। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ (হিশামের বর্ণনায়) জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে অথবা (শুবাহুর বর্ণনায়) যে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন প্ৰভু নেই) বলেছে তাকে বের করে আন তার অন্তরে যবের দানা পরিমাণ ঈমান থাকলেও। আর যে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' বলেছে এবং তার অন্তরে যদি গমের দানা পরিমাণও ঈমান থাকে তবে তাকেও জাহান্নাম হতে বের করে আন। যে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' বলেছে এবং তার অন্তরে যদি অণু পরিমাণও (শুবাহুর বর্ণনায় আছে, একটি হালকা জোয়ারদানা পরিমাণ) ঈমান থাকে তবে তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করে আন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪৩১২), বুখারী ও মুসলিম। জাবির, আবূ সাঈদ ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ যে ব্যক্তি কোন দিন আমাকে মনে করেছে কিংবা কোন জায়গাতে আমাকে ভয় করেছে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করে আন। যঈফ, আয-যিলাল (৮৩৩), তা’লীকুর রাগীব (৪/১৩৮), মিশকাত তাহকীক ছানী (৫৩৪৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সবার শেষে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে, আমি তাকে জানি। সে নিতম্বের উপর ভর দিয়ে (জাহান্নাম থেকে) হেঁচড়িয়ে বের হয়ে আসবে। সে বলবে, হে প্ৰভু! জান্নাতের জায়গাগুলে তো মানুষজন দখল করে নিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাকে বল হবে, তুমি জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও এবং তাতে প্রবেশ কর। তখন সে জান্নাতে প্রবেশের উদ্দেশে অগ্রসর হবে এবং দেখতে পাবে যে, সম্পূর্ণ জায়গা মানুষজন দখল করে নিয়েছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্ৰভু! সমস্ত জায়গা তো মানুষজন দখল করে নিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাকে বলা হবে, সে সময়ের কথা স্মরণ আছে কি যাতে তুমি অবস্থান করছিলে? সে বলবে, হ্যাঁ স্মরণ আছে। বলা হবে, তুমি আকাঙ্ক্ষা কর। সে তখন আকাঙ্ক্ষা পেশ করবে। বলা হবে, তুমি যা আকাজক্ষা করেছে তা দেয়া হল তদুপারি দুনিয়ার দশ গুণ দেয়া হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ কথা শোনার পর সে বলবে, আপনি বাদশাহ হয়ে আমার সাথে উপহাস করছেন? ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, এ কথা বলার পর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাসতে দেখলাম, এমনকি তার মুখের দাঁত প্রকাশিত হল। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪৩৩৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সবার শেষে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে এবং সবার শেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে আমি অবশ্যই তাকে চিনি। তাকে হাযির করা হলে আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ তোমরা ছোটখাটো গুনাহ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন কর এবং মারাত্মক গুনাহগুলো গোপন রাখো। সে মোতাবিক তাকে প্রশ্ন করা হবে, অমুক অমুক দিন তুমি এই এই গুনাহ করেছো, অমুক অমুক দিন এই এই গুনাহ করেছো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর তাকে বলা হবে, কিন্তু আজ প্রতিটি গুনাহর বিনিময়ে তোমাকে সাওয়াব দান করা হচ্ছে। সে বলবে, হে প্ৰভু! আমি তো এগুলো ব্যতীত আরো অনেক গুনাহ করেছি, কিন্তু এখানে সেগুলো দেখতে পাচ্ছি না। