। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মু'মিন লোক যদি জান্নাতে সন্তানের আকাঙ্খা করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তার স্ত্রী গর্ভধারণ করবে ও সন্তান প্রসব করবে এবং সন্তানটি হবে বয়সে যুবক। তার ইচ্ছা অনুযায়ী মুহুর্তের মধ্যেই এসব হয়ে যাবে। সহীহঃ প্রাগুক্ত। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান গারীব। আলিমদের মধ্যে এই বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ বলেন, জান্নাতে সম্ভোগ হবে কিন্তু সন্তান জন্মগ্রহণ করবে না। তাউস, মুজাহিদ ও ইবরাহীম নাখঈ প্রমুখ হতে এই রকম বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (রাহঃ) বলেন, উক্ত হাদীস প্রসঙ্গে ইসহাক ইবনু ইবরাহীম বলেন যে, মুমিন লোক জান্নাতে সন্তানের ইচ্ছা করা মাত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে, কিন্তু সে এমন কিছু ইচ্ছা করবে না। মুহাম্মাদ (রহঃ) আরো বলেন, আবূ রায়ীন আল-উকাইলী হতেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে যে, সেখানে কোন জান্নাতীদের কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করবে না। আবূ সিদ্দীক আন নাজীর-এর নাম বাকর ইবনু আমর তাকে বাকর ইবনু কাইসও বলা হয়।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে আয়াতলোচনা হুরদের সমবেত হওয়ার একটি জায়গা রয়েছে। তারা সেখানে এমন সুরেলা আওয়াযে গান গাইবে, যেমন আওয়ায কোন মাখলুক ইতিপূর্বে কখনো শুনেনি। তারা এই বলে গান গাইবেঃ আমরা তো চিরঙ্গিনী, আমাদের ধ্বংস নেই। আমরা তো আনন্দ-উল্লাসের জন্যই, দুঃখ-কষ্ট নেই আমাদের। আমরা চির সন্তুষ্ট, আমরা কখনো অসন্তুষ্ট হব না। তাদের কতই না সৌভাগ্য যাদের জন্য আমরা এবং আমাদের জন্য যারা। যঈফ, যঈফা (১৯৮২) এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা, আবূ সাঈদ ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব।
। ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর (রহঃ) হতে আল্লাহ তা'আলার বাণী, “তারা তো বাগানের মধ্যে আনন্দিত থাকবে" (রূমঃ ১৫) আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ তারা গান শুনবে। সনদ সহীহ মাকতু, হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী গানের অর্থ হলো হুরদের উচ্চকণ্ঠে গানের আওয়াজ।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকার লোক কিয়ামতের দিন কস্তুরীর স্তুপের উপর আসন গ্রহণ করবে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ তাদের এ মর্যাদায় ঈর্ষা করবে। (১) যে ব্যক্তি দিন-রাত পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আযান দেয়; (২) যে ব্যক্তি কোন জাতির নেতৃত্ব করে আর তারা তার উপর সন্তুষ্ট থাকে এবং (৩) যে গোলাম আল্লাহ তা'আলার ও তার মনিবের হাক আদায় করে। (য’ঈফ; মিশকাত— হাঃ নং- ৬৬৬; নাকদুত তাজ- হাঃ নং- ১৮৪; তা’লীকুর রাগীব-হাঃ নং- ১/১১০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র সুফিয়ান সাওরীর সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। আবূল ইয়াকযানের নাম উসমান ইবনু উমাইর, মতান্তরে ইবনু কাইস।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তিন প্রকার লোককে ভালবাসেন। (১) যে ব্যক্তি রাত জেগে (তাহাজ্জুদ) নামাযে কুরআন তিলাওয়াত করে; (২) যে ব্যক্তি ডান হাতে দান-খাইরাত করে আর তার বা হাতও তা টের পায় না এবং (৩) যে ব্যক্তি কোন সেনাবাহিনীতে যুদ্ধরত অবস্থায় থাকে, তার সাথীরা পরাজিত হয়ে গেলেও সে দুশমনের মুকাবিলা করতে থাকে। (য’ঈফ; মিশকাত— তাহকীকু ছানী, হাঃ নং- ১৯২১) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীসটি গারীব এবং অরক্ষিত। সঠিক হল সে বর্ণনাটি যা শু’বা (রাহ.) প্রমুখ মানসূর হতে তিনি রিবাঈ ইবনু হিরাশ হতে তিনি যাইদ ইবনু যাবৃইয়ান হতে তিনি আবূ যার (রাযি.) হতে তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ হাদীস বর্ণনায় প্রচুর ভুল করেন।
। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তিন প্রকার লোককে ভালোবাসেন এবং তিন প্রকার লোককে ঘৃণা করেন। যাদের আল্লাহ তা'আলা ভালোবাসেন তারা হলঃ (১) কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের নিকটে এসে আল্লাহ তা'আলার ওয়াস্তে কিছু চাইল, তবে আত্মীয়তার সম্পর্কের দোহাই দিয়ে চায়নি। তারা তাকে কিছুই দিল না। এ সম্প্রদায়ের একটি লোক তাদের হতে আলাদা হয়ে গোপনে তাকে কিছু দান করল এবং তার দান প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা ও গ্রহণকারী ব্যতীত আর কেউ জানতে পারল না। (২) একটি দল সারারাত সফররত থাকল, তারপর সকল কিছুর তুলনায় ঘুম যখন তাদের প্রিয় হয়ে গেল, ফলে সব লোক (বালিশে) মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল; কিন্তু তাদেরই একজন আমার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নামাযে দাড়ায় এবং আমার কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে। (৩) আর এক ব্যক্তি কোন সেনাবাহিনীতে যোগদান করল। তারপর শক্রর মুকাবিলা করে তার পক্ষের লোকেরা পরাজিত হল; কিন্তু সে বুক ফুলিয়ে সামনে এগিয়ে গেলো। তারপর সে হয় শহীদ হল কিংবা বিজয়ী হল। আর আল্লাহ তা'আলা যে তিনজনকে ঘৃণা করেন তারা হলঃ (১) বৃদ্ধ যেনাকারী; (২) অহংকারী ভিক্ষুক এবং (৩) অত্যাচারী সম্পদশালী ব্যক্তি। যঈফ, মিশকাত (১৯২২) মাহমূদ ইবনু গাইলান-নাযর ইবনু শুমাইল হতে তিনি শুবা (রাহঃ) হতে উপরে বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি সহীহ। শাইবান (রাহঃ)-ও মানসূরের সূত্রে এরকমই বর্ণনা করেছেন। এই সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের তুলনায় অনেক বেশী সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফুরাত নদী শীঘ্রই তার স্বর্ণের ভাণ্ডার প্রকাশ করে দিবে। তখন যে লোক সেখানে উপস্থিত থাকবে, সে যেন তা থেকে কিছুই না নেয়। সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা আছে। তবে এতে তিনি বলেছেনঃ “ফুরাত হতে স্বর্ণের একটি পাহাড় বের হবে"। সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
। হাকীম ইবনু মু'আবিয়াহ (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের মধ্যে পানি, মধু, দুধ ও মদের সমুদ্র আছে। এগুলো থেকে আরো ঝর্ণা বা নদীসমূহ প্রবাহিত হবে। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (৫৬৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। হাকীম ইবনু মু'আবিয়া হলেন বাহয (রহঃ)-এর বাবা। আল জুরাইরীর উপনাম আবূ মাসউদ। তার নাম সাঈদ ইবনু ইয়াস।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক জান্নাতের জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট তিনবার প্রার্থনা করলে জান্নাত তখন বলে, হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর কোন লোক তিনবার জাহান্নাম হতে পানাহ (আশ্রয়) চাইলে জাহান্নাম তখন আল্লাহ তা'আলার নিকট বলে, হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (২৪৭৮), তা’লীকুর রাগীব (৪/২২২)। ইউনুস (রাহঃ) এ হাদীসটি আবূ ইসহাক হতে, তিনি বুরাইদ ইবনু আবূ মারইয়াম হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ইসহাক হতে বুরাইদ ইবনু আবূ মারইয়াম এর বরাতে আনাস (রাযিঃ)-এর বক্তব্য হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে।