Qurani·قرآني
বাংলা

কিয়ামতের বিবরণ, অন্তরের কোমলতা ও পরহেযগারি সংক্রান্ত অধ্যায়

108 হাদিস · #2415–2522

হাদিস 2505 — Jami At Tirmidhi 37:91
MawduMawduহাসানদাঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ عَيَّرَ أَخَاهُ بِذَنْبٍ لَمْ يَمُتْ حَتَّى يَعْمَلَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَحْمَدُ مِنْ ذَنْبٍ قَدْ تَابَ مِنْهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ ‏.‏ وَخَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ لَمْ يُدْرِكْ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ وَرُوِيَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ أَنَّهُ أَدْرَكَ سَبْعِينَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَمَاتَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ فِي خِلاَفَةِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَخَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ رَوَى عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ عَنْ مُعَاذٍ غَيْرَ حَدِيثٍ ‏.‏
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তার কোন ভাইকে কোন গুনাহর জন্য লজ্জা দিলে সে উক্ত গুনাহে না জড়িয়ে পড়া পর্যন্ত মারা যাবে না। মাওযু, যঈফা (১৭৮) আহমাদ (রাহঃ) বলেন, এ গুনাহর অর্থ হল, যা হতে সে তাওবা করেছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এর সনদসূত্র মুত্তাসিল নয়। খালিদ ইবনু মাদান (রাহঃ) মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ)-এর দেখা পাননি। খালিদ ইবনু মাদান হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি সত্তরজন সাহাবীর দেখা পান। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মারা যান। খালিদ ইবনু মাদান উক্ত হাদীস ছাড়াও মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ)-এর বহু শাগরিদের সূত্রে তার থেকে আরও হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 2506 — Jami At Tirmidhi 37:92
দাঈফহাসানদাঈফ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُجَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، ح قَالَ وَأَخْبَرَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ الْقَاسِمِ الْحَذَّاءُ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تُظْهِرِ الشَّمَاتَةَ لأَخِيكَ فَيَرْحَمُهُ اللَّهُ وَيَبْتَلِيكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَمَكْحُولٌ قَدْ سَمِعَ مِنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَأَبِي هِنْدٍ الدَّارِيِّ وَيُقَالُ إِنَّهُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ هَؤُلاَءِ الثَّلاَثَةِ ‏.‏ وَمَكْحُولٌ شَامِيٌّ يُكْنَى أَبَا عَبْدِ اللَّهِ وَكَانَ عَبْدًا فَأُعْتِقَ وَمَكْحُولٌ الأَزْدِيُّ بَصْرِيٌّ سَمِعَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ يَرْوِي عَنْهُ عُمَارَةُ بْنُ زَاذَانَ ‏.‏ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ عَطِيَّةَ، قَالَ كَثِيرًا مَا كُنْتُ أَسْمَعُ مَكْحُولاً يُسْأَلُ فَيَقُولُ نَدَانَمْ ‏.‏
। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা' (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার কোন ভাইয়ের বিপদে তুমি আনন্দ প্রকাশ করো না। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা তাকে দয়া করবেন এবং তোমাকে সেই বিপদে নিক্ষিপ্ত করবেন। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৪৮৫৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। মাকহুল (রহঃ) ওয়াসিলা ইবনুল আসকা, আনাস ইবনু মালিক ও আবূ হিন্দ আদ-দারী (রাঃ)-এর নিকট হাদীস শুনেছেন। আরও কথিত আছে যে, মাকহুল (রাহঃ) এই তিনজন সাহাবী ব্যতীত আর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শুনেননি। মাকহুল শামীর উপনাম আবূ আবদুল্লাহ এবং তিনি ছিলেন ক্রীতদাস, পরে তাকে দাসত্বমুক্ত করা হয়। আর বসরার অধিবাসী মাকহুল আল-আযদী (রাহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর নিকট হাদীস শুনেছেন এবং তার সূত্রে উমারা ইবনু যাযান হাদীস বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনু হুজর হতে ইসমাঈল ইবনু আইয়্যাশ-এর সূত্রে তামীম-আতিয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাকহুল' কে কোন কিছু প্রশ্ন করা হলে বেশীরভাগ সময়ই আমি তাকে বলতে শুনেছি, “আমি জানি না”। উত্তম সনদ তবে তা বিচ্ছিন্ন
হাদিস 2507 — Jami At Tirmidhi 37:93