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমনভাবে হাসতে দেখলাম যে, তার মুখের দাঁত পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে যায়। সহীহঃ মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিছু তাওহীদবাদী লোককেও জাহান্নামের শাস্তি প্রদান করা হবে। এমনকি তারা তাতে পুড়তে পুড়তে কয়লার মতো হয়ে যাবে। তারপর আল্লাহ তা'আলার রহমতে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং জান্নাতের দরজায় নিক্ষেপ করা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতে বসবাসকারীরা তাদের উপর পানি ছিটিয়ে দিবে। যার ফলে তারা সজীব হয়ে যাবে যেমনটি বন্যার স্রোত চলে যাবার পর মাটিতে উদ্ভিদ গজায়। তারপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহঃ সহীহাহ (২৪৫১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জাবির (রাযিঃ) হতে এটি ভিন্ন সনদসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমানও রয়েছে সে ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, কারো এ ব্যাপারে সন্দেহ হলে সে এ আয়াতটি তিলাওয়াত করুকঃ “আল্লাহ তা'আলা অণু পরিমাণও যুলুম করেন না”— (সূরা নিসাঃ ৪০)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জাহান্নামে প্রবেশকারীদের মধ্যে দুই ব্যক্তি (তাতে প্রবেশ করেই খুব) জোরে চিৎকার করবে। আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ এদের দু’জনকে বের করে আন। তারপর তাদের বের করে আনা হলে তিনি প্রশ্ন করবেনঃ এত জোরে চিৎকার করছিলে কেন? তারা বলবে, আমরা এরূপ করেছি, যেন আপনি আমাদের প্রতি দয়া করেন। তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের প্রতি দয়া করলাম। তবে তোমরা জাহান্নামের যেখানে ছিলে সেখানে গিয়ে নিজেদের নিক্ষেপ কর। তারা সেদিকে যাবে। তারপর তাদের একজন নিজেকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। তখন আল্লাহ তা'আলা তার জন্য আগুনকে শীতল ও শান্তিময় করে দিবেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি উঠে দাঁড়াবে কিন্তু নিজেকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে না। আল্লাহ তা'আলা প্রশ্ন করবেনঃ তোমার সাখীর মতো তুমি নিজেকে জাহান্নামে ফেললে না কেন? সে বলবে, হে আল্লাহ! আমি আশা করি আপনি আমাকে জাহান্নাম হতে বের করে আনার পর আবার তাতে ফিরিয়ে দিবেন না। আল্লাহ তা'আলা বলবেন? তোমার আশা পূর্ণ হোক! তারপর আল্লাহ্ তা'আলার রহমতে তারা দু’জনই জান্নাতে চলে যাবে। যঈফ, মিশকাত (৫৬০৫), যঈফা (১৯৭৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ যঈফ। কারণ এটি রিশদীন ইবনু সাদের সূত্রে বর্ণিত। তিনি হাদীসবেত্তাদের মতে দুর্বল রাবী। এ হাদীসের অপর রাবী ইবনু আনউম আল-ইফরীকীও হাদীসবেত্তাদের মতে দুর্বল।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার আবেদনের কারণে আমার উম্মাতের এক দল জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। তাদের নাম হবে জাহান্নামী। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪৩১৫), বুখারী আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ রাজা আল-উতারিদীর নাম ইমরান ইবনু তাইম, মতান্তরে ইবনু মিলহান।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জাহান্নামের মতো এমন কিছু দেখিনি যা হতে আত্মরক্ষাকারীগণ ঘুমে অচেতন এবং জান্নাতের মতো এমন কিছুও দেখিনি যার অন্বেষণকারীগণও ঘুমে অচেতন। হাসানঃ সহীহাহ (৯৫১) আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধুমাত্র ইয়াহইয়া ইবনু উবাইদুল্লাহর সূত্রে এ হাদীসটি জেনেছি। অধিকাংশ মুহাদ্দীসগণের মতে তিনি যঈফ। শু'বাহ তার সমালোচনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু উবাইদুল্লাহ, যিনি ইবনু মাওহাব তিনি মাদীনার অধিবাসী।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মি'রাজের রাতে) আমি জান্নাতের মধ্যে উঁকি দিয়ে দেখতে পেলাম যে, এর বেশিরভাগ অধিবাসীই গারীব এবং জাহান্নামের মধ্যে উঁকি দিয়ে দেখতে পেলাম যে, এর বেশিরভাগ অধিবাসীই মহিলা। সহীহঃ যঈফার (২৮০০) নং হাদীসের অধীনে, বুখারী ও মুসলিম।