। আল-বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'টি সামরিক বাহিনী প্রেরণ করলেন এবং একদলের সেনাপতি বানালেন আলী (রাঃ)-কে এবং অপর দলের অধিনায়ক বানালেন খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)-কে। তিনি আরো বলেনঃ যখন যুদ্ধ শুরু হবে তখন আলী হবে (সমগ্র বাহিনীর) প্রধান সেনাপতি। রাবী বলেন, আলী (রাঃ) একটি দুর্গ জয় করেন এবং সেখান হতে একটি যুদ্ধবন্দিনী নিয়ে নেন। এ প্রসঙ্গে খালিদ (রাঃ) এক চিঠি লিখে আমার মাধ্যমে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে পাঠান যাতে তিনি আলী (রাঃ)-এর দোষ চর্চা করেন। রাবী বলেন, আমি চিঠি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হাযির হলাম। তিনি চিঠি পড়ার পর তার (মুখমণ্ডলের) রং বিবর্ণ হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেনঃ তুমি এমন লোক প্রসঙ্গে কি ভাবো যে আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলও যাকে ভালোবাসেন? রাবী বলেন, তখন আমি বললাম, আমি আল্লাহ্ তা'আলার অসন্তোষ ও তার রাসূলের অসন্তোষ হতে আল্লাহ তা'আলার আশ্রয় চাই। আমি একজন বার্তাবাহক মাত্র। (এ কথায়) তিনি নীরব হন। সনদ দুর্বল। ১৬৮৭ নং হাদীসে পূর্বেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ তাইফ অভিযানের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে নিকটে ডেকে তার সাথে চুপিচুপি কথাবার্তা বললেন। জনসাধারণ বলল, তিনি তার চাচাত ভাইয়ের সাথে দীর্ঘক্ষণ চুপিসারে কথাবার্তা বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তার সাথে চুপিসারে কথা বলিনি, বরং আল্লাহ্ তা'আলাই তার সাথে চুপিসারে কথা বলেছেন। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৮), যঈফা (৩০৮৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আল-আজলাহ-এর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি। ইবনুল ফুযাইল ব্যতীত অন্য রাবীও আল-আজলাহ হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। "আল্লাহ্ তা'আলাই চুপিসারে তার সাথে কথা বলেছেন” বাক্যের মর্মার্থ এই যে, তার সাথে চুপিসারে কথা বলার জন্য আল্লাহ তা'আলাই আমাকে হুকুম করেছেন।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ হে আলী! তুমি ও আমি ছাড়া আর কারো জন্য এ মসজিদে নাপাক হওয়া বৈধ নয়। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৯) যঈফা (৪৯৭৩) আলী ইবনুল মুনযির বলেন, আমি যিরার ইবনু সুরাদকে প্রশ্ন করলাম, এ হাদীসের মর্মার্থ কি? তিনি বলেন, তুমি ও আমি ছাড়া নাপাক অবস্থায় এ মসজিদের মধ্য দিয়ে হাটাচলা করা অন্য কারো জন্য জায়িজ নয়। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আলোচিত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (ইমাম বুখারী) এ হাদীস আমার নিকট শুনেছেন এবং তিনি এটিকে গারীব বলে মত দিয়েছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাবুওয়াত পেয়েছেন সোমবার এবং আলী (রাঃ) নামায আদায় করেন মঙ্গলবার। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু মুসলিম আল-আওয়ারের সূত্রেই এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। আর মুসলিম আল-আওয়ার হাদীসবিশেষজ্ঞদের মতে তেমন মজবুত রাবী নন। উক্ত হাদীস মুসলিম হতে, তিনি হাববাহ হতে, তিনি আলী (রাঃ) হতে এ সূত্রেও একই রকম বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ دِينَارٍ الْكُوفِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعَلِيٍّ " أَنْتَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلاَّ أَنَّهُ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي " .هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَيُسْتَغْرَبُ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ .
। সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আমার নিকট তুমি মর্যাদায় মূসা (আঃ)-এর ক্ষেত্রে হারূন স্থানীয়। তবে আমার পরে নবী নেই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১২১), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ! এ হাদীস সাদ (রাযিঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসকে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারীর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব বলা হয়েছে।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) আলী (রাযিঃ)-এর দ্বার ছাড়া সকল দ্বার বন্ধ করে দেয়ার হুকুম দিয়েছেন। সহীহঃ যঈফাহ (৪৯৩২, ৪৯৫১) নং হাদীসের অধীনে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র শুবাহ হতে উক্ত সনদে এভাবেই জানতে পেরেছি।
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের হাত ধরে বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে এবং এ দু’জন ও তাদের পিতা-মাতাকে ভালোবাসে, সে কিয়ামতের দিন আমার সাথে একই মর্যাদায় থাকবে। যঈফ, যঈফা (৩১২২), তাখরীজুল মুখতারাহ (৩৯২-৩৯৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা জাফর ইবনু মুহাম্মাদ হতে শুধুমাত্র এই সূত্রেই হাদীসটি জেনেছি।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, (ইসলাম গ্রহণ করে) আলী (রাযিঃ)-ই সর্বপ্রথম নামায আদায় করেন। সহীহঃ যঈফাহ (৪৯৩২) নং হাদীসের অধীনে, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র শুবাহ হতে, আবূ বালজের সনদে বর্ণিত মুহাম্মাদ ইবনু হুমাইদের হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে এটি অবগত হয়েছি। আবূ বালজেব নাম ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইম। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, কে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন? কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন, আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আর কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আলী (রাযিঃ) সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম বলেন, বয়স্ক পুরুষদের মাঝে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন আবূ বাকর আস-সিদ্দীক (রাযিঃ)। আলী (রাযিঃ) আট বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। আর মহিলাদের মাঝে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন উম্মুল মু'মিনীন খাদীজাহ্ (রাযিঃ)।