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابٍ، عَنْ شَيْخٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏الْمُسْلِمَ إِذَا كَانَ يُخَالِطَ النَّاسَ وَيَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ خَيْرٌ مِنَ الْمُسْلِمِ الَّذِي لاَ يُخَالِطُ النَّاسَ وَلاَ يَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو مُوسَى قَالَ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ كَانَ شُعْبَةُ يَرَى أَنَّهُ ابْنُ عُمَرَ ‏.‏
। ইয়াহইয়া ইবনু ওয়াসসাব (রাহঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক বয়োজ্যেষ্ট সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম মানুষদের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের দেয়া যন্ত্রণায় ধৈর্য ধারণ করে সে এমন মুসলিমের চেয়ে উত্তম যে মানুষদের সাথে মেলামেশাও করে না এবং তাদের দেয়া যন্ত্রণায় ধৈর্যও ধরে না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪০৩২)। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আবূ আদী বলেছেন, শুবা মনে করতেন যে, উক্ত সাহাবী ইবনু উমার (রাঃ)।
হাদিস 2508 — Jami At Tirmidhi 37:94
হাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى، مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَخْرَمِيُّ، هُوَ مِنْ وَلَدِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَخْنَسِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِيَّاكُمْ وَسُوءَ ذَاتِ الْبَيْنِ فَإِنَّهَا الْحَالِقَةُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ وَمَعْنَى قَوْلِهِ ‏"‏ وَسُوءَ ذَاتِ الْبَيْنِ ‏"‏ ‏.‏ إِنَّمَا يَعْنِي الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ وَقَوْلُهُ ‏"‏ الْحَالِقَةُ ‏"‏ ‏.‏ يَقُولُ إِنَّهَا تَحْلِقُ الدِّينَ ‏.‏
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা হতে নিবৃত্ত থাকো। যেহেতু, তা দ্বীনকে মুণ্ডন (বিনাশ) করে দেয়। হাসানঃ মিশকাত তাহকীক ছানী (৫০৪১)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সহীহ, তবে এই সূত্রে গারীব। “সূআযাতিল বাইন” কথার অর্থঃ পরস্পর শক্রতা ও হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ। আর "আল-হালিকাতু" শব্দের অর্থঃ দ্বীনকে মুণ্ডনকারী (বিনাশকারী)।
হাদিস 2509 — Jami At Tirmidhi 37:95
সহিহসহিহহাসান Sahihদাঈফ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ وَالصَّلاَةِ وَالصَّدَقَةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏"‏ صَلاَحُ ذَاتِ الْبَيْنِ فَإِنَّ فَسَادَ ذَاتِ الْبَيْنِ هِيَ الْحَالِقَةُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَيُرْوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ هِيَ الْحَالِقَةُ لاَ أَقُولُ تَحْلِقُ الشَّعْرَ وَلَكِنْ تَحْلِقُ الدِّينَ ‏"‏ ‏.‏
। আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "বলেছেনঃ আমি কি তোমাদেরকে নামায, রোযা ও সাদাকাহর চেয়ে উত্তম কাজ প্রসঙ্গে অবহিত করবো না? সাহাবীগণ বলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ পরস্পর সুসম্পর্ক স্থাপন। কারণ, পরস্পর সুসম্পর্ক নষ্ট হওয়ার অর্থ হলো দ্বীন বিনাশ হওয়া। সহীহঃ গাইয়াতুল মারাম (৪১৪), মিশকাত তাহকীকু সানী (৫০৩৮)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরো বর্ণিত আছে,তিনি বলেনঃ “এটা মুণ্ডন করে দেয়। আমি বলছি না যে, তা মাথা মুড়িয়ে দেয়, বরং তা দ্বীনকে মুণ্ডন করে দেয় (বিনাশ করে)"।
হাদিস 2510 — Jami At Tirmidhi 37:96
হাসানহাসানদাঈফ
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ حَرْبِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ، أَنَّ مَوْلَى الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ الزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ دَبَّ إِلَيْكُمْ دَاءُ الأُمَمِ قَبْلَكُمُ الْحَسَدُ وَالْبَغْضَاءُ هِيَ الْحَالِقَةُ لاَ أَقُولُ تَحْلِقُ الشَّعْرَ وَلَكِنْ تَحْلِقُ الدِّينَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَفَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِمَا يُثَبِّتُ ذَاكُمْ لَكُمْ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ قَدِ اخْتَلَفُوا فِي رِوَايَتِهِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ فَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ مَوْلَى الزُّبَيْرِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنِ الزُّبَيْرِ ‏.‏
। যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের আগেকার উম্মাতদের রোগ তোমাদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। তা হলো পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা। আর এই রোগ মুণ্ডন করে দেয়। আমি বলছি না যে, চুল মুণ্ডন করে দেয়, বরং এটা দ্বীনকে মুণ্ডন (বিনাশ) করে দেয়। সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তোমরা যদি পরস্পরকে না ভালবাস তাহলে ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে বলবো না যে, পারস্পরিক ভালবাসা কোন কাজের মাধ্যমে মজবুত হয়? তোমরা পরস্পর সালামের বিস্তার ঘটাও। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (৩/১২), ইরওয়া (২৩৮), তাখরাজু মুশকিলাতিল ফাকর (২০), গাইয়াতুল মারাম (৪১৪), সহীহুল আদব (১৯৭)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর হতে বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীগণ মতবিরোধ করেছেন। তাদের অনেকে এই যুবাইরের আযাদকৃত গোলাম হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং সনদের মধ্যে যুবাইর (রাঃ)-এর নাম যুক্ত করেননি।
হাদিস 2511 — Jami At Tirmidhi 37:97
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُيَيْنَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْبَغْىِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
। আবূ বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (ন্যায়পরায়ণ শাসকের বিরুদ্ধে) বিদ্রোহ ও রক্তসম্পৰ্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার মতো মারাত্মক আর কোন পাপ নেই, আল্লাহ তা'আলা যার সাজা পৃথিবীতেও প্রদান করেন এবং আখিরাতের জন্যও অবশিষ্ট রাখেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪২১১)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 2512 — Jami At Tirmidhi 37:98
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ خَصْلَتَانِ مَنْ كَانَتَا فِيهِ كَتَبَهُ اللَّهُ شَاكِرًا صَابِرًا وَمَنْ لَمْ تَكُونَا فِيهِ لَمْ يَكْتُبْهُ اللَّهُ شَاكِرًا وَلاَ صَابِرًا مَنْ نَظَرَ فِي دِينِهِ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَهُ فَاقْتَدَى بِهِ وَنَظَرَ فِي دُنْيَاهُ إِلَى مَنْ هُوَ دُونَهُ فَحَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا فَضَّلَهُ بِهِ عَلَيْهِ كَتَبَهُ اللَّهُ شَاكِرًا صَابِرًا وَمَنْ نَظَرَ فِي دِينِهِ إِلَى مَنْ هُوَ دُونَهُ وَنَظَرَ فِي دُنْيَاهُ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَهُ فَأَسِفَ عَلَى مَا فَاتَهُ مِنْهُ لَمْ يَكْتُبْهُ اللَّهُ شَاكِرًا وَلاَ صَابِرًا ‏"‏ ‏.‏ أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ حِزَامٍ الرَّجُلُ الصَّالِحُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا الْمُثَنَّى بْنُ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَلَمْ يَذْكُرْ سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ فِي حَدِيثِهِ عَنْ أَبِيهِ ‏.‏
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যার মধ্যে দুটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, আল্লাহ তা'আলা কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীলদের মধ্যে তার নাম লিখে রাখেন। আর যার মধ্যে এ দুটি বৈশিষ্ট্য নেই, আল্লাহ তা'আলা কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীলদের দলে তার নাম লিখেন না। যে ব্যক্তি ধর্মীয় ব্যাপারে তার চাইতে উচু স্তরের লোকের দিকে দেখে এবং তার অনুসরণ করে; আর পার্থিব ব্যাপারে তার চাইতে নীচু স্তরের লোকের দিকে দেখে এবং আল্লাহ তা'আলা তাকে সে লোকের উপর যে মর্যাদা ও নি’আমাত দান করেছেন তার শুকরিয়া আদায় করে এবং আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করে, আল্লাহ তা'আলা তার নাম কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীলদের দলে লিখে রাখেন। আর যে ব্যক্তি ধর্মীয় ব্যাপারে তার চাইতে নিম্নমানের লোকের দিকে এবং পার্থিব ব্যাপারে তার চাইতে উচু স্তরের লোকের দিকে দেখে এবং তার কাছে পার্থিব সামগ্ৰী না থাকার কারণে আফসোস করে, আল্লাহ তা'আলা তার নাম কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীল বান্দাদের দলে লিখেন না। (য’ঈফ, য’ঈফাহ-হাঃ নং-৬৩৩, ১৯২৪) মূসা ইবনু হিশাম-আলী ইবনু ইসহাক হতে তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে তিনি মুসান্না ইবনুস সাব্বাহ হতে তিনি আমর ইবনু শু'আইব (রাহ.) হতে তিনি তাঁর পিতা হতে স্বীয় দাদার সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি হাসান ও গারীব। সুওয়াইদ ইবনু নাসর তার সনদসূত্রে "তার পিতা থেকে” কথাটুকু উল্লেখ করেননি।
