। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে পরকাল, আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তির অন্তরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন এবং তার যাবতীয় বিচ্ছিন্ন কাজ একত্রিত করে সুসংযত করে দিবেন, তখন তার নিকট দুনিয়াটা নগণ্য হয়ে দেখা দিবে। আর যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে দুনিয়া, আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তির গরীবি ও অভাব-অনটন দুচোখের সামনে লাগিয়ে রাখবেন এবং তার কাজগুলো এলোমেলো ও ছিন্নভিন্ন করে দিবেন। তার জন্য যা নির্দিষ্ট রয়েছে, দুনিয়াতে সে এর চাইতে বেশি পাবে না। সহীহঃ সহীহা (৯৪৯-৯৫০)।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদাতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা কর, আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যে পূর্ণ করে দিব এবং তোমার অভাব দূর করে দিব। তুমি তা না করলে আমি তোমার দুইহাত কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করে দিব এবং তোমার অভাব-অনটন রহিত করবো না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪১০৭)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ খালিদ আল-ওয়ালিবীর নাম হুরমুয।
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর সময় আমাদের ঘরে সামান্য কিছু যব ছিল। আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছানুযায়ী আমরা তা হতে খেতে থাকলাম। আমি একদিন দাসীকে বললাম, এগুলো কৌটা দ্বারা পরিমাপ কর। সে তা পরিমাপ করল। এরপর কিছু দিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে গেল। তিনি [আয়িশাহ (রাঃ)] বলেন, আমরা এগুলো এমনি রেখে দিলে (যদি না পরিমাপ করতাম) আরো অধিক দিন খেতে পারতাম। সহীহঃ বুখারী (৬৪৫১), মুসলিম (৮/২১৮) সংক্ষেপিত। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সহীহ। শতরুন শব্দের অর্থ ‘সামান্য কিছু।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের ঘরের দরজায় একটি পাতলা রঙিন পর্দা ঝুলানো ছিল, এতে কিছু ছবি ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেনঃ এটা খুলে নামিয়ে ফেলো। যেহেতু, এটা আমাকে দুনিয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি আয়িশাহ (রাঃ) আরো বলেন, আমাদের নিকট একটি রেশমী বুটিদার চাদর ছিল, আমরা তা পরিধান করতাম। সহীহঃ গাইয়াতুল মারাম (১৩৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরক্ত সূত্রে গারীব।
হাদিস 2469 — Jami At Tirmidhi 37:55
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ وِسَادَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّتِي يَضْطَجِعُ عَلَيْهَا مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘুমানোর বালিশটি ছিল চামড়ার তৈরী এবং তার ভিতর ছিল খেজুর গাছের ছাল-বাকলে ভরা। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (২৮২), বুখারী, মুসলিম। আবূ সূসা বলেনঃ এ হাদীসটি সহীহ।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একদিন সাহাবীগণ একটি ছাগল যবেহ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেন, এর আর কি বাকী আছে? তিনি (আয়িশাহ) বললেন, এর কাধের অংশ ছাড়া আর কিছু বাকী নেই (দান করা হয়েছে)। তিনি বললেন, কাঁধ ব্যতীত সবটুকুই অবশিষ্ট রয়েছে (যা কিছু দান করা হয়েছে তা-ই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট বাকী রয়েছে)। সহীহঃ সহীহা (২৫৪৪)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সহীহ। আবূ মাইসারার নাম আমর ইবনু শুরাহবিল আল-হামদানী।
। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের সদস্যগণ সারামাস যাবত এমন অবস্থায়ও কাটিয়েছি যে, চুলায় আগুন ধরাইনি। আমাদের খাবারের জন্য পানি ও খেজুর ব্যতীত আর কিছুই থাকতো না। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (১১১), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে আল্লাহর পথে যেভাবে ভয় দেখানো হয়েছে, আর কাউকে ঐভাবে ভয় দেখানো হয়নি। আমাকে আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশ্যে যেভাবে যন্ত্রণা দেয়া হয়েছে আর কোন ব্যক্তিকে সেইভাবে যন্ত্রণা প্রদান করা হয়নি। আমার উপর দিয়ে ত্রিশটি দিবারাত্রি এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে যে, বিলালের বগলের মধ্যে রক্ষিত সামান্য খাদ্য ছিল আমার ও বিলালের সম্বল। তা ছাড়া এতটুকু আহারও ছিল না যা কোন প্রাণধারী প্রাণী খেয়ে বাঁচতে পারে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৫১)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীসের অর্থ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে নিয়ে যখন মক্কা হতে (তায়িফে) পলায়ন করেছিলেন, তখন বিলাল (রাঃ) তার বগলের নিচে দাবিয়ে নিতে পারে এতটুকু খাবার সাথে বহন করে নিয়েছিলেন। তারা এই খাবার খেয়ে দীর্ঘ একমাস অতিবাহিত করেন।
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) বলেন, আমি এক শীতের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘর হতে বের হলাম। এর পূর্বে আমি একটি লোমহীন চামড়া নিয়ে তা মাঝামাঝি কেটে গলায় ঢুকালাম এবং খেজুরের পাতা দিয়ে কোমরে শক্ত করে বাঁধলাম। আমি তখন খুব বেশী ক্ষুধার্ত ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে কোন খাদ্যসামগ্রী থাকলে তা অবশ্য খেয়ে ফেলতাম। আমি খাদ্যের খোজে বের হয়ে গেলাম। তারপর জনৈক ইয়াহুদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, সে তার বাগানে (কপিকল জাতীয়) চরকির সাহায্যে কুয়া হতে পানি তুলছিল। আমি প্রাচীরের একটি ছিদ্র দিয়ে তাকে দেখলাম। সে প্রশ্ন করল, হে বেদুঈন! কি চাও? তুমি প্রতি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুর পাবে, আমার বাগানের পানি তুলে দিবে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ, দরজা খোল, আমি ভেতরে আসি। সে দরজা খুললে আমি ভেতরে গেলাম। তারপর সে একটি বালতি এনে দিল। আমি বালতি ভরে পানি উঠাতে লাগলাম আর সে প্রতি বালতিতে একটি করে খেজুর দিতে লাগল। অবশেষে খেজুরে আমার হাতের মুঠি ভরে গেল। আমি তখন বালতি রেখে দিয়ে বললাম, আমার যথেষ্ট হয়েছে। আমি খেজুরগুলো খেয়ে পানি পান করলাম এবং মসজিদে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেখানে পেলাম। যঈফ,তালীকুর রাগীব (৩/১০৯,১১০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একবার তাদেরকে দুর্ভিক্ষে পেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে একটি করে খেজুর দেন। শাজ, ইবনু মাজাহ (৪১৫৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।