহ ও মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে। হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক জ্ঞানের খোঁজে কোন পথে চলবে, তার জন্য আল্লাহ তা'আলা জান্নাতের পথ সহজ করে দিবেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২২৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি জ্ঞানের খোজে বের হলে সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় আছে বলে গণ্য হবে। যঈফ, মিশকাত (২২০)যঈফা (২০৩৭), আর-রাওয (১০৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কোন কোন রাবী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন তবে মারফুরূপে নয়।
। সাখবারা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞান খোঁজ করে, এটা তার জন্য তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। মাওযু, মিশকাত (২২১), যঈফা (৫০১৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সনদের দিক হতে যঈফ। আবদুল্লাহ ইবনু সাখবারা ও তার পিতা সাখবারা (রাঃ)-এর হাদীস রিওয়ায়াত প্রসঙ্গে আমাদের বেশী কিছু জানা নেই। রাবী আবূ দাউদের নাম নুফাই আল-আ'মা কাতাদা এবং অন্যান্যরা তার সমালোচনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক এমন ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয় যা সে জানে, অতঃপর সে তা গোপন করে, তাকে কিয়ামতের দিবসে আগুনের লাগাম পরানো হবে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৬৪) জাবির ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। আবূ হারূন আল-আবদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-এর নিকটে (জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে) আসলে তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশকে “মারহাবা, স্বাগতম!” কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (আমার পরে) মানুষ তো তোমাদের অনুসারী হবে। দিগদিগন্ত হতে মানুষ ধর্মের জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তোমাদের নিকটে আসবে। তারা তোমাদের নিকটে এলে তোমরা তাদের কল্যাণ সাধনের ব্যাপারে (আমার) উপদেশ গ্রহণ কর। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৪৯) আবূ ঈসা বলেনঃ আলী ইবনু আবদুল্লাহ বলেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, শুবা (রাহঃ) আবূ হারূন আবদীকে যঈফ বলতেন, কিন্তু ইবনু আওন আমৃত্যু তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ হারূনের নাম উমারা ইবনু জুয়াইন।
হাদিস 2651 — Jami At Tirmidhi 41:7
দাঈফদাঈফIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي هَارُونَ الْعَبْدِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَأْتِيكُمْ رِجَالٌ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ يَتَعَلَّمُونَ فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا " . قَالَ فَكَانَ أَبُو سَعِيدٍ إِذَا رَآنَا قَالَ مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هَارُونَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ .
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রাচ্যের দিক হতে বহু লোক জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে তোমাদের নিকটে আসবে। তারা তোমাদের নিকটে এলে তোমরা তাদের কল্যাণ কামনায় (আমার) সদুপদেশ গ্রহণ কর। তিনি (হারূন) বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ) আমাদের দেখলে বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশকে স্বাগতম। যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, আবূ হারূন আবদী-আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস ব্যতীত এই প্রসঙ্গে আমাদের কিছু জানা নাই।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (শেষ যামানায়) আল্লাহ তা'আলা মানুষের নিকট হতে একটানে ইলম উঠিয়ে নিবেন না, বরং আলিমদেরকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নিবেন। অবশেষে যখন তিনি কোন আলিমই অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষেরা অজ্ঞ জাহিলদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তারপর বিভিন্ন বিষয়ে তাদের নিকট প্রশ্ন করা হবে, আর তারা ইলম ছাড়াই ফাতাওয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৫২), বুখারী ও মুসলিম। আয়িশাহ ও যিয়াদ ইবনু লাবীদ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। যুহরী (রহঃ) এ হাদীস উরওয়াহ হতে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ)-এর বরাতে এবং উরওয়াহ হতে, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, উভয় সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।