হাদিস 2513 — Jami At Tirmidhi 37:99
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ انْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَلاَ تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ لاَ تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ‏"‏ ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ ‏.‏
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের চেয়ে কম সম্পদশালী মানুষদের প্রতি (পার্থিব ব্যাপারে) দৃষ্টি দিও, তোমাদের চেয়ে ধনশালী মানুষদের দিকে নয়। এতে করে তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার দেয়া নি’আমাতসমূহ নগণ্য মনে হবে না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪১৪২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সহীহ।
হাদিস 2514 — Jami At Tirmidhi 37:100
সহিহসহিহসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا سَيَّارٌ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ الْمَعْنَى، وَاحِدٌ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ حَنْظَلَةَ الأُسَيْدِيِّ، وَكَانَ، مِنْ كُتَّابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ مَرَّ بِأَبِي بَكْرٍ وَهُوَ يَبْكِي فَقَالَ مَا لَكَ يَا حَنْظَلَةُ قَالَ نَافَقَ حَنْظَلَةُ يَا أَبَا بَكْرٍ نَكُونُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُذَكِّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ كَأَنَّا رَأْىَ عَيْنٍ فَإِذَا رَجَعْنَا إِلَى الأَزْوَاجِ وَالضَّيْعَةِ نَسِينَا كَثِيرًا ‏.‏ قَالَ فَوَاللَّهِ إِنَّا لَكَذَلِكَ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَانْطَلَقْنَا فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَا لَكَ يَا حَنْظَلَةُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَافَقَ حَنْظَلَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَكُونُ عِنْدَكَ تُذَكِّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ كَأَنَّا رَأْىَ عَيْنٍ فَإِذَا رَجَعْنَا عَافَسْنَا الأَزْوَاجَ وَالضَّيْعَةَ وَنَسِينَا كَثِيرًا ‏.‏ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَوْ تَدُومُونَ عَلَى الْحَالِ الَّذِي تَقُومُونَ بِهَا مِنْ عِنْدِي لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلاَئِكَةُ فِي مَجَالِسِكُمْ وَفِي طُرُقِكُمْ وَعَلَى فُرُشِكُمْ وَلَكِنْ يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً وَسَاعَةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
। হানযালা আল-উসাইদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সচিবগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি কোন একদিন কাঁদতে কাদতে আবূ বাকর (রাঃ)-এর সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) তাকে প্রশ্ন করেন, হে হানযালা! তোমার কি হয়েছে? তিনি বললেন, হে আবূ বাকর! হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মাজলিসে অবস্থান করি এবং তিনি আমাদেরকে জান্নাত-জাহান্নামের স্মরণে নাসীহাত করেন, তখন মনে হয় যেন আমরা সেগুলো স্বচক্ষে দেখছি। কিন্তু বাড়ী ফিরে আসার পর স্ত্রী-পুত্র-পরিজন ও বিষয়-সম্পদের কাজে ব্যাকুল হয়ে পড়ি এবং অনেক কিছুই ভুলে যাই। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদেরও তো এই অবস্থা। চলো আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাই। তারপর আমরা সেদিকে যাত্রা শুরু করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে প্রশ্ন করেন, হে হানযালা! কি সংবাদ? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! হানযালা তো মুনাফিক্ হয়ে গেছে।আমরা যখন আপনার নিকটে থাকি আর আপনি প্রত্যক্ষভাবে দেখছি। পরে যখন বাড়ী ফিরে গিয়ে স্ত্রী-পুত্র-পরিজন ও বিষয় সম্পদের কাজে ব্যাকুল হয়ে পড়ি তখন অনেক কিছুই ভুলে যাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমার নিকট হতে যে অবস্থায় ফিরে যাও, যদি সবসময় এই অবস্থায় থাকতে তাহলে অবশ্যই তোমাদের বৈঠকে, বিছানায় এবং পথে-ঘাটে ফেরেশতারা তোমাদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করতো। হে হানযালা! সেই অবস্থা মাঝে মধ্যে হয়ে থাকে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪২৩৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।